নিম্নবিত্তের সকল ধরনের ঋণের কিস্তি মওকুফ করুন: গণফোরাম

নিউজ ডেস্ক :    গণফোরাম কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, প্রায় তিন মাস সময় পেলেও সরকার এই মহাবিপদ মোকাবেলায় প্রস্তুতিহীন। সর্বত্র সমন্বয়হীনতা প্রকট আকারে। আক্রান্ত রোগী সনাক্তকরণের পর্যাপ্ত উপকরণ নেই, নেই চিকিৎসকদের সুরক্ষা, পর্যাপ্ত মাস্ক, স্যানিটাইজার ও ভেন্টিলেটার! এই অবস্থায় ‘সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন’ বলে মিথ্যা সাফল্যের বন্দনায় মন্ত্রীদের বাগাড়ম্বর ও কর্মকর্তদের অসংলগ্ন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য দেশবাসীকে হতাশ করছে। দুর্যোগকালীন সময়ে নিম্নবিত্তের সকল ধরনের ঋণের কিস্তি মওকুফ করা, কৃষকদের প্রণোদনা এবং হৃদয়বান বাড়ীর মালিকদের মানবিক কারণে বাসা ভাড়া আদায় স্থগিত রাখার জন্য আবেদন জানাচ্ছি।দেশের ধ্বশে পড়া চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি ঘটানো ছাড়া আর উপায় নেই। জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই।

করোনার কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে অর্থনীতি, সব ক্ষেত্রেই। আকাশ ও সড়কপথ বন্ধের প্রভাব পড়ছে বাজারে। এই অবস্থায় বাজার-ব্যবস্থা আমলাতন্ত্র বেষ্টিত গণবিরোধী সরকার অতীতেও বাজারের অন্যায্যমূল্য বৃদ্ধি ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে, ভবিষ্যতে সফল হবেন এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।

করোনা ভাইরাসের কারণে উৎপাদন, আমদানি-রপ্তানি, স্বাস্থ্য খাত, অর্থায়ন, পর্যটন, প্রবাসী আয়, রাজস্ব, খাদ্য নিরাপত্তা, অনানুষ্ঠানিক খাত সবকিছুতেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আর্থিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে।

এই পরিপ্রেক্ষিতে করণীয় :

সর্বত্র বিনামূল্যে টেস্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় কিটসহ বিভিন্ন সামগ্রী সরবরাহ এবং তার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। মাস্ক, সাবান, স্যানিটাইজার যোগান নিশ্চিত রাখতে হবে। কিট তৈরীর কাঁচামাল আমদানির দ্রুত খালাস ও ট্যাক্স মওকুফের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কিট উৎপাদনে আগ্রহীদের প্রণোদনা দিতে হবে।

অতি দ্রুত ডাক্তার নার্স চিকিৎসা কর্মীসহ সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর্যুক্ত প্রশিক্ষনসহ সুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করতে হবে। ১৩ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্তব্যরত সেবাদানকারীদের দ্রুত প্রশিক্ষণ দিয়ে সনাক্তকরণ কীট সরবরাহ করতে হবে।

আয় রোজগার নেই এমন মানুষের জন্য বিনামূল্যে দুর্যোগকালিন সময়ে খাদ্যের ব্যবস্থা করতে হবে। দরিদ্র ও অতিদরিদ্রসহ উদ্বাস্ত, দিনমজুর, রিকশাওয়ালা, বস্তিবাসী, কারখানার শ্রমিক, ছোট ব্যবসায়ী, যাদের জীবিকা হুমকির মুখে তাদের জন্য প্রয়েজিনীয় খাদ্য ও আর্থিক প্রণোদনা দিতে হবে।

শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা যাতে থেমে না থাকে তার জন্য বিনা ব্যয়ে দ্রুত ইন্টারনেটভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা, ‘দূরনিয়ন্ত্রিত’ শিক্ষণ ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সমর্থণ ব্যতীত এই মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বিজয় অর্জন করা যাবে না। শিক্ষিত বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে যুববিগ্রেড তৈরি করা যেতে পারে।

দক্ষ মানব শক্তি গড়ে তুলতে হবে। সরকারের উচিৎ ট্রাস্কফোর্ট গঠন করে ঔষধ, খাদ্য ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে সকল মন্ত্রণালয়কে এক সাথে কাজ করতে হবে। বস্তিবাসী ও কাজে যারা যেতে পারছে না এমন ব্যক্তিদের সরকারী সহায়তা প্রদান করতে হবে এবং সেনাবাহিনীকে সারাদেশে ত্রাণ তৎপরতায় পূর্ণবাসন ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ সকলের উদ্দ্যেশে বলেন, জাতির এই দূর্যোগে গণফোরামের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে জনগণের পাশে থাকার আবেদন জানানো হয়েছে। তাছাড়া বৃত্তবানরা সামর্থ অনুযায়ী যেন এই মহামারী মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসেন তার আহ্বান জানান।

গণফোরামের পক্ষ থেকে লক্ষাধিক মাস্ক প্রদান করা হবে। তাছাড়া চাল, ডাল, আলু, ডিটারজেনসহ করোনা প্রতিরোধক নি¤œবিত্ত, বস্তিবাসী, দীনমুজুর, রিক্সাচালকসহ দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, মোস্তফা মহসীন মন্টু, অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ, এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, এডভোকেট জগলুল হায়দার আফরিক, এডভোকেট মহিউদ্দিন কাদির, এডভোকেট হেলাল উদ্দিন, খান সিদ্দিকুর রহমান, লতিফুল বারী হামিম, মোঃ আযাদ হোসেন, মোঃ নাসির হোসেন, আইয়ুব খান ফারুক, রওশন ইয়াজদানী, আতাউর রহমান, মোহাম্মদ উল্লাহ মধু, সানজিদ রহমান শুভ, মাওলানা নাজিম উদ্দিন আজহারী, মোঃ রুমি, মোঃ রিয়াজ প্রমূখ।