কুড়িগ্রামে সাংবাদিক আরিফের জামিন

নিউজ ডেস্ক :     কুড়িগ্রামের সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেছেন অতিরিক্ত জেলা মেজিস্ট্রেট কোর্ট। আজ রোববার সকালে তার জামিন আদেশ দেয়া হয়। আরিফুল ইসলামের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন জানান, ২৫ হাজার টাকা জামানত রেখে আরিফকে জামিন দেয়া হয়েছে। তবে মামলাটির আপিল চলমান।

এদিকে, আরিফের বড় বোন রিমা আক্তার জানিয়েছেন, পরিবারের পক্ষ থেকে জামিনের বিষয়টি তারা মেনে নিতে পারছেন না। তারা আরিফের জামিন আবেদন করেননি। তারা আরিফের জামিন চান না, নিঃস্বার্থ মুক্তি চান।

প্রসঙ্গত, কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে সংবাদ লিখে রোষানলে পড়েছেন সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যান। কুড়িগ্রামের নিজ বাড়ি থেকে বাংলা ট্রিবিউন ও ঢাকা ট্রিবিউনের ওই সাংবাদিককে তুলে নিয়ে একবছরের জেল দিয়ে জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট। শুক্রবার (১৩ মার্চ) দিবাগত রাতে আরিফুলকে জেলে পাঠানো হয়।

জানা গেছে, কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে নিজ নামে পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে- এমন একটি প্রতিবেদন লেখেন আরিফুল। এছাড়া সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের নিয়োগ অনিয়ম নিয়েও প্রতিবেদন করেন তিনি। এতে তার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ছিলেন ডিসি।

ডিসি সুলতানা পারভীন গণমাধ্যমকে জানান, মধ্যরাতে আরিফুলের বাসায় অভিযানের বিষয়টি পূর্বপরিকল্পিত ছিল। অন্যান্য অভিযানের মতোই এ অভিযান চালানো হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী বাড়িটি তল্লাশি করে অবৈধ দ্রব্যাদি পাওয়া গেছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের পক্ষ থেকে আরিফুলের কাছে মাদক থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে তার পরিবার।

আরিফুলের পরিবার সূত্র জানা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে দুই থেকে তিনজন ম্যাজিস্ট্রেটসহ ১৫-১৬ জন আনসার সদস্য দরজা ভেঙে আরিফুলকে মারতে থাকে। পরে তাকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাকে সরাসরি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাত ২টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে “মাদক পাওয়া গেছে” অভিযোগ এনে রাত আড়াইটার দিকে কুড়িগ্রাম কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয় আরিফুলকে।