শুরু প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে, শেষ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের দামামা যখন বাজতে শুরু করেছে, তখনই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পা রেখেছিলেন বিল অ্যাশডাউন। ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ যখন খেললেন এই অলরাউন্ডার, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেমে গেছে তার বেশ আগেই! কোনো ম্যাচেই পারফরম্যান্স দুর্দান্ত কিছু ছিল না অ্যাশডাউনের। কিন্তু ক্যারিয়ার শুরু আর শেষের দুটি ম্যাচ তাকে অমর করে রেখেছে ক্রিকেটে।

করোনাভাইরাসের প্রকোপের এই সময়কে বিশ্বজুড়েই তুলনা করা হচ্ছে যুদ্ধাবস্থার সঙ্গে। বলা হচ্ছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এত বড় সঙ্কটে আর পড়েনি বিশ্ব। ক্রিকেটের ইতিহাসকেও অনেক সময় বিভাজন করা হয় বিশ্বযুদ্ধের সঙ্গে মিলিয়ে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে বা পরে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে বা পরে। অ্যাশডাউন ক্রিকেট ইতিহাসে পাকাপাকি জায়গা পেয়ে গেছেন সময়ের ভেলায় চেপেই। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে ইংল্যান্ডে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেছেন কেবল তিনিই।

অন্যান্য দেশেও কেউ পেরেছেন কিনা বা কতজন পেরেছেন, সেটির নিশ্চিত হিসাব নেই।

১৯১৪ সালের জুলাইয়ে শুরু হয়েছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। অ্যাশডাউনের অভিষেক ঠিক আগের মাসেই। তখন তার বয়স মোটে ১৫। অভিষেকে করেছিলেন ৩ ও ২৭ রান। বল হাতে পাননি উইকেট। পরের ম্যাচটি খেলার জন্য তাকে অপেক্ষা করতে হয় ৬ বছর।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেমে যায় ১৯১৮ সালে। অ্যাশডাউনের সুযোগ আসে ১৯২০ সালে। কেন্টের হয়ে মাঠে নামেন কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে। কেন্টে খেলে হয়ে ওঠেন তিনি এই কাউন্টির গ্রেট। মৌসুমে হাজারের বেশি রান করেছেন ১১ বার। ১৯৩৪ সালে এসেক্সের বিপক্ষে অ্যাশডাউনের ৩৩২ রানের ইনিংসটি এখনও কেন্টের রেকর্ড।

কেন্টের হয়ে খেলেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ক্যারিয়ার থেমে যায় ১৯৩৭ সালে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় আরও দুই বছর পর। থামে ১৯৪৫ সালে। ১৯৪৭ সালে আরেকটি মাচ খেলতে আবার মাঠে ফেরেন সেই অ্যাশডাউন। বয়স ততদিনে পেরিয়ে গেছে ৪৮। কিন্তু ব্যাটের হাত তখনও মন্দ নয়। করেছিলেন ৪২ ও ৪০।

সব মিলিয়ে ৪৮৭টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে রান করেন ২২ হাজারের বেশি। উইকেট নেন ৬০২টি। তবে ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি কখনও।

এরপরও মাঠে ছিল তার উপস্থিতি, তবে অন্য ভূমিকায়। টেস্ট খেলতে না পারলেও আম্পায়ার হিসেবে দাঁড়িয়েছেন ৩টি টেস্টে। পরে হয়েছেন লেস্টারশায়ারের কোচ। এই কাউন্টির স্কোরার হিসেবেও কাজ করেছেন। পৃথিবী থেকে বিদায় নেন ১৯৭৯ সালে।

চিফ রিপোর্টার, সাইফ শোভন, ঢাকানিউজ২৪.কম