কুমিল্লা মেডিক্যালে করোনাভাইরাস শনাক্তের কার্যক্রম শুরু

নিউজ ডেস্ক:   করোনাভাইরাস শনাক্তে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের (কুমেক) মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে ল্যাব উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) নমুনা সংগ্রহ এবং আনুষ্ঠানিকতা শেষে বুধবার (২৯ এপ্রিল) থেকে করোনাভাইরাস শনাক্তের কার্যক্রম শুরু করা হবে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) কুমেকের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে এই ল্যাবের উদ্বোধন করেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার।

কুমেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোস্তফা কামাল আজাদ জানান, ‘উদ্বোধন শেষে স্থানীয় সংসদ সদস্য, হাসপাতালের ডাক্তার, প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ আমরা মিটিং করেছি। চিকিৎসকদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পিপিই মজুদ রয়েছে। তবে আমাদের এন-৯৫ মাস্ক, গ্লাভস, চশমার কিছু সংকট রয়েছে। এগুলোর সমাধান নিয়ে মিটিংয়ে কথা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য এসব সরঞ্জামের দায়িত্ব নিয়েছেন। এগুলো নিশ্চিত হলে চিকিৎসকদের সুরক্ষার বিষয়ে আর ভাবতে হবে না।’

অধ্যাপক ডা. মোস্তফা কামাল আজাদ আরও জানান, ‘পরীক্ষাগারে দুই শিফটে নমুনা পরীক্ষা করা হবে। প্রতি শিফটে ৯০ থেকে ৯৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব। জেলা সিভিল সার্জনের তত্ত্বাবধানে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে, সিটি মেয়রের তত্ত্ব¡াবধানে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্যকর্মীরা এবং প্রতি উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে সংগৃহীত নমুনা এই কুমেকের ল্যাবে পাঠাবেন। সেইগুলো আমরা পরীক্ষা করে নমুনার ফলাফল ঢাকা রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইডিসিআর) পাঠাবো। সেখান থেকে আইডিসিআর রিপোর্ট প্রকাশ করবে।’

কুমেকে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে করোনাভাইরাস পরীক্ষা ল্যাবের উদ্বোধনের পর কুমিল্লার সদর আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার বলেন, ‘২৯ এপ্রিল থেকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের করোনা পরীক্ষা করানো হবে। আমরা চাই কুমিল্লার সর্বস্তরের মানুষ এই সুযোগ সুবিধা পান, কেউ এই সেবা থেকে বঞ্চিত না হন। নমুনা সংগ্রহসহ চিকিৎসা কাজে চিকিৎসদের কিছু সুরক্ষা সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে। কাল পরশুর মধ্যে এর সমাধান করবো যাতে চিকিৎসা কাজে সমস্যা সৃষ্টি না হয়।’

ল্যাব উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর, পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম এবং মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুজিবুর রহমান জানান, ৫০০ শয্যার হাসপাতালটিকে ডেডিকেটেড কোভিট-১৯ হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এই হাসপাতালে সব ধরণের চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সামান্য কিছু অবকাঠামোগত কাজ যেমন, সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাই সিস্টেম এর আপ গ্রেডেশানসহ আইসিইউ এর কিছু যন্ত্রপাতি স্থাপন সাপেক্ষে সাত থেকে ১০দিনের মধ্যে এটির কার্যক্রম চালু করা যাবে। জনসাধারণের অবাধ যাতায়ত নিয়ন্ত্রণ করতে হাসপাতালের সব কটি গেট বন্ধ করে দিয়ে মাত্র একটি গেট রাখা হবে।