কুমিল্লায় চেম্বারে বসছেন না চিকিৎসকরা

নিউজ ডেস্ক:    কুমিল্লা শহরের জনপ্রিয় অনেক চিকিৎসক চেম্বারে বসা বন্ধ করে দিয়েছেন। চেম্বারের সামনে এখন ঝুলছে নোটিশ, তাতে লেখা- চেম্বার বন্ধ। করোনা সংক্রমণের এ সময়ে নগরীতে চেম্বার বন্ধের এই ছবি ঘুরছে ফেসবুকে। এরই মধ্যে অনেকেই চিকিৎসকদের সমালোচনাও করেছেন।

নগরীর রেসকোর্স মুক্তি হাসপাতালে রোগী দেখেন নিউরোলজিস্ট পঞ্চানন দাশ। করোনা সংক্রমণের আগে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা রোগীর ভিড় সামলাতে হতো হাসাপাতাল কর্তৃপক্ষকে। তবে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর শারীরিক অসুস্থতার কারণ জানিয়ে ডা. পঞ্চানন দাশ চেম্বার বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে রোগীরা এসে সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবদুস সাত্তার জানান, ডা. পঞ্চানন দাশ খুবই অসুস্থ। তাই চেম্বার বন্ধ।

কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালের ডা. মিজানুর রহমান ছাড়া আর কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক চেম্বারে রোগী দেখছেন না। হাসপাতালের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দু-তিনজন চিকিৎসক আছেন, যারা এখনও রোগী দেখছেন। বেশিরভাগ চিকিৎসকই চেম্বারের সামনে বন্ধের নোটিশ টানিয়েছেন। একইভাবে অধ্যাপক ডা. আবদুর রব সরকার ও ডা. কার্তিক চন্দ্র সূত্রধরের চেম্বারে পরবর্তী নোটিশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকার ঘোষণা ঝুলছে।

চিকিৎসকদের এমন আচরণে আবরার হিমেল নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ডাক্তারদের কাজ রোগী দেখা। কিন্তু ডাক্তারই যদি রোগী থেকে পালিয়ে বেড়ান, তাহলে রোগী কোথায় যাবে। ডাক্তারদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক।

আফসানা আহমেদ লিখেছেন, যেসব ডাক্তার চেম্বার বন্ধ করে বাড়িতে আছেন, আপনারা কসাই। আর যেসব মানুষরূপী ফেরেশতা সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে রাতদিন এক করে রোগীর সেবা দিচ্ছেন, আপনাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

সুজন কর্মকার লিখেছেন, যেসব ডাক্তার চেম্বার বন্ধ করে বাড়ি গেছেন, আপনারা ফিরে আসবেন। ততদিনে আপনাদের যেসব রোগী কষ্ট পেয়ে বেঁচে থাকবেন, তারা আপনাকে মানুষ মনে করবেন না। আপনি বেঁচেও মরে থাকবেন।’ নগরীর বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে জানা যায়, কোনো কোনো ডাক্তার বিনা নোটিশেই রোগী দেখা বন্ধ করে দিয়েছেন। বিপাকে পড়েছেন হাসপাতালে আসা রোগী ও তাদের স্বজন।

কুমিল্লার সিভিল সার্জন নিয়াতুজ্জামান দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে চিকিৎসকদের বিষয়ে কথা বলেছেন, নির্দেশনা দিয়েছেন। সেখানে আর কি বলার আছে। তবে চিকিৎসকদের উচিত দুঃসময়ে রোগী দেখা। দুঃসময়ে রোগী দেখার মধ্যেই চিকিৎসক জীবনের সার্থকতা।