তথ্যমন্ত্রীর নির্দেশে নতুন রিকশা পেলেন সুমি

নিউজ ডেস্ক:    ভাড়ায় চালিত রিকশার মালিককে প্রতিদিন দিতে হতো ২০০ টাকা। করোনারভাইরাসের কারণে রাস্তায় যাত্রী না থাকায় দিনে জমার টাকাটাই আয় হতো না সুমি ক্রুসের।

রোববার সুমির এই সমস্যার বিষয় উল্লেখ করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে রাজশাহীর একটি অনলাইন পত্রিকা। বিষয়টি নজরে আসে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের। তার নির্দেশে সোমবার সুমিকে নতুন একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা কিনে দেন জেলা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার।

এ ছাড়া একমাস রিকশা না চালিয়ে ঘরে থাকতে সুমিকে নগদ পাঁচ হাজার টাকা এবং বেশকিছু খাদ্যসামগ্রী দেন। এ সময় তিনি সুমিকে জানান, তথ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সুমিকে সাহায্য করা হয়েছে। তিনি সবসময় সুমির পাশে থাকবেন।

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার যখন সুমিকে রিকশার চাবি দিচ্ছিলেন, খাদ্যসামগ্রী আনেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক উপ-দপ্তর সম্পাদক প্রভাষক শরিফুল ইসলাম। একজন ছাত্রলীগ নেতাও  সুমিকে খাদ্যসামগ্রী কিনে দেন।

রাজশাহীর নারী রিকশাচালকের সাহায্যে হাত বাড়িয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক। জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক সুমিকে তার কার্যালয়ে ডাকেন তিন হাজার টাকা, একটি মশারি এবং বেশকিছু খাদ্যসামগ্রী দেন। ভোরে নগরীর সাত নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি সুমিকে নিজের কার্যালয়ে ডেকে টাকা এবং খাদ্যসামগ্রী দেন।

নগরীর ভদ্রা ও বাটার মোড় এলাকার দুই ব্যক্তি সুমিকে নগদ টাকা দেন। কাজীহাটা এলাকার গৃহিনী দেন খাদ্যসামগ্রী, বিভিন্ন স্থান থেকে অনেকেই সুমিকে বিকাশের মাধ্যমে আর্থিক সহযোগিতা করেন। নিউইয়র্ক এবং ইতালি থেকেও ফোন পেয়েছেন সুমি। একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ অনেকেই সুমির পাশে দাঁড়াতে চেয়েছেন।

মানুষের এমন সহানুভূতিতে আবেগাপ্লুত সুমি বলেন, ‘রাজশাহী শহরে আসার পর প্রথম এত মানুষের ভালোবাসা পেলাম। দুনিয়ায় এখনো মানুষ আছেন, যারা মানুষের পাশে থাকেন। মানুষকে ভালোবাসেন। আজকে তার প্রমাণ পেলাম।’

সুমির গ্রামের বাড়ি নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার পার্বন্নী গ্রামে। প্রায় ১৫ বছর আগে তার স্বামী মারা যান। কোলের দুই সন্তানকে নিয়ে কিছু দিন বাবার বাড়িতে থাকেন তিনি। বাবার মৃত্যুর পর সুমি হয়ে পড়েন আশ্রয়হীন। দুই সন্তানকে নিয়ে চলে আসেন রাজশাহী।