করোনায় বন্ধ হলো দৌলতদিয়া যৌনপল্লী

নিউজ ডেস্ক: করোনাভাইরাস সংক্রমণের চরম ঝুঁকিতে থাকা দেশের সর্ববৃহৎ গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে সর্বসাধারণের যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৩টায় বন্ধ করে দেওয়া হয় পল্লীর প্রবেশ পথ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আশিকুর রহমান।

ঘিঞ্জি পরিবেশ, অল্প জায়গায় বেশি মানুষের উপস্থিতি, সেই সঙ্গে পল্লীর বাসিন্দাদের অসচেতনতায় প্রাণঘাতি এই ভাইরাস এখানে ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল।

জানা যায়, প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে হাজার হাজার মানুষ আসা-যাওয়া করে। এখানে আসা মানুষগুলো কে কোথা থেকে এসেছেন বা থাকছেন তার কোন সঠিক তথ্য জানা নেই কারো। সারা বিশ্বসহ বাংলাদেশেও করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলেও দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে মানুষের আসাযাওয়া ছিল নির্বিঘ্ন।

তবে শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে স্বাভাবিকের তুলনায় মানুষের উপস্থিতি বিছুটা কম দেখা গেছে। এ সময় কয়েকজন যৌনকর্মী বলেন, ‘আমরা পেটের দায়ে এখানে আছি। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ আসাযাওয়া করে। কে অসুস্থ আর কে সুস্থ, এটা বোঝাতো আমাদের পক্ষে সম্ভব না। তাই আমাদের কাছে যে আসে তাকেই তো ঘরে নিতে হয়। বর্তমানে করোনাভাইরাস আতঙ্কে এখানে লোকজনের সমাগম কমে গিয়েছে।’

নাম প্রকাশ না করে একাধিক যৌনকর্মী জানান, পুলিশ পল্লীতে খদ্দের আসা বন্ধ করে দেওয়ায় তারা চোখে অন্ধকার দেখছেন। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে তাদের না খেয়ে মরতে হবে। ঘর ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ কীভাবে চলবে তারা ভেবে পাচ্ছেন না। এসময় তারা দাবি করেন, বন্ধ করার সিদ্ধান্তের আগে তাদের খাওয়া-পড়া কিভাবে চলবে তার ব্যবস্থা করা উচিত ছিল।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল ফকীর বলেন, দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর ৬টি প্রবেশ পথের মধ্যে ৫টি পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়ার জন্য শুধুমাত্র একটি পথ খোলা রাখা হয়েছে। বন্ধকালীন সময়ে এখানকার বাসিন্দাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তাদের সহযোগিতা না করা হলে এখানে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

যৌনকর্মীদের নিয়ে কাজ করা বেসরকারী উন্নয়ন সংগঠন মুক্তি মহিলা সমিতির প্রকল্প কর্মকর্তা আতাউর রহমান খান মঞ্জু বলেন, যেভাবে সারা বিশ্বে করোনাভাইরাসের মতো মরণব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে তাতে করে দৌলতদিয়া যৌনপল্লী সবচেয়ে ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। অবস্থার বিবেচনায় বন্ধের সিদ্ধান্ত ঠিক আছে। তবে এখানকার শত শত বাসিন্দা আছে, যারা প্রতিদিন রোজগার করে প্রতিদিন খায়। তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা না করা গেলে তাদের বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে যাবে। এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসিফ মাহমুদ বলেন, দৌলতদিয়া যৌনপল্লী অবশ্যই চরম ঝুঁকির মধ্যে ছিল। এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। এ ব্যাপারে উপজেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটিতে আলোচনা হয়েছে।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আশিকুর রহমান জানান, আগামী ৫ এপ্রিল পর্যন্ত দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে সর্বসাধারনের যাতায়াত বন্ধ করা হয়েছে। এ পল্লীতে তালিকাভুক্ত ১ হাজার ৬শ জন যৌনকর্মী বসবাস করেন। বন্ধকালীন সময়ের জন্য প্রতিজনকে ১৫ কেজি চাল বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আগামী দু’এক দিনের মধ্যে তা বিতরণ করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এছাড়া বন্ধকালীন সময়ে বাড়িওয়ালাদের ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে বাড়িভাড়া না নেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো জানান, উপজেলার যে সকল বাড়িতে সদ্য দেশে ফেরা প্রবাসীরা আছে সে সকল বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইন সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়ে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবায়েত হায়াত শিপলু জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় দৌলতদিয়া যৌনপল্লী বন্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। পল্লীর বাসিন্দাদের মৌলিক চাহিদা কীভাবে পূরণ করা যায় তা বিবেচনা করা হচ্ছে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে পরিস্থিতি মোকাবেলা করা হবে।

জাহিদ/ঢাকানিউজ২৪ডটকম।