করোনাভাইরাস ঠেকাতে দক্ষিণ আফ্রিকার নির্দয় নীতি

কভিড-১৯ মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্য অনেক দেশের তুলনায় দক্ষিণ আফ্রিকা অপেক্ষাকৃত দ্রুত, কার্যকর এবং অনেকটা নির্দয়ভাবে তাদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা ভয়ানক একজন নেতা হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন। তার সম্পর্কে বিবিসি বলছে, নেতা হিসেবে সহানুভূতিশীল, ধীর-স্থির চরিত্রের অধিকারী হলেও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ও বেসরকারি খাত থেকে সাহায্যের প্রবাহ নিশ্চিত করে পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সিরিল রামাফোসা।

লকডাউন পুরোপুরি কার্যকর করতে অনেক সময়ই পুলিশ এবং সেনাবাহিনী তিন সপ্তাহব্যাপী লকডাউন কঠোরভাবে রাস্তায় সাধারণ মানুষকে পেটানো, অসম্মানজনক আচরণ করা থেকে শুরু করে গুলিও করেছে। দেশটির সবচেয়ে দারিদ্র্যপীড়িত এবং ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে সামাজিক দূরত্ব ও তাদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। অনেকে মনে করেন সেসব এলাকায় এখনো ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। তবে সব মিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা যে ধরনের লকডাউনের মধ্যে এক সপ্তাহ পার করেছে, সে রকমটা বিশ্বের আর কোনো দেশেই দেখা যায়নি। এই লকডাউনের মধ্যে ঘরের বাইরে দৌড়ানো বা কোনো ধরনের ব্যায়াম করতে যাওয়া, সিগারেট বা বিয়ার কিনতে যাওয়া, কুকুরকে নিয়ে বের হওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল, যা পৃথিবীর অনেক দেশেই অনুমোদিত ছিল। দেশটিতে করোনা নিয়ে গবেষণা কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ গবেষণাগার উদ্বোধন করার সময় গত বুধবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. এমখিজে বলেন, “আমরা এখন যে পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি তা সম্ভবত প্রলয়ঙ্করী ঝড়ের আগের শান্ত অবস্থা।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেই তাহলে  যে কোনো সময় পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। তখন আমরা সতর্ক হওয়ারও সুযোগ পাব না।’

বলা হয়, আর্থ-সামাজিক দিক থেকে পৃথিবীর সবচেয়ে অসম সমাজ ব্যবস্থাগুলোর একটি দক্ষিণ আফ্রিকার সমাজ। কিন্তু সেখানে সরকার নিয়ম মানার ক্ষেত্রে বেশি কঠোর আবার পরীক্ষা-নিরীক্ষার দিকেও এগিয়ে যাচ্ছে। অল্প সময়েই দক্ষিণ আফ্রিকার কর্তৃপক্ষ ৪৭ হাজারের বেশি মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছে। এজন্য ৬৭টি ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষা ইউনিট তৈরি করে কাজে লাগিয়েছে। গাড়ি চালিয়ে পার হওয়ার সময়ও পরীক্ষা করা হচ্ছে অনেককে। দক্ষিণ আফ্রিকা কিছুদিনের মধ্যেই প্রতিদিন ৩০ হাজার মানুষকে পরীক্ষা করতে পারবে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের, আর এখন পর্যন্ত সংক্রমণ  হয়েছে ১৫৮৫ মানুষের মধ্যে। এর মধ্যে ৮৫ জন পুরো সুস্থ হয়েছেন। বিবিসি বাংলা

চিফ রিপোর্টার, সাইফ শোভন, ঢাকানিউজ২৪.কম