করোনা শনাক্তের কিট বানানোর অনুমতি পেল গণস্বাস্থ্য

নিউজ ডেস্ক :    মরণব্যাধী করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) শনাক্ত করার জন্য গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে কিট উৎপাদনের অনুমতি দিয়েছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ফরহাদ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও এ তথ্য জানানো হয়।

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘সরকারের ওষুধ প্রশাসন করোনাভাইরাস শনাক্তের কিট উৎপাদনের অনুমতি দিয়েছে। এই কিটের মাধ্যমে ১৫ মিনিটের মাধ্যমে জানা যাবে কোনো ব্যক্তি করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়েছেন কি না।’ আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই কিট বাজারজাত করা হতে পারে বলে বলেও জানান তিনি।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা আরও বলেন, ‘এই কিটের কাঁচামাল যুক্তরাজ্য থেকে আসতে সাতদিনের মতো সময় লাগবে। কাঁচামাল এলেই আমরা উৎপাদনে যাবো। প্রথম দফায় এক লাখ কিট উৎপাদন করা হবে। ১০ লাখ টাকার কাঁচামাল লাগবে। প্রতিটি কিটের দাম হতে পারে ২০০ টাকার মতো। তবে এই কিট সরকারের কাছে বিক্রি করা হবে, জনসাধারণের কাছে নয়।’

এর আগে গতকাল বুধবার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র এ কিট তৈরির ঘোষণা দেয়। করোনাভাইরাস শনাক্তের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন ড. বিজন কুমার শীল। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশে আবিষ্কৃত রোগ নির্ণয় প্রক্রিয়ার জন্য নতুন পথ তৈরি করে দেওয়াটা খুব জরুরি বলে মনে করে গণস্বাস্থ্য।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র জানায়, গণস্বাস্থ্য-আরএনএ বায়োটেক লিমিটেডের গবেষক দল ফেব্রুয়ারি থেকে এই কিটের ডিজাইন এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছেন। এ প্রযুক্তির ব্যাপারে পুরো গবেষক দলের সরাসরি কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। এর আগে ২০০৩ সালে র‍্যাপিড ডট ব্লট সার্স পিওসি কিট তৈরি দলের সদস্য ছিলেন ড. বিজন কুমার শীল। ওই কিটটি সিঙ্গাপুরে পেটেন্ট করা হয়েছিল। এবার করোনার কিট তৈরির জন্য গঠিত গবেষক দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিজন কুমার।

এদিকে দেশে নতুন করে তিনজনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। আক্রান্তদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও একজন নারী। জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। এই নিয়ে দেশে এই ভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৭ জনে। এর আগে গতকাল মারণব্যাধী এই ভাইরাসে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানায় আইইডিসিআর।