যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনে করোনায় বেশি মৃত্যু হয়েছে: ট্রাম্প

নিউজ ডেস্ক:    করোনাভাইরাসের সংক্রমণে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিসংখ্যান মানতে নারাজ। দু’দিন আগেই চীন উহানে মৃতের সংখ্যায় তাদের ভুল সংশোধন করেছে। শনিবার বিষয়টি উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেছেন, চীনে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় ১৯ এপ্রিল রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশটিতে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে সাত লাখ ৩৫ হাজার ২৮৭ জন। এরমধ্যে ৩৯ হাজার ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর সংশোধনের পর চীনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬৩৬ জনে।

শনিবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘মৃত্যুর সংখ্যার বিচারে আমরা এক নম্বর নই। চীনে আমাদের চেয়ে অনেক বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন। সত্যিটা কী আপনারা জানেন, আমিও জানি। কিন্তু আপনারা সে কথা লিখতে চাইছেন না।’

একইসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘করোনা মহামারি শুরু হওয়ার আগেই থামিয়ে দেওয়া যেতে পারতো। কিন্তু তা থামানো হয়নি। এখন সারা পৃথিবী তার জন্য ভুগছে’। হুমকির সুরে তিনি বলেন, “চীন যদি ‘সবকিছু জেনেশুনে এই মহামারির জন্য দায়ী হয়’ তবে তারা ফল ভোগ করবে”।

পরে তিনি আরও পরিষ্কার করে বলেন, “করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে ভুল পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে পারে। অথবা তারা ইচ্ছাপূর্বক এটা করে থাকতে পারে। যদি তারা জেনেশুনে এই কাজ করে থাকে, তবে তার ফল ভোগ করবে।”

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেরি হওয়ার জন্য চীনকে দোষ দিচ্ছেন ট্রাম্প। তার কথায়, “চীন আমাদের আগে থেকে জানাতে পারতো। কিন্তু জানায়নি। আমার মনে হয় তারা জানতো খারাপ কিছু ঘটছে। কিন্তু সে কথা প্রকাশ করতে তারা অস্বস্তিতে পড়েছিল।”

ট্রাম্প জানান, কীভাবে করোনাভাইরাসের অতিমহামারি শুরু হলো, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র গবেষণা করছে। তিনি বলেন, “চীন বলছে তারা তদন্ত করছে। দেখা যাক তারা তদন্ত করে কী পায়। কিন্তু আমরাও আমাদের মতো করে তদন্ত করছি।”

এর আগেই যুক্তরাষ্ট্র জানায়, সম্ভবত উহানের গবেষণাগারে বাদুড় নিয়ে গবেষণা হচ্ছিল। তখনই দুর্ঘটনাবশত করোনাভাইরাস বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। অবশ্য চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই দাবি অস্বীকার করেছে।