ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতির ক্ষমা হবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক:  দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের ত্রাণ চুরি করলে কঠোর শাস্তির কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এটা (ত্রাণ চুরি) খুবই ঘৃণ্য কাজ। কোনোভাবেই ক্ষমার যোগ্য নয়। ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতি করলে কাউকে ক্ষমা করা হবে না।

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) পরিস্থিতি নিয়ে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

সম্প্রতি ত্রাণ চুরি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাস শুরু হওয়ার পর থেকেই আমরা কর্মহীন মানুষের জন্য ত্রাণ সহায়তা দিয়ে আসছি। সেই সহায়তায় যারা অনিয়ম দুর্নীতি করার চেষ্টা করবে তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে তাদের শাস্তি দেওয়া হবে। তাদের ক্ষমা নেই। তিনি বলেন, প্রত্যেকের নিজের একটা আন্তরিকতা থাকতে হবে। আমরা যারা রাজনীতি করি আমাদের আরও বেশি দায়িত্ববোধ থাকতে হবে। যারা সরকারি বেতন পাচ্ছেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকায়, কাজেই প্রত্যেকের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, যাদের আমরা দায়িত্ব দিয়েছি তারা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু তার মধ্যে এই সামান্য দু-একটা ঘটনা আমাদের অত্যন্ত কষ্ট দেয়। এটা খুবই ঘৃণ্য কাজ। কেউ এটা করবেন না।

গণভবন প্রান্তে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে দুই বিভাগের বিভিন্ন জেলার প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের কাছে নিজ নিজ জেলার করোনাভাইরাসের সংক্রমণের বর্তমান অবস্থা, প্রতিরোধে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জানতে চান। পাশাপাশি অসহায় কর্মহীন মানুষদের ত্রাণ ও সহযোগিতায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পরিকল্পনা কী তাও জানতে চান। জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার সরাসরি সম্প্রচার ও প্রচার করে। এর আগে দুই দফায় ২১টি জেলার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেন প্রধানমন্ত্রী।

কৃষি খাতে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ : ক্ষুদ্র ও মাঝারি চাষিদের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আগামী অর্থবছরে চাষিদের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে তা বিতরণ করা হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি চাষিরা পাঁচ শতাংশ সুদে এ ঋণ নিতে পারবেন। এ ছাড়া সারের জন্য ৯ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি, কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণের জন্য ১০০ কোটি টাকা, বীজের জন্য ১৫০ কোটি টাকা এবং কৃষকদের জন্য আরও ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, এ প্রণোদনা গ্রামাঞ্চলের ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের জন্য। যারা পোলট্রি, কৃষি ফার্ম, ফলমূল, মসলা জাতীয় খাদ্য পণ্য উৎপাদন করবেন তারা এখান থেকে ঋণ নিতে পারবেন। আমাদের আরও একটি উদ্যোগ চলমান আছে। পিয়াজ, রসুন, আদার মতো মসলা যারা উৎপাদন করছেন, তাদের জন্য ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হয়। এই সুবিধা চালু থাকবে। এর পাশাপাশি আমাদের নতুন স্কিম হিসেবে ৫ হাজার কোটি টাকার এই প্রণোদনা প্যাকেজ চালু থাকবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এর আগে সব ধরনের শিল্প খাতের জন্য প্রায় ৭২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। কিন্তু আমরা কৃষিপ্রধান দেশ। ফলে আমাদের কৃষকদের জন্য সহায়তা প্রয়োজন। আমরা সেই সহায়তা অব্যাহত রাখব। কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে এ বছর সরকারিভাবে ধান-চাল বেশি কেনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের কৃষি প্রধান দেশ। কয়েকদিনের মধ্যে বোরো ধান উঠবে। কৃষক যেন ধানের ন্যায্য দাম পায়, সে জন্য এ বছর খাদ্য মন্ত্রণালয় গত বছরের চেয়ে আরও বেশি ধান-চাল কিনবে। এ বছর মন্ত্রণালয় থেকে ২ লাখ মেট্রিক টন ধান-চাল কেনা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ শুরু হয়ে যাবে কিছুদিনের মধ্যেই। আমরা দেখেছি, অন্যান্য বছর ধান কাটা ও মাড়াইয়ের জন্য পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যায় না। তবে এবার যেহেতু করোনাভাইরাসের কারণে অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, তারা এখন ধান টাকা ও মাড়াইয়ে কাজ করতে পারবেন। তারা কাজ করতে চাইলে সে ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। শ্রমিকরা যেন ধান কাটা কাজে যেতে পারে সেজন্য আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছি।

কৃষকের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ কোনো জায়গা ফাঁকা রাখবেন না। একটু জায়গাও ফেলে রাখবেন না। যার যতটুকু জায়গা আছে সবটুকুতে চাষাবাদ করুন।

দূরত্ব নিশ্চিতে বাজারকে মাঠ-খোলা স্থানে নিন : সামাজিক দূরত্বে নিশ্চিতে হাট-বাজারগুলোকে মাঠ, বড় রাস্তা বা খোলা কোনো জায়গায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজারেও সেই দূরত্ব বজায় রাখা হোক। হাটগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ না রেখে কোনো বড় মাঠ থেকে সুনির্দিষ্ট জায়গা চিহ্নিত করে দূরত্ব বজায় রেখে রেখে হাটে পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা করা। পরিকল্পিতভাবে এটা করলে মানুষের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত হবে এবং সংক্রমণ ছড়াবে কম। মাঠ বা খোলা জায়গায় দূরত্বটা বজায় রেখে যার যার পণ্য নিয়ে বসবে। সবাই সেখান থেকে কিনে নিয়ে চলে যাবে। কোনো ভিড় যেন না হয়।

করোনা সংক্রমণ রোধে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেদের রক্ষাটা নিজেকেই উদ্যোগ নিয়ে করতে হবে। সে ব্যাপারে সবাইকে আরও উদ্যোগ নিতে হবে। মানুষের সঙ্গে মানুষের সংস্পর্শ যত কমানো যায় সেটাই ভালো। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে কষ্টকর পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মানুষ সুস্থ হয় এটা ঠিক। এখানে মৃতের হার কম থাকলেও এটা মানুষকে ভোগায়, কষ্ট দেয়। ‘বিশেষ করে বয়স্ক, হার্টের অসুখ আছে, কিডনির অসুখ আছে, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগ আছে তাদের জন্য খুব মারাত্মক ভাইরাসটি।

দেশের মানুষকে করোনাভাইরাস থেকে বাঁচাতে সবকিছু বন্ধ করা হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এই একটা ভাইরাসের কারণে সারা বিশ্ব স্থবির। স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্পূর্ণ স্থবির, সারা বিশ্বের মানুষ ঘরে বন্দী। আমরাও এই ভাইরাস থেকে দেশবাসীকে বাঁচানোর জন্য সব কর্মসূচি বন্ধ করে দিয়েছি। সবাইকে অনুরোধ করছি আপনারা যার যার নিজের ঘরে থাকুন। আপনার ছেলে-মেয়ে বাচ্চাদের নিয়ে ঘরে থাকুন। কারও সঙ্গে মেশার দরকার নেই।

করোনা পরিস্থিতিতে সবার কষ্টকর জীবন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জানি এর জন্য কষ্ট হচ্ছে সবার। কষ্ট লাঘবে সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতর ২৩টি গাইড লাইন প্রস্তুত করেছে। এগুলো স্বাস্থ্য অধিদফতরের ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে। এ ছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে গণমাধ্যমে আমরা অনবরত প্রচার করে যাচ্ছি। সেসব বিষয়ে নজর দেবেন, মেনে চলবেন।

সবাইকে মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, প্রত্যেকে মুখে মাস্ক ব্যবহার করবেন। এটা ছড়ায় হাঁচি-কাশির মাধ্যমে। মাস্ক ব্যবহার করলে নিজেকে অনেকটা সুরক্ষিত রাখতে পারবেন। হাত না ধুয়ে চোখে মুখে হাত লাগাবেন না। হাঁচি-কাশি এলে কাপড়, রুমাল, টিস্যু ব্যবহার করেন অথবা আপনি কনুই দিয়ে হাঁচি-কাশি দেন।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে নিজ নিজ এলাকা সুরক্ষিত রাখতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রত্যেকে যার যার এলাকা সুরক্ষিত করেন। হঠাৎ করে বাইরে থেকে কাউকে যেতে দেবেন না। কারণ আমরা দেখতে পাচ্ছি আমাদের এখানে একটা জেলা থেকে অন্য জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে। অন্তত এ কয়েকটা দিন আপনারা নিজের এলাকাকে সুরক্ষিত করেন। কেউ এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় অকারণে ছোটাছুটি করবেন না। কেউ শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে যাবেন, পরে গেলেও পারেন। কেউ বাড়িতে যাবেন, পরে গেলেও পারেন। এগুলো অন্তত বন্ধ রাখেন। বন্ধ রেখে অন্তত আমরা এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারি।

মাঠ প্রশাসনের প্রতি নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাবারের দোকানপাট সীমিত সময়ের জন্য খোলা রাখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। যাতে বাসা-বাড়িতে দরকার হলে খাবার সরবরাহ করতে পারে। এতে কিছু লোকের কর্মসংস্থান হবে। তিনি বলেন, বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ডাকে যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছে, আমরা বিজয়ী জাতি। কাজেই করোনাভাইরাস থেকেও নিশ্চয়ই আমরা দেশকে সুরক্ষিত রাখতে পারব, মানুষকে সুরক্ষিত করতে পারব। এই অবস্থাও আমরা মোকাবিলা করতে পারব।

নববর্ষে কোনোভাবেই লোক সমাগম নয় : নববর্ষের সব অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে বলে আবারও জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, নববর্ষে বাইরে কোনো প্রোগ্রাম করা যাবে না। ঘরে বসে রেডিও-টেলিভিশনে অনুষ্ঠান হবে বা স্যোশাল মিডিয়ায় উদযাপন করা যাবে। কিন্তু কোনো জনসমাগম করা যাবে না। তবে বাসায় বসে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনুষ্ঠান করলে কেউ আপত্তি করবে না।

এর আগে বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অদৃশ্য শক্তির মতো করোনাভাইরাস আমাদের ভিতরে হানা দিয়েছে। এ ভাইরাসে শুধু একটি দেশ নয়, পৃথিবীর প্রতিটি দেশের মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, আক্রান্ত হচ্ছে। ১ লাখ ৩ হাজারের মতো মানুষ ইতিমধ্যে মারা গেছেন এবং লাখ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। বিভিন্ন উন্নত দেশ এটা মোকাবিলা করতে হিমশিম খাচ্ছে। সেসব দেশে হাজার হাজার লোক মারা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ যারা কাজ করছেন তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমাদের সংবাদমাধ্যম অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে সচেতনতামূলক জিনিস প্রচার করছে। আমি তাদেরও ধন্যবাদ জানাই।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে মাশরাফির দুই আবদার : নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা বলেন, নড়াইলে যাদের ত্রাণ প্রয়োজন তারা ত্রাণ পাচ্ছেন। এখানে কমিটি করে সঠিকভাবে ত্রাণ বিতরণ চলছে। তিনি তার জেলায় ১০ টাকার চাল আরও বেশি বরাদ্দ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানান। মাশরাফি বিন মর্তুজা বলেন, আজকের এই আয়োজনে আমি সবচেয়ে নবীন। এখানে অনেক প্রবীণ রাজনৈতিক নেতারা আছেন। আমরা সবাই এক হয়ে কমিটি গঠন করে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করছি। সবাইকে সচেতন করছি। বিশেষ করে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ ভাইয়েরা অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, আপনি এখানকার সংসদ সদস্য ছিলেন। এই আসন আপনার। এই আসনের দিকে আপনি অবশ্যই মনোযোগ দেবেন। নড়াইল সদর আড়াইশ বেডের হাসপাতালে একটি আইসিইউ দিলে নড়াইলবাসী আরও উপকৃত হবেন। উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু এখানেই নয়, ভাগে ভাগে চাল বরাদ্দ করা হচ্ছে। রোজাকে সামনে রেখে আবারও চাল দেওয়া হবে। আর এখানকার যারা সংসদ সদস্য আছেন এবং জনপ্রতিনিধি আছেন তারা মানুষের জন্য কাজ করছেন। আগামীতেও মানুষের পাশে দাঁড়াবেন। মানুষের যেন কোনো কষ্ট না হয়, সে দিকটা খেয়াল রাখবেন-এটাই আমি কামনা করি।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীকে মেহেরপুরে যেতে বারণ প্রধানমন্ত্রীর : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের গ্রামের বাড়ি মেহেরপুরে। সম্প্রতি তিনি মেহেরপুরে যেতে চাইলে করোনার কারণে তাকে যেতে দেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবস, সবসময় আমরা উদযাপন করি। এবার তো আমরা সেভাবে জনসমাগম করতে পারব না। যেটুকু সীমিত আকারে ঘরে বসে করা যায়, সেটুকু করবেন, জনসমাগম যেন না হয়। ইনশা আল্লাহ, এ অবস্থা চলে গেলে আমরা ভালোভাবে করতে পারব। কারণ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার প্রথম শপথ নিয়েছিল এই মেহেরপুরে- এ কথা আমাদের সবসময় স্মরণ রাখতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী যাওয়ার জন্য তৈরি ছিল। আমি বলেছি, জেলায় (মেহেরপুর) ঢুকতে পারবা না। কারণ ঢাকায় তো করোনাভাইরাস আছে। এক্ষেত্রে কোনো মানুষ (মেহেরপুরে) যাক, আমি চাই নাই। তাকে আমি যেতে দিই নাই। ঢাকায় যারা রয়েছেন, আমি তাদেরকে বলেছি, ঢাকায়ই থাকতে হবে। কেউ এখান থেকে নিজের জায়গায় যেতে পারবে না। সেজন্য সে যায় নাই।

ভিডিও কনফারেন্সে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত একজন ইমাম জানান, তারা নির্দেশনা অনুযায়ী জুমার নামাজ ১০ জনে পড়েছেন এবং ওয়াক্তর নামাজে পাঁচজনের বেশি উপস্থিতি রাখছেন না। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসলে সবাইকে দোয়া করতে হবে। যেন এ করোনাভাইরাস থেকে আমরা রক্ষা পাই। আপনারা জানেন, সৌদি আরবে মক্কা এবং মদিনাতেও কারফিউ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, ঘরে বসে দোয়া করলে আল্লাহ সে দোয়া কবুল করবেন। কাজেই, ঘরে বসে যত বেশি দোয়া পড়া যায়। আর এখন তো কাজ নেই বেশি। কাজেই, বেশি বেশি করে দোয়া করতে হবে, যাতে আল্লাহ আমাদের এ বিপদ থেকে রক্ষা করেন।

চিফ রিপোর্টার, সাইফ শোভন, ঢাকানিউজ২৪.কম