কিডনি রোগ নীরব ঘাতক

সুমন দত্ত: কিডনি মানব দেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এই অঙ্গ ছাড়া দেহের কাজ চলে না। বর্তমান বিশ্বে হু হু করে বাড়ছে কিডনি রোগীর সংখ্যা। ২৪ বছর আগে পৃথিবীতে কিডনি রোগের অবস্থান ছিল ২৭তম। ২০২০ সালে এর অবস্থান ৬ষ্ঠতম। অনুমান করা হচ্ছে ২০৪০ সালে ৫ম স্থানে জায়গা করে নেবে কিডনি রোগের অবস্থান। নীরব ঘাতক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে এই কিডনি রোগ। বিশ্বে ৮৫ কোটির অধিক লোক কিডনি রোগে আক্রান্ত। বাংলাদেশে ২ কোটির অধিক লোক কিডনি রোগে আক্রান্ত। কিডনি চিকিৎসা ব্যয়বহুল। ১০ পারসেন্ট লোকও টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে পারে না। আর কিডনি ৭০-৮০ পারসেন্ট নষ্ট হয়ে যাওয়ার পরও লক্ষণ প্রকাশ পায় না। যে কারণে একে নীরব ঘাতক বলা হয়েছে।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ক্যাম্পস আয়োজিত কিডনি বিষয়ক এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম এ সামাদ। এদিন তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, সাবেক ক্রিকেটার গাজী আশরাফ হোসেন লিপু, চলচ্চিত্র খলনায়ক মিশা সওদাগর, অধ্যাপক ডা, রফিকুল আলম প্রমুখ। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন ডা. এম এ সামাদ।

ডা. এম এ সামাদ বলেন, আগামী ১২ মার্চ বিশ্ব কিডনি দিবস উদযাপন করা হবে। এবারের বিশ্ব কিডনি দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো কিডনি স্বাস্থ্য সবার জন্য সর্বত্র প্রতিরোধ, সনাক্তকরণ ও চিকিৎসায় সমান সুযোগ। গুরুত্ব দেয়া হয়েছে প্রাথমিক অবস্থায় কিডনি রোগ সনাক্ত করে কিডনি বিকলের গতি কমিয়ে আনা। ধনী গরিব সবাই কিডনি রোগের চিকিৎসা পেতে পারে সেই সুযোগ সৃষ্টি করা ।

সাইফুল আলম বলেন, কিডনি রোগের চিকিৎসা সহজ লভ্য কেন করা যাবে না। সরকারকে এবং চিকিৎসকদের এই বিষয়ের ওপর গবেষণা করতে হবে। তিনি আরো বলেন, একটা সময় পোলিও, কলেরা, হাম, গুটি বসন্ত মহামারী আকারে ছিল। ওষুধ আবিষ্কারে এসব রোগ এখন নাই। কিডনি রোগের চিকিৎসাও এমন হওয়া উচিত।

স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, তিনি তার অফিসে কিডনি রোগ পরীক্ষার ব্যবস্থা করবেন। এই সেবা তার কর্মচারীরা পাবে। সবাইকে এই ব্যবস্থা শুরু করার পরামর্শ দেন তিনি।

মিশা সওদাগর বলেন, কিডনি রোগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির ক্যাম্পসের এই উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান। ক্যাম্পসের সঙ্গে তিনি আজীবন জড়িয়ে থাকতে চান। তার পরিবারের বেশিরভাগ সদস্য চিকিৎসক। এ কারণে নিজেকে রোগী ভাবেন তিনি। কিডনি সম্পর্কে কোনো ম্যাসেজ দিতে যদি চলচ্চিত্রের জগতের কারো সহযোগিতা লাগে,তবে তিনি তা করে দেবেন বলে জানান।

গাজী আশরাফ হোসেন লিপু বলেন, তিনি কিডনি রোগে আক্রান্ত। তবে চিকিৎসা নিয়ে ভালো আছেন। ক্রিকেটারদের দিয়ে কিডনি রোগের ক্যাম্পেইন চালাতে চান তিনি।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম