করোনার কিট উদ্ভাবনে যে নারী ভারতকে পথ দেখালেন

নিউজ ডেস্ক:   নভেল করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে ভারতের লড়াইকে সহজ করে দিলেন ভাইরাস বিশেষজ্ঞ এক নারী। তার নাম মিনাল দাখেভে ভোঁসলে। তার নেতৃত্বে উদ্ভাবন হয়েছে করোনা পরীক্ষা কিট। করোনা মহামারিতে লকডাউন ভারতের কোনো চিকিৎসা বিজ্ঞানীর নেতৃত্বে এ ধরনের প্রথম সাফল্য এটি। এ কিটে সম্পূর্ণ নির্ভুল ফল পাওয়া যাচ্ছে। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাফল্যের গল্প শুনিয়েছেন দাখেভে ভোঁসলে।

মিনাল মহারাষ্ট্রের পুনের মাইল্যাব ডিসকভারির গবেষণা ও উন্নয়ন প্রধান। তিনি ভাইরাস বিশেষজ্ঞ। কীভাবে তিনি ও তার দল এ কিট উৎপাদনে সাফল্য পেলেন, এর বিবরণ উঠে এসেছে মিনালের মুখে। তিনি জানান, এমন কিট বানাতে সাধারণত তিন থেকে চার মাস সময় লেগে যায়। তবে দ্রুততম সময়ে কিট উদ্ভাবনের রেকর্ড গড়েছেন তারা। তাদের কিট তৈরিতে সময় লেগেছে মাত্র দেড় মাস। মিনালের দিক থেকে এ তাড়ার পেছনে ব্যক্তিগত একটি কারণও ছিল। তিনি ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা। এ মাসেই ছিল তার সন্তান জন্ম দেওয়ার তারিখ। তিনি চাইছিলেন সন্তান জন্ম দেওয়ার আগেই কাজটি শেষ করতে। শেষ পর্যন্ত তার ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। উদ্ভাবন করেছেন করোনার টেস্ট কিট। আর এ কিটের মাধ্যমে করোনাযুদ্ধে ভারতকে নতুন পথ দেখালেন এই নারী।

গত ফেব্রুয়ারিতে মিনাল ও তার টিম কাজ শুরু করে। দেড় মাসের মধ্যেই সাফল্য পেয়ে গেছেন। সাফল্যের বিষয়ে মিনাল বলেন, ‘একটা জরুরি পরিস্থিতি এলো। এ সময়ে আমি দেশের জন্য কিছু করার একটি চ্যালেঞ্জ নিলাম। এ সাফল্য পেতে আমাদের ১০ জনের দলটি কঠোর পরিশ্রম করেছে।’ ১৮ মার্চ মিনাল কিটটি পর্যালোচনা করার জন্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে (এনআইভি) জমা দেন। পরদিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন এবং ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে বাণিজ্যিক অনুমোদনের জন্য লিখিত প্রস্তাব পাঠান তিনি। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় তিনি হাসপাতালে যান। সেখানে অস্ত্রোপচারে তার কন্যাসন্তান হয়। যে কিটের জন্য মিনালের এতটা পরিশ্রম, এরই মধ্যে সেটি দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছে গেছে। একই কিট করোনাভাইরাসের পরীক্ষাও শুরু হয়ে গেছে।