গৌরীপুরে বিদেশ ফেরত ১২০, হোম কোরেন্টাইনে ১৪

শফিকুল ইসলাম মিন্টু, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা: করোনা ভাইরাস সনাক্তের পর ১মার্চ থেকে ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১২০জন্য নারী-পুরুষ ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় এসেছেন। বিদেশ ফেরত এ ১২০ ব্যক্তির তালিকা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে রক্ষিত আছে। তাদের মধ্যে ১৪জনের হোম কোরেন্টাইন নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

উপজেলা নির্বাহী অফিসার, গৌরীপুর থানা ও স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী আগত প্রত্যেক ব্যক্তির স্থায়ী ঠিকানা গৌরীপুর হলেও তারা স¤প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছেন। তাদের মধ্যে ১নং মইলাকান্দা ইউনিয়নে-৮জন, ২নং গৌরীপুর ইউনিয়নে ও পৌরসভায় ৪৪জন, ৩নং অচিন্তপুর ইউনিয়নে ১৩জন, ৪নং মাওহা ইউনিয়নে-৭ জন, ৫নং সহনাটি ইউনিয়নে-৯ জন, ৬নং বোকাইনগর-১০জন, ৭নং রামগোপালপুর ইউনিয়নের-৫ জন, ৮নং ডৌহাখলা ইউনিয়নে-৭ জন, ৯নং ভাংনামারী ইউনিয়নের- ১২ জন, ১০নং সিধলা ইউনিয়নে- ৫ জন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেজুতি ধর বলেন, সম্প্রতি বিদেশ ফেরতদেরকে হোম কোরেন্টাইনে থাকার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। উপজেলা, পৌরসভা ও প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে মনিটরিং টিম গঠন করে দেওয়া হয়েছে। সেই টিম বিদেশ ফেরতদের খোজ খবর নিবে। তারা যদি হোম কোয়ারেন্টিসহ অন্যান্য নিয়ম কানুন না মানে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এক্ষেত্রে তিনি জনগণের সহযোগিতা কারমনা করেন।
গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ বোরহান উদ্দিন বলেন, বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের তালিকা অনুযায়ী সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে এবং তাদেরকে স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী হোম কোয়ারেন্টিনে ১৪ দিন অবস্থান করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পপ কর্মকর্তার ডা. রবিউল ইসলাম জানান, প্রত্যেক বিদেশ ফেরত ব্যক্তির বাড়িতে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা গিয়ে তাদেরকে বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে এবং সকলকেই হোম কোয়ারেন্টিনে অবস্থান করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ১৯মার্চ পর্যন্ত ১৪জন হোম কোরেন্টাইনে থাকা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ইতিমধ্যে অনেকেই ১৪দিনের সময়সীমা অতিক্রম করেছে।

তিনি আরো জানান, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৩০টি ওয়ার্ডে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্য পরিদর্শক ৩জন, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ৮জন, স্বাস্থ্য সহকারী ৩৮জন, কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডর ৩১জন কাজ করছে। ১মার্চ থেকে এ পর্যন্ত যারা বিদেশ থেকে এসেছেন তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব তথ্য যাছাই-বাচাই করে তাদেরকে হোম কোয়ারান্টাইনে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বা আক্রান্ত সন্দেহভাজন কোন রোগী এ উপজেলায় পাওয়া যায়নি। তবে একটি জরুরী মেডিকেল টিমও গঠন করা হয়েছে।

জাহিদ/ঢাকানিউজ২৪ডটকম।