ঈদুল ফিতর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়তে পারে

নিউজ ডেস্ক:   দেশজুড়ে করোনার প্রকোপ বাড়তে থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটিও বাড়ানোর চিন্তা করছে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে তিন দফায় ছুটি বাড়িয়ে আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ১৫ এপ্রিল ছুটি শেষ হলেও সেদিন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই খুলে দেওয়ার কোনো চিন্তা সরকারের নেই।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি বাড়িয়ে রমজান ও ঈদুল ফিতরের ছুটির সঙ্গে একীভূত করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে এপ্রিলের সঙ্গে সঙ্গে মে মাসজুড়েই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কথা ভাবা হচ্ছে। যদিও এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন বলেন, আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। আরও তো এক সপ্তাহ ছুটি আছে। করোনার প্রকোপ এভাবে বাড়তে থাকলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তো বন্ধ রাখতেই হবে।

আর শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল তার ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কবে খুলবে সে সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্তও হয়নি।

শিক্ষা নিয়ে কাজ করা সরকারের অপর মন্ত্রণালয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম আল হোসেন বলেন, করোনার বর্তমান পরিস্থিতিতে স্কুলগুলো খুলে দিলে রীতিমতো ম্যাসাকার হবে। তাই অবস্থাদৃষ্টে যা করা উচিত, সেটিই করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ালে আমরাও একই সঙ্গে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ছুটি বাড়াব। এ নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান সচিব।

বাংলাদেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় ৮ মার্চ। এরপর প্রথম দফায় গত ১৭ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর আবার দ্বিতীয় দফায় ৯ এপ্রিল পর্যন্ত এবং সর্বশেষ তৃতীয় দফায় আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সময়সীমা বাড়ানো হয়।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ বলেন, ‘ছুটি বাড়ানোর বিষয়টি সক্রিয়ভাবে ভাবা হচ্ছে। আবার শিশুরা যাতে বাড়িতে পড়ালেখা অব্যাহত রাখে সে ব্যাপারেও নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৫ এপ্রিল থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে। সেই হিসেবে রমজান শুরুর দিন পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হবে। তারপর শুরু হবে রমজানের ছুটি। ফলে কার্যত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে রমজানের ঈদের ছুটির পর।