করোনা পরিস্থিতি শিথিল না হওয়া পর্যন্ত কিস্তি আদায় বন্ধ

নিউজ ডেস্ক :     করোনা থেকে বাঁচতে দোকানপাট, ব্যবসা অনেকাংশে বন্ধ করতে হচ্ছে। এতে দিনমজুররা শ্রম বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে ঋণগ্রস্তরা কিস্তি পরিশোধে হিমসিম খাচ্ছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় গুরুদাসপুরের সকল এনজিওকে রবিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রশাসন।

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে হলে সচেতনতার বিকল্প নেই। একসাথে বেশি মানুষের সমাগমের কারণেও করোনা ছড়াতে পাড়ে। তাই সকলকে কেনাকাটা থেকে শুরু করে সকল কাজে ঘরের বাহিরে কম বের হতে বলা হয়েছে। তাছাড়া করোনা রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোড় প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আশা, ব্র্যাক, গ্রামীণ, আভাসহ গুরুদাসপুরে প্রায় ২৬টি এনজিও ঋণ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এসব এনজিও থকে প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ বিভিন্ন মেয়াদে ঋণ সুবিধা নিয়েছেন। সপ্তাহের ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিনই এনজিও কর্মীরা কিস্তি আদায় করছিলেন। কিন্তু নিম্ন আয়ের মানুষের কাজ বন্ধ হওয়ায় তারা কিস্তি দিতে পারছিলেন না।

গুরুদাসপুরের বিয়াঘাট গ্রামের দিনমজুর হাজেরা বেগম, আক্তার বানুসহ অনন্ত দশজন বলেন, তারা দিনমজুর। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে গরু-ছাগল পালন করছেন। উপজেলা ছাড়াও উপজেলার বাহিরে তারা বিভিন্ন কাজ করে থাকেন। কিন্তু করোনা ভাইরাস আতঙ্কে গ্রামে এবং বাহিরে কোথাও কাজের জন্য যেতে পারছেন না। অথচ এনজিওগুলোকে ঠিকই কিস্তি দিতে হয়। এখন কিস্তি আদায় বন্ধ হওয়ায় তারা স্ততি পেয়েছেন।

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তমাল হোসেন জানান, যারা এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিলেন তাদের কিস্তি দিতে অসুবিধা হচ্ছিল। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় করোনা পরিস্থিতি শিথিল না হওয়া পর্যন্ত এনজিগুলোকে কিস্তি আদায় না করতে নির্দেশ দিয়েছেন নাটোরের জেলা প্রশাসক।