আইএমএফ-এর কাছে ঋণ চাইছে ইরান

নিউজ ডেস্ক:   করোনাভাইরাসের মহামারিতে ইরানে মৃতের সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলকে (আইএমএফ) জরুরি ভিত্তিতে ৫০০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদনের আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা দেশটি। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছের, অনুরোধ অনুমোদনের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের বৈষম্য করার উচিত হবে না। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এই ঋণের বিরোধিতা করছে। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় বিপর্যস্ত ইরান করোনাভাইরাসকে ঘিরে মহা সংকটে পড়েছে। তা সত্ত্বেও মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি সংকট মোকাবিলার যথেষ্ট অর্থ ইরানের রয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি

নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে বাধ্য করতে ২০১৮ সাল থেকে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে তেহরান। করোনাভাইরাসের মহামারিতে মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে আক্রান্ত হয়েছে ইরান।

বিশ্ব জুড়ে এই ভাইরাসটি প্রায় ১৫ লাখ মানুষকে আক্রান্ত করে কেড়ে নিয়েছে প্রায় ৮৩ হাজার প্রাণ। বুধবার ইরানের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, নতুন করে এক হাজার ৯৯৭ জন আক্রান্তের মধ্য দিয়ে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৭ হাজার ২৮৬ জনে পৌঁছেছে। আর নতুন ১২১ জন মৃতের মধ্য দিয়ে মোট মৃতের দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৩ জনে।

করোনা মহামারির মধ্যে গত মাসে আইএমএফ’র দ্রুত অর্থায়ন উদ্যোগ থেকে ৫০০ কোটি ঋণ পাওয়ার অনুরোধ জানায় ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মতো আকস্মিক বিপদ থেকে বিভিন্ন দেশকে রক্ষায় আইএমএফ’র ওই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইএমএফ কর্মকর্তারা বলছেন, ঋণের সম্ভাব্যতা নিয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

এদিকে বুধবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক খবরে বলা হয়, আইএমএফ’র সর্ববৃহৎ অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র ওই ঋণ আবেদন আটকে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওই খবরে বলা হয়, ইরান সরকারের তহবিলে কোটি কোটি ডলার এখনও পড়ে রয়েছে। আর ঋণ দেওয়া হলে তা করোনা মোকাবিলায় খরচের চেয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে অর্থায়নে বেশি ব্যয় হবে।

বুধবার মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেন, এই সংকটের সময় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো তাদের আইনগতভাবে বাধ্য কর্তব্য পালন করবে বলে আশা করছেন তারা। তিনি বলেন, ‘আমরা আইএমএফ সদস্য। আমরা তাদের কাছে একটি ঋণ আবেদন করেছি আর তারা যদি ইরান ও অন্য দেশগুলোর মধ্যে বৈষম্য করে তাহলে এটা স্পষ্ট হবে যে আমরা কিংবা বিশ্ব জনমত কেউই এটা সহ্য করবে না।’