করোনাকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের চলতে হবে

সুমন দত্ত

বাংলাদেশে একটা বিশাল শ্রেণি আছে যারা সরকারের সব সিদ্ধান্তকেই ভুল ভাবে। কেন ভাবে? সেটা তারাই বলতে পারে। আমি ওই দলভুক্ত নই। সরকারের সমালোচনা আমিও করি। তাই বলে সব সিদ্ধান্তের সমালোচনা আমার পক্ষে করা যায় না। বিবেকে বাধে। এই যে সরকার লকডাউন শিথিল করল। তাতে সরকারের চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করে ফেলছে কেউ কেউ। এতটা প্রতিক্রিয়া দেখনো উচিত কি না। তাদেরকে একবার ভাবতে বলবো। যে লোকটা একটা দোকান দিয়ে সংসার চালাতো তার সেই প্রতিষ্ঠানটা বন্ধ করে দিলে তিনি সংসার চালাবেন কি করে? এটা বুঝতে হবে।

আজ প্রায় ২ মাস হলো ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলার সবকিছু বন্ধ রয়েছে। এতে দেশের চরম ক্ষতি হচ্ছে। এই ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে উঠবে তা কেউ জানে না। এমন এক পরিস্থিতিতে সরকার যদি নিয়ম কানুনে কিছুটা শিথিলতা আনে তাতে সমস্যা কি? করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ভয় হয়ত আছে। তাতে কি? এই ভাইরাস সহজে যাবার নয়। তাই বলে কি সরকার আজীবন দেশ বন্ধ করে সবাইকে ঘরে বসিয়ে রাখবে? এটা কি সম্ভব। যেই ডাক্তাররা আজ পালিয়ে বেড়াচ্ছে, তারা কি আজীবন ডাক্তারি পেশা থেকে দূরে থাকবে? তাদেরকেও এক সময় নিজ পেশাতে ফেরত আসতে হবে। টিকা আবিষ্কার হলেও করোনা ভাইরাস থাকবে। কারণ করোনা চলে যাওয়ার পরও অনেকে আবার করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বা হচ্ছেন। একটা টিকা আপনাকে আজীবন সুরক্ষা দেবে না। এটা একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সুরক্ষা দেবে। বাংলাদেশে করোনায় মৃত্যু হচ্ছে ১ পারসেন্ট, আর সুস্থ হচ্ছে ১৮ পারসেন্ট। আক্রান্ত হচ্ছে ১০ থেকে ১৪ পারসেন্ট। এই অবস্থায় পুরো দেশ বন্ধ রাখাটা কি যৌক্তিক? আমার মতে কখনই না।

এতদিন বন্ধ ছিল। তাহলে লোকজন আক্রান্ত হচ্ছে কীভাবে? হয়ত বলবেন লোকজন ঘরে থাকছে না। তাই আক্রান্ত হচ্ছে। তাহলে প্রশ্ন থাকে যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তারা কি বাইরের বের হওয়ার কারণে হচ্ছেন? না ঘরে থেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন? গত ২ মাস দেশের অধিকাংশ লোক ঘরে বন্দি ছিল। এই বন্দি থাকা অবস্থায় লোকজন আক্রান্ত হোন কীভাবে? সবার বাসাতে কি বিদেশ ফেরত লোক ছিল? আসলে করোনা ভাইরাস কমিউনিটিতে কীভাবে ছড়াচ্ছে তার কোনো গবেষণা নেই। যে কারণে কীভাবে ছড়াচ্ছে তা জানা যাচ্ছে না। সুরক্ষিত জায়গায় করোনা হানা দিচ্ছে অথচ অ-সুরক্ষিত জায়গায় থাকা মানুষজন দিব্যি বেঁচে রয়েছে। এটা কীভাবে সম্ভব? করোনা হলে দেহের ভিতর থাকা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভাইরাসটিকে ধ্বংস করে দেবে। এজন্য সকাল বিকাল পুষ্টিকর খাবার খেলেই হলো। ওষুধ ছাড়াই করোনা ভালো হচ্ছে। আর ওষুধ দিলে আরো দ্রুত সুস্থ হচ্ছে মানুষ। তাই করোনাকে ভয় নয়। একে অন্যসব রোগের মতো স্বাভাবিক ভাবুন। মাথা ঠাণ্ডা রেখে একে মোকাবিলা করুন। সরকার এই ম্যাসেজটাই সকলকে দিতে চাচ্ছে। মুখে মাস্ক পড়ি। আর ঘরে ঢোকার আগে সাবান দিয়ে হাত মুখ পরিষ্কার করি। এভাবে আমরা থাকবো করোনা মুক্ত।