মোদীর ওষুধ ও পেয়াজ ব্যবসা

সুমন দত্ত: জাতিতে ভারতীয়রা একটু স্বার্থপরই। একা একা চলতে অভ্যস্ত। সবার কাছ থেকে সাহায্য নেবে, কিন্তু কাউকে সাহায্য করবে না। এমন মানসিকতা প্রতিটা ভারতীয়র। করোনার ওষুধ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন কিংবা বাংলাদেশে পেয়াজের রফতানি হঠাৎ বন্ধ করে দেয়া ভারতীয় স্বার্থপর চরিত্রের বহি:প্রকাশ।

পৃথিবীতে করোনাভাইরাস মহামারীর আতঙ্ক নিয়ে এসেছে। এই সময় করোনা পীড়িত আমেরিকা থেকে খবর আসল ম্যালেরিয়ার ওষুধ ক্লোরোকুইন ও হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন করোনা দমনে কার্যকর (যদিও এ নিয়ে বিতর্ক আছে)। আর বিশ্বব্যাপী এই ম্যালেরিয়া ওষুধের ৭০% উৎপাদন করে ভারত। পৃথিবীর অন্য দেশও ম্যালেরিয়ার ওষুধ তৈরি করে। কিন্তু ভারতের মতো তৈরি করে না। ভারতে ম্যালেরিয়া রোগের প্রকোপ বেশি। এ কারণে ভারতের কাছে এই ওষুধের মজুদ সবচেয়ে বেশি।

এসব তথ্য জানার পরই ভারতীয় আমলারা মোদী সরকারের অনুমতি নিয়ে গত ২৬ মার্চ নতুন করে কয়েকটি ওষুধ বিদেশে রফতানি বন্ধ করে দিল। যার মধ্যে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ও প্যারাসিটামলের মতো পেইন কিলার ছিল। ঠিক একই ভাবে বাংলাদেশে হঠাৎ করেই পেয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয় ভারত। এতে বাংলাদেশে পেয়াজের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে যান। সেখানে অনুষ্ঠিত এক মিটিংয়ে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমাদেরকে আগাম না জানিয়ে এভাবে হঠাৎ পেয়াজ বন্ধ করাটা ঠিক হয়নি। এতে আমরা সমস্যায় পড়েছি। শেখ হাসিনার এই প্রতিক্রিয়া জানার পর ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সীমান্তে আটকে পড়া পেয়াজের ট্রাকগুলো দ্রুত খালাস করার পদক্ষেপ নেয়। কয়েকমাস পর দেখা গেল ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে পেয়াজের দাম পড়ে গেছে। পেয়াজের কোনো চাহিদা নেই বিভিন্ন রাজ্যে। দেশটির সরকারি গুদামে বিশাল আকারে পেয়াজ পড়ে আছে, পচে যাচ্ছে। তখন ভারত পুনরায় পেয়াজ আমদানির জন্য বাংলাদেশকে অনুরোধ করে ।

বাংলাদেশ আমেরিকার মতো শক্তিশালী রাষ্ট্র নয়। তাই ভারতের যেকোনো হঠকারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ তারা জানাতে পারে না। আমেরিকা যেটা করে দেখিয়েছে। সেটা এক কথায় ভারতের এই স্বার্থপর ব্যবসায়ীক চরিত্রের মুখে থাপ্পড় মারার সামিল। আমেরিকায় ট্রাম্পের সংবাদ সম্মেলনে দেশটির সাংবাদিকরা যখন জানালো ভারত হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন দেবে না। ভারত ক্লোরোকুইন রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এ কথা শুনে ট্রাম্প বলেছে এমনটা হলে তার যোগ্য জবাব ভারতকে দেয়া হবে। এটা বলতে তিনি রিটালিয়েশন শব্দটা উচ্চারণ করেন। ট্রাম্পের এই শব্দটাকে সাংবাদিকরা বলছে ভারতকে হুমকি। আমি একে হুমকি হিসেবে দেখি না। আমি একে থাপ্পড় হিসেবে দেখি। ভারতের নিচু মানসিকতার ওপর থাপ্পড়। যেমনটা বাংলাদেশের সঙ্গে করেছে পেয়াজ নিয়ে।

নরেন্দ্র মোদী শাসক হিসেবে কেমন সেটা নিয়ে আলোচনা করবো না। তিনি অনেক ভালো ভালো কথা বলেন। কিন্তু সবকিছুকে ব্যবসায়ীক দৃষ্টিতে দেখলে তাকে এমন থাপ্পড় আরও খেতে হবে। বিভিন্ন জায়গায় নরেন্দ্র মোদী স্বামী বিবেকানন্দের কথা বলেন। নিজেকে রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দের অনুসারী হিসেবে দাবী করেন। আর বিবেকানন্দ বলেছিলেন ভারত বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে। এই পৃথিবীতে বিভিন্ন দুর্যোগ আসবে। ভারত পৃথিবীবাসীর ছাতা হয়ে ধরণী লোকজনকে রক্ষা করবে। সব জাতিগোষ্ঠী ভারতের ছাতার তলে এসে নিজেদের রক্ষা করবে। আজ আমেরিকার থাপ্পড় খেয়ে মোদী যে কাজটা করল তাতে তিনি স্বামী বিবেকানন্দকে অপমান করলেন। পাশাপাশি প্রমাণ করলেন তিনি বিবেকানন্দের অনুসারী নন। তিনি গুজরাটের একজন মুনাফা লোভী ব্যবসায়ী।

লেখক: সাংবাদিক