প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট চুক্তিতে ৯১ ক্রিকেটার

নিউজ ডেস্ক:    বর্তমান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বিসিবি সভাপতি থাকাকালীন যুগান্তকারী এক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন দেশের ক্রিকেটারদের জন্য। ২০১২ সালে প্রথমবার বিসিবির চুক্তির আওতায় আনেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের। সেই থেকে বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটাররা মাসিক ভিত্তিতে বিসিবির বেতন পেয়ে আসছেন। শুরুর সেই সময়ে ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ গ্রেডে ক্রিকেটারদের বেতন ছিল যথাক্রমে ২৫ হাজার, ২০ হাজার ও ১৫ হাজার টাকা।

এর মধ্যে আট বছর অতিবাহিত হয়েছে। পদ্মা-মেঘনায় অনেক জল গড়িয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের বেতন বেড়েছে মাত্র একবার। তাও মাত্র ১৫ ভাগ! দুই বছর আগে এই যেটি বাস্তবায়ন করেছিল বিসিবি। বাড়ানোর পর এখন ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ গ্রেডে ক্রিকেটারদের বেতন সাকুল্যে দাঁড়াচ্ছে যথাক্রমে ২৮ হাজার ৭৫০, ২৩ হাজার ও ১৭ হাজার ২৫০ টাকা।

পারফরম্যান্স, ফিটনেস বিবেচনায় চুক্তিতে ক্রিকেটারদের সংখ্যা কমে-বাড়ে। গত বছর ৭৯ জন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার চুক্তিতে ছিলেন। এবার ১২ জন বাড়ানো হয়েছে। এখন চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারের সংখ্যা ৯১ জন। সর্বশেষ জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) ফিটনেস টেস্টে পাশ করা সবাই আছেন চুক্তিতে। তবে উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে শৃঙ্খলাজনিত কারণে শাহাদাত হোসেন রাজীব, গত আসরে কোনো ম্যাচ না খেলা মোহাম্মদ শরীফ নেই এবার।

গত বছর ২১ অক্টোবর দেশের ক্রিকেটাঙ্গন কাঁপিয়ে ধর্মঘট করেছিলেন ক্রিকেটাররা। পরে দুই পক্ষের সমঝোতায় এবং বিসিবি সিংহভাগ দাবি মেনে নেওয়ায় ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছিলেন ক্রিকেটাররা। তাদের উত্থাপিত ১৩ দফা দাবির মতো একটি ছিল, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের বেতন ৫০ শতাংশ বাড়ানো।

ধর্মঘটের পর ১৫ দিনের মধ্যেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ম্যাচ ফি, অন্যান্য ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছিল বিসিবি। জাতীয় ক্রিকেট লিগের প্রথম স্তরে ম্যাচ ফি ৩৫ থেকে ৬০ হাজার, দ্বিতীয় স্তরে ২৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা করা হয়। যাতায়াত ভাতা, দৈনিক ভাতা, আবাসন খরচও বাড়িয়েছিল বিসিবি। কিন্তু প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের বেতন বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। গতকাল নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্রিকেটার এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘সব দাবি মেনে নিয়েছে বলেছিল বিসিবি। তাহলে এটাও তো হওয়ার কথা। এটা বিসিবিই ভালো বলতে পারবে। আমাদের দাবি ছিল ৫০ শতাংশ বাড়ানোর। ম্যাচ ফি, বিভিন্ন ভাতা বাড়ালেও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের বেতন আর বাড়ানো হয়নি।’

নির্বাচকরাই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের চুক্তির এ তালিকাটা করেন। বেতন বাড়ানোর বিষয়টি টুর্নামেন্ট কমিটির অধীনে বলেই জানান বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘এটা তো আমার অধীনে না। এটা টুর্নামেন্ট কমিটির অধীনে। তারাই ভালো বলতে পারবে। তবে আমরা তো ওদের ম্যাচ ফি, অন্যান্য ভাতা ঐ সময় বসে বাড়িয়ে দিয়েছিলাম, ওদের দাবি অনুযায়ী।’

এ ব্যাপারে জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মুর্তজা পাপ্পাকে।