নারীরা পিছিয়ে নয় বরং নির্যাতনকারী

সুমন দত্ত: নারী দিবসে নারীদের নানা লেখা পড়লাম। অধিকারের কথা ফলাও করে বলছেন সবাই। এমনকি দিবসের প্রভাবে অনেক লুইচ্চা নারী নির্যাতনকারী পুরুষও নারীর সম অধিকারের কথা বলে ডিজিটাল মাধ্যম ফাটিয়ে ফেলছে। আজকের দিনে নারীদের যে অবস্থান, সেটা দেখে কেউ কি হলফ করে বলতে পারেন নারীরা পিছিয়ে? নারীরা শুধুই নির্যাতিত। নারীরা ঘরের চার দেয়ালে বন্দি। এসব গতবাধা কথা বলে যারা সভা সেমিনার গরম করেন, তারা আমার দৃষ্টিতে ভণ্ড।

নারীদের বিচরণ এখন সমাজের সব জায়গায়। সমাজের এমন কোনো স্থান নেই যেখানে নারীর পা পড়েনি। নারীদের স্বাধীনতা দেয়ার কারণে তারা এমনটা করতে পেরেছে। সমাজ তাদেরকে আটকে রাখেনি। এখনকার সমাজ নারী শাসিত সমাজ। যার ফলে সমাজে পুরুষ নির্যাতনের চিত্র ভয়াবহ রুপে দেখা দিয়েছে।

ব্রিটিশ আমলে নারীরা ঘর সামলাতো। আর পুরুষরা বাহির। ২০২০ সালে এই চিত্র পাল্টে গিয়েছে। এখন নারীরা বাহির সামাল দেয় আর ঘর সামলায় কাজের বুয়া। এ কারণে এখনকার ছেলে মেয়েরা বাপ মায়ের চরিত্র পায় না। পায় কাজের বুয়ার চরিত্র। এটাই এখন বাস্তবতা।

সমাজে বহু ছেলে আজ বেকার। এর কারণ নারীরা ছেলেদের কাজ গুলো নিয়ে নিচ্ছে। আগে নারীরা ব্যাংক, বিমা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করত না। এখন এসব প্রতিষ্ঠানে সিংহভাগই নারী। গার্মেন্টস শিল্পে নারী ছাড়া অন্য কোনো প্রজাতিকে দেখা যায় না। গণমাধ্যম কর্মীদের মধ্যে নারীদের কাজ করতে দেখা যায়। ঝানু পুরুষ সাংবাদিকদের প্রেস ক্লাবে কাজ নাই বলে হা হুতাশ করতে দেখা গেলেও কোনো নারী সাংবাদিককে বেকার থাকতে দেখা যায় না। তাদের চাকরি সব সময় থাকে। এর মোজেজা কি , এই পেশার নারীরাই বলতে পারবে।

নারীরা স্বাধীন বলেই রাস্তার গাঞ্জাখোর ছেলের সঙ্গে ভেগে বিয়ে করতে পারে। বাপ মায়ের মুখে চুনকালি মাখাতে পারে। নারীরা স্বাধীন বলেই সমাজে মক্ষীরানি তৈরি হয়। এদের নিয়ে তৈরি হয় মক্ষী বাহিনী। কোনো এক সাংবাদিক, সমাজের এই চিত্র দেখে মক্ষীরানিকে সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বাংলাদেশের সংবিধানে বলা আছে রাষ্ট্র গনিকাবৃত্তি কম করার চেষ্টা করিবে। তার মানে গনিকাবৃত্তি সমাজে থাকবে। এটা দেশের সংবিধানই মেনে নিয়েছে। তাই এই মক্ষীরানি পেশা অবৈধ নয়। নারীবাদীরা ভণ্ড। ক্ষেত্র বিশেষে তারা চায় সম অধিকার। আবার ক্ষেত্র বিশেষে তারা চায় বিশেষ কোটা। যেমন বাসে উঠলে আপনি দেখবেন, নারীরা নিজেদের সংরক্ষিত আসনে বসে আছে, আবার পুরুষদের আসনেও বসে আছে। এসব দেখে আবার কিছু শয়তান পুরুষ আগে থেকেই নারীদের আসন দখল করে রাখে। বাস কনটেকটারকে বলে দেয় রাস্তা থেকে নারী যাত্রী উঠাবি না। বাস কন্টাক্টরও তাই করে।

সরকার নারীদের রক্ষায় ও অধিকার বাস্তবায়নে নারী ও শিশু আদালত খুলেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখানে নারীরা মিথ্যা মামলা দিয়ে পুরুষদের সামাজিক ও মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছে। নারী নির্যাতনের অধিকাংশ অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়। আর যারা সত্যিকারের নারী নির্যাতনের শিকার হোন, তারা আদালতের দোরগোড়ায় যেতে পারে না। এটাই বাস্তব চিত্র।

লেখক: সাংবাদিক