একটি খালের অভাবে ভঙ্গুর অর্থনীতির মেরুদণ্ড, শঙ্কায় প্রহর কাটাচ্ছে ভোলার ঢালচরের জেলেরা

বিশেষ প্রতিনিধি

“আমরা বঙ্গপসাগর থেইক্কা মাছ ধরি জীবন বাজি রাখি দ্যাশের মাইনসশেরে ইলিশ মাছ খাবাই,আংগোরে দিয়া সরকার লাখ টেয়া ইনকাম করে, যদি সরকার আংগোরে লাইজ্ঞা খাল করি না দেয়,তাইলে নদীর দলায় আংগো নৌকা ভাংগি যাইবো,আমরা তো না খাই মরুম,পিলিজ স্যার আংগো এককান খাল চাই” – এভাবেই নিজের আকুতি প্রকাশ করছিলেন দেশের এক তৃতীয়াংশ ইলিশ উৎপাদনকারী ভোলা জেলার ঢালচরের কামাল মাঝি।

ইলিশের মৎস্য ঘাট প্রসিদ্ধ ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানার মৎস্য আহরণের প্রাণ কেন্দ্র ঢালচরে খালের অভাবে মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলারগুলো সংরক্ষণে রাখতে পারছে না জেলেরা।এলাকা ঘুড়ে জানা গেছে, খালের অভাবে নদী ও সাগরে নৌকা সংরক্ষণ করায় এ পর্যন্ত অনেক নৌকা ও জেলেদের ভাসিয়ে নিয়ে গেছে উত্তাল মেঘনা ও বঙ্গপোসাগরের স্রোতে।

ভিন্ন সূত্র ধরে জানা যায়, ইলিশ মৌসুম শুরুর আগেই বরিশাল, ভোলা,দৌলতখাঁন, নুরাবাদ, সামরাজ, বেতুয়ার মালিকানাধীন ট্রলার খালে এসে অবস্থান করত। বর্তমানে ঢালচরের মাঝের চর খালটি খনন করলে মাছ ধরার সকল প্রকার ট্রলার, বোট সাগর থেকে এসে খালে আশ্রয় নিতে পারবে। যার ফলে ঘুরে দাড়াতে পারে ঢালচরের এবং একইসাথে দেশের মৎস্য অর্থনীতির চাঁকা।

জানা যায়, স্থাণীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা রপ্তানী করে জীবিকা নির্বাহ করছে ঢালচরের ১৭ হাজার ৫ শত পরিবার।

এ বিষয়ে ঢালচরের চেয়ারম্যান আবদুস সালাস হাওলাদার জানান, নদী ভাঙ্গনের ফলে ঢালচরের অর্ধেকের বেশী এলাকা জুড়ে নদী গর্ভে বিলীন হয় । ফলে খাল গুলোও নদীতে পরিনত হয়েছে।ঐ এলাকায় কোন খাল না থাকায় জেলেরা দূর্যোগ কালীন সময়ে কোথায়ও আশ্রয় নেয়ার সুযোগ নেই। এ কারনে জেলেদের মধ্যে দেখা দিয়েছে জীবন ও ট্রলারহানীর আশংকা।

খাল খননের দাবি জানিযে সাহাবুদ্দীন মাঝি বলেন, আমরা গরীব মানুষ মাছ দরি প্যাট চালাই। আংগোরে সরকার চাইর মাছ চাউল খাওয়ায়, অহন আংগোরে এককাল খাল করি দিলে,শেখা হাসিনা সরকারের কাছে আংগো আর কোনো চাওয়া নাই।

অন্যদিকে, মৎস্য ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম বলেন,আমরা সরকারের নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে মাছ ব্যবসা করি,সরকার যদি একটা খাল খননের মাধ্যমে আমাদের প্রতি সুনজর দেন,তাহলে আগামীতে আমরা প্রচুর ইলিশ রপ্তানি করতে পারব।

অপর মৎস্য ব্যবসায়ী এলাহি মেম্বার বলেন, আমরা ভোলা জেলা জেলার দুই তৃতীয়াংশ ইলিশ রপ্তানি করে থাকি, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সরকার যেন আমাদের একটা খাল উপহার দেন, সেই জোর দাবি সরকারের প্রতি।

খাল ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে নৌকা ও ট্রলার সংক্ষণের অভাবে চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে মৎস্য উৎপাদন। এতে বেকার হয়ে পরেছে ওই এলাকার কয়েক হাজার পেশাদার জেলে পরিবার।

এমতাবস্থায়, ঢালচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ একটি সচেতন মহল মাঝিদের মাছ ধারা নৌকা সংরক্ষনের জন্য একটি খাল খননের উদ্যোগ গ্রহণ করে। পরবর্তিতে এখানকার জেলেরা চাঁদা সংগ্রহ করে নিজেরাই পরিশ্রম করে একটি খাল খননের কাজ শুরু করে। কিন্তু এতে বাঁধা দেয় বন বিভাগ এবং কিছু সংখ্যক জেলের নামে মামলা দায়ের করে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে জনপ্রতিনিধিদের দাবির প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের নিদের্শে সারেজমিনে তদন্ত করতে আসেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন মাহমুদ।

এসময় ঢালচরবাসীর পক্ষে খাল খননের জন্য যৌক্তিক দাবি তুলে ধরেন এলাকার বাসিন্দা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক এবং ঢাবি শিক্ষার্থী মোঃ রবিউল আলম।

রবিউল আলম বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ঢালচরের একটি খাল খননের জন্য ৪৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়,কিন্তু পরিতাপের দূর্বল নেতৃত্ব এবং বন কর্মকর্তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে বরাদ্দটি বাতিল হয়ে যায়। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রনেতা এবং স্থানীয় ছেলে হিসেবে আমার এলাকার জেলে সম্প্রদায় এবং মাছ ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই বর্ষা মৌসুমের আগেই ঢালচরের গরীব জেলে সম্প্রদায়ের কথা চিন্তা করে একটা খাল করার অনুমতি দেওয়া হোক৷