বিধবা ও বয়স্ক ভাতা বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন ব্যাংক ম্যানেজার তুহিন 

মো. নজরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ :   করোনার করুণ পরিস্থিতিতে গাড়ি বন্ধ, বৃদ্ধা মানুষ হেঁটেও যেতে পারছিনা, অর্থ কষ্টে কয়েকদিন যাবত দিনাতিপাত করছি, এমনি মুহুর্তে হটাৎ ফুলপুর সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার তুহিন স্যার বাড়িতে এসে বললো, চাচী আপনার আর কষ্ট করে ব্যাংকে যেতে হবে না, আপনার ভাতা আমরা নিয়ে এসেছি তা গ্রহন করুণ।’ একথাগুলো বলেছেন ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা রহিমগঞ্জ ইউনিয়নের পিটুরী গ্রামের মৃত আহমদ আলীর বিধবা জহুরা খাতুন (৭০)। নিজ বাড়িতে ভাতার টাকা পেয়ে বিধবা আবেগে কেঁদে ফেলেন। দুহাত তুলে আল্লাহর কাছে গরীব অসহায় মানুষের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ম্যানেজার তুহিনের জন্য দোয়া করেন, আল্লাহ পাক যাতে তাদের সুস্থ্য ও দীর্ঘায়ু করেন। জহুরা খাতুনের মতো অধিকাংশ উপকারভোগী প্রায় এমনই প্রতিক্রিয়া জানান।

করোনার প্রভাবে সারাদেশের মতো ময়মনসিংহের ফুলপুরবাসীও গৃহবন্ধী হয়ে পড়েছেন। বন্ধ হয়ে গেছে সব রকমের যানবাহন চলাচল। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের উপকারভোগীরা সরাসরি ব্যাংকে এসে বয়স্ক ও বিধবা ভাতার টাকা উত্তোলন করতেও পারছেন না। আবার ব্যাংকে এসে ভীড় করলেও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের ব্যাঘাত ঘটবে।

সোনালি ব্যাংক লিঃ ফুলপুরের ম্যানেজার মোস্তফা মোঃ খায়রুল আলম (তুহিন ) জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৩১দফা নির্দেশনা পেয়ে সরকারি সুবিধাদি উপকারভোগীদের ঘরে ঘেরে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ব্যাংকের স্টাফদের সাথে আলোচনা করি। করোনার প্রভাবে জেলায় লকডাউন চলছে ও গাড়ি চলাচল বন্ধ, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে এবং সকলকে ঘরে থাকতে সরকারের কড়া নির্দেশণা, এহেন পরিস্থিতিতে সরকারি উপকারভোগী দুস্থ অসহায়দের ভাতাগুলো সময়মত না দিতে পারলে ওরা কষ্ঠ করবে।

ফুলপুর উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৪ হাজার অসহায় দুস্থ বিধবা ও বয়স্ক ভাতা উপকারভোগী রয়েছে। নানা দিক বিবেচনা করে এসব ভাতা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছানো অনেক কষ্টের ব্যাপার সত্ত্বেও আমরা সিদ্ধান্ত নেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভাতা পৌঁছে দেয়ার। সেই আলোকে পর্যায়ক্রমে বিধবা ও বয়স্ক ভাতা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভাতা পৌছে দেয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল দিনব্যাপী ফুলপুর সোনালি ব্যাংকের উদ্যোগে রহিমগঞ্জ ইউনিয়নের বাড়ি বাড়ি ঘুরে ১০২ জনকে বিধবা ভাতার টাকা পৌঁছে দেয়া হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন ফুলপুর সোনালি ব্যাংকের কর্মকর্তা কামরুজ্জামান, রহিমগঞ্জ, ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ সরকার প্রমুখ। ব্যাংক কর্মকর্তাদের এমন আন্তরিক সেবা পেয়ে অসহায় মানুষগুলোর মুখে হাসি ফুটে উঠে। অনেকেই এই মহতি উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন এলাকাবাসী।