ভোলায় নদী ভাঙনে বসতবাড়ি বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ঢাবি শিক্ষার্থীর খোলা চিঠি

ওবায়দুর রহমান সোহান,ঢাবি প্রতিনিধি:  ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর ইউনিয়নের নদীভাঙ্গন কবলিত অসহায় মানুষদের জন্য তারুয়ায় বন বিভাগের আওতায় ফাঁকা পরিত্যক্ত জমিগুলো বন্দোবস্ত করার আহ্বান জানিয়ে ঢালচরবাসীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর খোলা চিঠি লিখেছেন ওই এলাকার বাসিন্দা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোঃ রবিউল আলম।

পাঠকদের জন্য চিঠিটি হুবহু তুলে ধরা হল।

”মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আসসালামু আলাইকুম। হে প্রিয় দেশরত্ন, আমাদের ঢালচর ইউনিয়নটি দীর্ঘ এক যুগ ধরে মেঘনার প্রবল ভাঙনে প্রায় বিলীনের পথে। ঢালচরে শতকরা ৮০শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। প্রবল নদী ভাঙ্গনের কারণে আমরা ঢালচরের মানুষগুলো প্রায় ৭-৮ বার করে বসতভিটা পরিবর্তন করে মেঘনার গ্রাস থেকে রক্ষা পাইনি। ভিটেবাড়ি সব হারিয়ে আমরা এখন চরম অসহায় মানবেতর জীবনযাপন করছি। এমতাবস্থায় তারুয়ায় বন বিভাগের আওতায় হাজার হাজার একর ফাঁকা পরিত্যক্ত জমি কোন কারণ ছাড়াই পড়ে আছে। আমরা নদী ভাঙ্গন কবলিত ঘরবাড়ি হারানো অসহায় মানুষগুলো আমাদের জরাজীর্ণ ঘরগুলো তারুয়ার ঐ খাস জমিতে তুলি। কিন্তু প্রিয় নেত্রী, নিদারুণ অসহায়ত্তের সাথে আপনাকে জানাচ্ছি, আজ আমাদের ঢালচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম হাওলাদার জেলা প্রশাসকের চাপের কারণ দেখিয়ে আমরা তারুয়ায় ঢালচরের নদী ভাঙ্গন কবলিত অসহায় মানুষগুলো যে জরাজীর্ণ ঘরগুলো তুলেছি তা ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলেছেন।

প্রিয় আপা, গত এক বছর পূর্বে বিভাগীয় কমিশনার মহোদয় ও ভোলা জেলা প্রশাসক নিজে সপরিবারে তারুয়া সমুদ্র সৈকতে এসেছিলেন। তখন তারা আমাদের এই নদী ভাঙ্গন কবলিত অসহায় মানুষগুলোকে তারুয়ায় বনবিভাগের আওতায় ফাঁকা পরিত্যক্ত এই জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার জন্য আশ্বস্ত করেছিলেন। আমরা নিরুপায় হয়ে এই খাস জমিতে ঘর তুলেছি। প্রিয় মানবতার মা, এখন আমাদের এই ঘরগুলো চেয়ারম্যান ভেঙে দিলে আমরা কোথায় যাবো কোথায় থাকবো, সাথে করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে আমরা ঢালচরের বাহিরে কোথাও যেতে পারছিনা।

হে বিশ্বনেত্রী, আপনি জানেন ঢালচরের ৯৫% মানুষ প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে মৎস্য ব্যবসার সাথে জড়িত। ইলিশ আহরনে নিষেধাজ্ঞা চলার কারণে আমাদের ঢালচরের প্রায় সকল মানুষের আয় রোজগার বন্ধ। আমরা এখন চরম মানবেতর জীবন পার করছি।

অতএব, প্রিয় নেত্রী আপনার নিকট আমাদের আকুল আবেদন তারুয়ার বনবিভাগের আওতায় থাকা ফাঁকা পরিত্যক্ত এই জমি আমাদের ঢালচরের নদী ভাঙ্গন কবলিত অসহায় মানুষগুলোকে বন্দোবস্ত দিতে আপনার একান্ত মর্জি কামনা করছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোঃ রবিউল আলম বলেন, আমি আমার জন্মভূমি ঢালচরের গরীব অসহায়, খাটে খাওয়া দারিদ্র, কৃষক, জেলে দিনমজুর মানুষের অধিকার আদায়ে, আমি সর্বদা তাদের পাশে অতীতের ন্যায় আছি এবং থাকবো, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে এটা আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।