বঙ্গবন্ধুর সততা ও ত্যাগের আদর্শ …….. ..

ড. নজরুল ইসলাম :     বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বহু অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে এবং বহু তৎপরতা পরিচালিত হচ্ছে। এটা হওয়ারই কথা ও হওয়া উচিত। বাংলাদেশের ইতিহাসের একটা পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর অবদান অস্বীকার কিংবা খাটো করে দেখার প্রয়াস পরিচালিত হয়েছিল। কিন্তু হীরকের দ্যুতি যেমন নিভিয়ে দেওয়া যায় না কিংবা কস্তুরির গন্ধ যেমন আড়াল করা যায় না, তেমনি বঙ্গবন্ধুর গুণাবলি এবং অবদান অস্বীকার কিংবা খাটো করে দেখার এসব প্রয়াস শেষাবধি সফল হয় না। বিশেষত বঙ্গবন্ধু রচিত ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ এবং বঙ্গবন্ধুবিষয়ক পুলিশের নথিপত্র প্রকাশিত হওয়ার পর বঙ্গবন্ধুর বহুবিধ ও বিস্ময়কর গুণাবলি আরও উজ্জ্বলতার সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে।

সুতরাং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী যে ব্যাপকভাবে উদযাপিত হবে, সেটাই প্রত্যাশিত ও স্বাভাবিক। বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম থেকে জাতিকে ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা পেতে হবে। বিশেষত, তরুণ প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে আরও জানতে হবে এবং তাঁর দ্বারা অনুপ্রাণিত হতে হবে। সে জন্য বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ব্যাপকভাবে পালিত হওয়া প্রয়োজন।

দুঃখজনক হলেও সত্য, বঙ্গবন্ধুর শতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলো বহুলাংশে আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তা বঙ্গবন্ধুর জন্য অমর্যাদাকর ঘটনাবলিরও জন্ম দিচ্ছে। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, কোনো এক সরকারি দপ্তর তাদের টিস্যু পেপার বাক্সে বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহারকে তাঁর জন্মশতবার্ষিকী পালনের একটি উপায় হিসেবে দেখেছে! অনেক ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলো আয়োজকদের বিভিন্ন স্বার্থসিদ্ধির উপায় হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। আরও যেটা দুঃখজনক, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে ঠিকই; কিন্তু প্রকৃত অর্থে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অনুসরণের তেমন কোনো জোরালো প্রয়াস লক্ষ্য করা যায় না।

ধরা যাক, বঙ্গবন্ধুর চরিত্রের নির্লোভ ও ত্যাগের দিকের কথা। তিনি তাঁর পুরো জীবনটাই উৎসর্গ করেছিলেন দেশ ও দশের জন্য। তিনি কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন পাকিস্তান আন্দোলনে। ভেবেছিলেন পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হলে বাংলার দরিদ্র মুসলমান কৃষকদের মুক্তি আসবে। দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানে এসে তিনি নেমে পড়েন ‘দাওয়াল’দের পক্ষে। দাওয়ালরা ছিল কৃষি মজুর, যারা এক জেলা থেকে অন্য জেলায় ঘুরে বেড়াত কাজের সন্ধানে। তাদের এই বিপন্ন অবস্থার সুযোগ নিয়ে নিয়োজনকারীরা প্রায়ই তাদেরকে ঠকাত। বঙ্গবন্ধু সচেষ্ট হলেন, যাতে তারা এরূপ ঠগবাজির শিকার না হয়।

এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হলেন, যাতে পাস করে ওকালতি পেশার মাধ্যমে ভবিষ্যতে জীবিকা নির্বাহের একটা বন্দোবস্ত করা যায়। কিন্তু অচিরেই তিনি শরিক হলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া আদায়ের সংগ্রামে। সে কারণে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কৃত হলেন। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আরও কয়েকজন একই কারণে বহিস্কৃত হয়েছিলেন। তারা প্রায় সবাই মুচলেকা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরত আসেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু মুচলেকা দিতে অস্বীকৃত হলেন এবং সে কারণে তাঁর আর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরত আসা হলো না। ওকালতি পেশার মাধ্যমে একটা নির্ভরশীল জীবিকা নিশ্চিত করাও হলো না।

পাকিস্তান আমলেই বঙ্গবন্ধু দু’বার মন্ত্রী হয়েছিলেন। প্রথমবার ১৯৫৪ সালে নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের পর গঠিত শেরেবাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হকের মন্ত্রিসভায় কৃষিমন্ত্রী হিসেবে। দ্বিতীয়বার ১৯৫৬ সালে আতাউর রহমান খানের মন্ত্রিসভায় শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও গ্রাম সহায়তা বিষয়ক দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবে। কিন্তু অচিরেই ১৯৫৭ সালে তিনি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন দল গঠনের কাজে সার্বক্ষণিকভাবে আত্মনিয়োগ করার জন্য।

পাকিস্তান আমলের বেশিরভাগ সময় তাঁকে থাকতে হয়েছে জেলে অথবা আত্মগোপনে। অনেক সময় এক জেলখানা থেকে ছাড়া পেয়ে বেরোলে সেই জেলগেটেই পুনরায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। বরিশালের মহিউদ্দিন আহমদের সঙ্গে কারাগারে একযোগে অনশন করতে গিয়ে মৃত্যুর মুখে উপনীত হয়েছিলেন। জায়া-পুত্র-কন্যা নিয়ে নিরিবিলি সময় কাটানোর সুযোগ তিনি পাননি।

দু’বার মন্ত্রী হয়েও ঢাকা শহরে বঙ্গবন্ধুর কোনো বাড়িঘর ছিল না। অথচ সরকারবিরোধী রাজনীতি করার কারণে অনেক মালিক তাঁর পরিবারকে বাড়ি ভাড়াও দিতে চাইতেন না। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও বঙ্গবন্ধু ধানমন্ডিতে কোনো জমি বরাদ্দ নিতে চাননি। মূলত বেগম মুজিবের উদ্যোগে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের একটি পল্গট তাঁর হয়; সেটাও ছিল ১০ কাঠার, যেখানে বেশিরভাগের পল্গট ছিল ২০ কাঠার। বেগম মুজিব সে পল্গটে কয়েক ধাপে একটি বাড়ি বানান হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের ঋণ নিয়ে। এই ছিল বঙ্গবন্ধুর জীবন ও ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল। আজ যারা নিজেদের বঙ্গবন্ধুর অনুসারী বলে দাবি করেন এবং সাড়ম্বরে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন করছেন, তাদের ক’জনের বঙ্গবন্ধুর এই ত্যাগ ও সততার কথা মনে পড়ে? অবস্থাদৃষ্টে পরিস্কার, খুব বেশি জনের না।

সাম্প্রতিককালের বিভিন্ন উদ্ঘাটন ও উন্মোচনের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর অনেক তথাকথিত অনুসারীর কপটতা আরও প্রকাশ্য হয়েছে। ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির খবরের ধকল কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই নরসিংদীভিত্তিক দম্পতির কর্মকাণ্ডের উন্মোচন পুনরায় সবাইকে বঙ্গবন্ধুর কথিত অনুসারীদের অনেকের অধঃপতনের মাত্রা অনুধাবন করতে বাধ্য করেছে। অসৎ উপায়ে বিত্তশালী হওয়ার বল্কগ্দাহীন প্রতিযোগিতা যেন চলছে এখন! এরা কি কেউ বঙ্গবন্ধুর নির্লোভ ও ত্যাগী চরিত্র দ্বারা অনুপ্রাণিত হচ্ছে? স্বেচ্ছায় মন্ত্রী পদ ছেড়ে দিয়ে দল গঠনে মনোনিবেশ করার মতো কাউকে এখন পাওয়া যাবে কি? আজকাল বরং দেখা যায়, বঙ্গবন্ধুর অনুসারী বলে দাবিদার অনেকে পদবঞ্চিত হলে আমরণ অনশন করছেন পদ পাওয়ার জন্য! এখনকার সাংসদদের প্রথম কাজই হলো ঢাকায় পল্গট পাওয়া ও শুল্ক্কমুক্ত গাড়ি আমদানি করা।

সরকারের বিভিন্ন নীতিমালা কি এই অধঃপতনের জন্য সহায়ক হচ্ছে? ব্যাংকসহ অর্থসংস্থান খাতকে অসৎ ব্যবসায়ীদের দ্বারা লোপাট করে দেওয়াকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে কি? পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২০০৯ সালের ২২,৪৮০ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৯ সালে এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। জিডিপির অনুপাত হিসেবে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের মাত্রার স্থবিরতার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি বিনিয়োগের (তথা বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা, সংক্ষেপে এডিপির) পরিমাণ ক্রমাগতভাবে বাড়িয়ে প্রায় পাঁচ লাখ কোটি টাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিন্তু প্রকল্পগুলোর বিস্ময়কর ব্যয় বৃদ্ধি; বিভিন্ন সড়ক নির্মাণে মাইলপ্রতি খরচের অবিশ্বাস্য পরিমাণ এবং সম্প্রতি উন্মোচিত বালিশ কেলেঙ্কারি, পর্দা কেলেঙ্কারি ও অন্যান্য কেলেঙ্কারির আলোকে পরিস্কার যে, এই বিনিয়োগের একটা বড় অংশ অসৎভাবে আত্মসাৎকৃত হচ্ছে। ফলে তা বিদেশে পাচার হচ্ছে।

গেল্গাবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫ সালে শুধু বৈদেশিক বাণিজ্যের ইন-ভয়েসিংয়ে কারচুপির মাধ্যমে দেশ থেকে ৫.৯ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। হুন্ডি ও অন্যান্য পদ্ধতিতে টাকা পাচারকে আমলে নিলে এই পরিমাণ আরও অনেক বেশি হবে সন্দেহ নেই। সুতরাং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা ত্যাগ দূরে থাক বরং অসৎ উপায়ে অর্থ এবং বিত্ত অর্জনের সংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে কিংবা এমনকি উৎসাহিত করছে বলে প্রতিভাত হচ্ছে। অথচ উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধির জন্য সরকারকে ঋণ করতে হচ্ছে। সেই পুঞ্জীভূত ঋণের সুদ পরিশোধের জন্য এখন বাজেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ব্যয় করতে হচ্ছে।

আজ যখন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে, তখন সমাজ ও অর্থনীতি থেকে কেন বঙ্গবন্ধুর সততা ও ত্যাগের আদর্শ উৎপাটিত হয়ে বরং অসৎ উপায়ে বিত্তবান হওয়ার অপসংস্কৃতি জাঁকিয়ে বসেছে, সে প্রশ্নটি কি এই উদযাপনের কোনো সভায় উত্থাপিত ও আলোচিত হচ্ছে? অথচ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে এটাই কি অন্যতম অন্তর্নিরীক্ষণমূলক করণীয় হওয়া উচিত ছিল না? বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন নিয়ে সঠিক প্রয়াস এবং আন্তরিকতার অভাবের আরেক দৃষ্টান্ত দেখা যায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন নিয়ে। নিঃসন্দেহে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল সুখী, সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন শুধু এটুকুতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি চেয়েছিলেন দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে। সে লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু মৃত্যুর কয়েক মাস আগে, ১৯৭৫ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের জনসভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থ-সামাজিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন। সেটা ছিল- গ্রামগুলোকে সমবায় হিসেবে পুনর্গঠনের কর্মসূচি। ১৫ আগস্ট সপরিবারে শহীদ হওয়ার কারণে বঙ্গবন্ধু সে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারেননি। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর এসব অসমাপ্ত কর্মসূচির পুনর্নিরীক্ষণ কি তাঁর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের আরেকটি অন্যতম করণীয় হতে পারে না?

নিশ্চয়ই ১৯৭৫ আর ২০২০ সাল এক নয়। এর মধ্যে বাংলাদেশের পরিস্থিতি বদলে গেছে। আরও পাল্টে গেছে বিশ্ব পরিস্থিতি। বঙ্গবন্ধুর সমবায় প্রস্তাবনাকে নিশ্চয়ই যুগোপযোগী করে নিতে হবে। যেমন- বঙ্গবন্ধুর প্রস্তাবনায় ছিল গ্রামের জমির যৌথ চাষের কথা। কিন্তু ১৯৭৫-পরবর্তী আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে, নিম্ন প্রযুক্তির পর্যায়ে জমির যৌথ চাষ দক্ষ হতে পারে না। সুতরাং যৌথ চাষের বিষয়টি সঙ্গত কারণেই বাদ দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু যৌথ চাষ ছাড়াও বঙ্গবন্ধুর সমবায় প্রস্তাবে ছিল আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। যেমন- একটি উপাদান ছিল গ্রামের নিজস্ব সম্পদের ভিত্তিতে ‘গ্রাম তহবিল’ গঠনের প্রস্তাব। ঘনিষ্ঠ পর্যালোচনা থেকে দেখা যায়, গ্রামকে যদি একটি বহুমুখী সমবায় হিসেবে পুনর্গঠিত করা যায়, তার ফলে গ্রামের বস্তু ও শ্রম সম্পদের আরও পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার অর্জন করা সম্ভব। ফলে বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়া আরও স্বয়ম্ভর, গণমুখী ও সমতাধর্মী হতে পারে।

সর্বোপরি, সমবায়ী গ্রাম বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার কাঠামোর সর্বনিম্ন ধাপ হিসেবে কাজ করতে পারে। বাংলাদেশের নিজস্ব ঐতিহ্য ও প্রতিবেশী দেশগুলোর উদাহরণের আলোকে বাংলাদেশে গ্রাম পর্যায়ে স্থানীয় সরকার কাঠামোর অনুপস্থিতি বিশেষভাবে বিয়োগান্ত।

আজ যখন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছে, তখন অন্যতম করণীয় হতে পারে, গ্রাম সমবায় সংক্রান্ত তাঁর প্রস্তাবটিকে পুনর্জাগরিত করা; অভিজ্ঞতার আলোকে সেটিকে পুনর্নিরীক্ষিত করা ও যুগোপযোগী করা। তারপর সেটাকে বাস্তবায়নে এগিয়ে যাওয়া। সেটাই হতে পারে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধুর প্রতি সম্মান জানানোর একটি যথার্থ উপায়। সুতরাং আজ প্রয়োজন বঙ্গবন্ধুর সততা, ত্যাগ, দেশপ্রেম ইত্যাদিকে সত্যিকার অর্থে নিজেদের মধ্যে ধারণ করায় প্রয়াসী হওয়া। আজ প্রয়োজন বঙ্গবন্ধুর যেসব অসমাপ্ত কর্মসূচি, সেগুলোকে যুগোপযোগী করে বাস্তবায়নে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। নইলে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালনের কর্মসূচিগুলো বহুলাংশে আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা। তাতে হয়তো অনেক প্রশস্তি উচ্চারিত হবে; কিন্তু যে কারণে প্রশস্তির উচ্চারণ সেটাকেই যথার্থ মূল্য দেওয়া হবে না। এরূপ পরিস্থিতির প্রতি ইঙ্গিত দিয়েই রবীন্দ্রনাথ লিখে গিয়েছেন- ‘তোমার পূজার ছলে তোমায় ভুলেই থাকি’। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে তেমন কিছু হবে না, সেটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা।

অর্থনীতিবিদ ও পরিবেশবিদ