ক্রিকেটের বৃষ্টি আইনের অন্যতম জনক টনি লুইস আর নেই

নিউজ ডেস্ক:    তিনি ক্রিকেটের কেউ নন। কখনো কোথাও পেশাদার ক্রিকেট খেলেননি, কোথাও বিশেষজ্ঞ হিসেবে বা ক্রিকেট কাঠামোর কোনো পদে কাজ করেননি। তারপরও ক্রিকেটে তার নাম চিরতরেই জুড়ে গেছে। বর্তমান ক্রিকেটের বৃষ্টি আইন ডাকওয়ার্থ-লুইসের অন্যতম জনক ছিলেন টনি লুইস। ৭৮ বছর বয়সে মারা গেছেন এই ইংলিশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক।

১৯৯৯ সালে ক্রিকেটের সঙ্গে নাম জুড়ে যায় লুইসের। এই বছর তিনি ও তার সতীর্থ গণিতবিদ ফ্রাঙ্ক ডাকওয়ার্থ আবিষ্কার করেন যুগান্তকারী এই বৃষ্টি আইন। এর আগ পর্যন্ত যেসব আইনে সীমিত ওভারের খেলায় নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হতো বা জয় পরাজয় নির্ধারণ করা হতো, তার কোনোটাই খুব সন্তোষজনক ছিলো না। এই জুটি এসে গণিতের মাধ্যমেই এক জটিল সূত্র তৈরি করলেন।

নব্বই দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত নানারকম সরল পদ্ধতিতে বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচের হিসাব করা হতো। শুরুতে যে দলের রান গড় বেশি থাকতো, তারা জয় পেতো। সে সময় উইকেট হারানো ব্যাপারটা বিবেচনায় নেওয়া হতো না। এরপর আসলো সবচেয়ে কম রান দেওয়া ওভারের হিসাব। এর ফলে আরো হাস্যকর হয়ে গেল বৃষ্টি আইন। বিশেষ করে ১৯৯২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার পরিণতি পুরো ক্রিকেট বিশ্বে আলোচনা তৈরি করে। পরে সেই দশকের মাঝামাঝি এসে এই দুই গণিতবিদ সূত্রটি সামনে আনেন।

আশির দশকের মাঝামাঝি ডাকওয়ার্থ প্রথম একটা বৃষ্টি আইন একাই তৈরি করেন। সেটা বেশি জটিল ছিল বলে আইসিসির কাছে পাত্তা পায়নি। এরপর ১৯৯২ সালে তিনি রয়্যাল স্ট্যাটিস্টিক্যাল সোসাইটির সম্মেলনে তিনি ‘ফেয়ার প্লে ইন ফাউল ওয়েদার’ নামে একটি নিবন্ধ উত্থাপন করেন। সেটা জানতে পারেন লুইস। এরপর দুই জনের একসঙ্গে কাজ করেন।

লুইস ছিলেন শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্নাতক গণিতবিদ ও পরিসংখ্যানবিদ। তিনি অক্সফোর্ড ব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ছিলেন।

১৯৯৭ সালে ইংল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে তাদের তৈরি করা পদ্ধতি প্রথমবারের মতো সফলভাবে প্রয়োগ করা হয়। জিম্বাবুয়ে সেই ম্যাচে নতুন এই বৃষ্টি আইনে ৭ রানে হেরে যায়।

এরপর আইসিসি এই আইনটিকে নিজের করে নেয়। যদিও এই আইনের সংক্ষিপ্ত কোনো ব্যাখ্যা নেই। অত্যন্ত জটিল বলে বিশেষজ্ঞরাই কেবল এই হিসাবটা কষতে পারেন। আর আজকাল এ জন্য বিশেষ সফটওয়ার ব্যবহার করা হয়।

২০১৪ সালের দিকে এসে এই আইনে আরেকটু সংস্কার করার প্রয়োজন দেখা দেয়। তখন অস্ট্রেলিয়া অধ্যাপক স্টিভেন স্টার্ন সামনে এসে এই সংস্কারটা করা হয়। ফলে আইনের নাম এবার দাঁড়ায় ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন বা ডিএলএস পদ্ধতি।

সেই পদ্ধতির অন্যতম আবিষ্কারক লুইসের প্রয়াণে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড শোক প্রকাশ করেছে। শোক প্রকাশ করে আইসিসির মহাব্যবস্থাপক জিওফ অ্যালারডিস বলেছেন, ‘টনির ক্রিকেটে অবদান অনেক বড়ো। আজ যে ব্যবস্থার ওপর ম্যাচে পুনরায় লক্ষ্য নির্ধারণটা দাঁড়িয়ে আছে, দুই দশক আগে তিনি ও ফ্রাঙ্ক এটা তৈরি করেছিলেন। তার নাম ক্রিকেটে বছরের পর বছর স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’