পিরোজপুরের জেলা জজকে বদলি কেন অবৈধ নয় : হাইকোর্ট

নিউজ ডেস্ক:    পিরোজপুরে জেলা ও দায়রা জজ মো. আবদুল মান্নানকে তাৎক্ষণিক বদলি (স্ট্যান্ড রিলিজ) কেন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে আনার পর বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিবের বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ রুল জারি করেন।

আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও উপসচিবকে (প্রশাসনিক-১) এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতের এই বেঞ্চে দৈনিক আমাদের সময়সহ তিনটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে আনেন ব্যারিস্টার আবদুল কাইয়ুম ও ইউনুছ আলী আকন্দ।

আদেশের পর এই বেঞ্চের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) অমিত দাশ গুপ্ত সাংবাদিকদের বলেন, ‘পিরোজপুরের জেলা ও দায়রা জজকে বদলি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত রুলের আবেদন জানানো হয়। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আদালতকে বলা হয়, দুজন আইনজীবী যদি এই ঘটনায় সংক্ষুব্ধ হন, তাহলে তারা সংবিধান অনুযায়ী লিখিত আবেদন করতে পারেন। আর প্রকৃত ঘটনা কী, সেটা খবর নিয়ে জানাবেন। এ সময় আদালতে উপস্থিত থাকা সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ হাসান আরিফের মতামত নেন হাইকোর্ট। আদালত বক্তব্য শুনে রুল জারি করেন।’

গতকাল মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে পিরোজপুর জেলা জজ আদালতে আউয়াল ও তার স্ত্রী লায়লা পারভীন জামিনের আবেদন করেন। বিচারক আবদুল মান্নান জামিন নামঞ্জুর করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর তাকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার আদেশ দেওয়া হয়। ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজের দায়িত্ব দেওয়া হয় যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ নাহিদ নাসরিনকে। জামিন আবেদন খারিজের মাত্র চার ঘণ্টা পর বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিন বাতিলের আদেশ পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন জানালে বিচারক আউয়াল দম্পতির জামিন মঞ্জুর করেন। এ নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।

আজ সকালে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন, আইনজীবী শিশির মনির ও ব্যারিস্টার আবদুল কাইয়ুম লিটন হাইকোর্টের পৃথক দুটি বেঞ্চে এ সংক্রান্ত প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে আনেন। আইনজীবী শিশির মনির ও ব্যারিস্টার আবদুল কাইয়ুম লিটন নজরে আনার পর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ বলেন, ‘এটা প্রধান বিচারপতির নজরে আনেন। কী হয়েছে আমরা জানি না। প্রধান বিচারপতি জিএ (জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) কমিটির প্রধান। তিনি বিষয়টি দেখবেন।’

এদিকে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বিষয়টি বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলমের বেঞ্চের নজরে আনেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘চার ঘণ্টার মধ্যে জেলা জজকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা। রিলিজ করে তার অধীনস্থ একজন যুগ্ম জেলা জজকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু সারা দেশে যারা জেলা জজ আছেন তারা মানসিকভাবে কী চিন্তা করছেন। এটা নজরে আনছি। আমি বলেছি, প্রধানমন্ত্রী যে চেষ্টাটা করে যাচ্ছেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য যতটুকু পারা যায়, চেষ্টাটার মধ্যে এটা কি একটা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে না? এটা সরকারকে কি বিব্রত করছে না? আমি বলেছি, এটা আপনারা (হাইকোর্ট) ইন্টারফেয়ার (হস্তক্ষেপ) করলে করতে পারেন। তখন আদালত জেনারেল রিট করতে বলেছেন।’

প্রসঙ্গত, দুর্নীতির অভিযোগে পিরোজপুর-১ (পিরোজপুর-নাজিরপুর-নেছারাবাদ উপজেলা) আসনের সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আউয়াল ও তার স্ত্রী পিরোজপুর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী লায়লা পারভীনের বিরুদ্ধে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আলী আকবর বাদী হয়ে বরিশাল দুদক কার্যালয়ে তিনটি মামলা করেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, মামলাগুলোর মধ্যে একটিতে আউয়াল ও তার স্ত্রী লায়লাকে আসামি করা হয়েছে। বাকি দুটিতে কেবল আউয়ালকে আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর তারা গত ৭ জানুয়ারি হাইকোর্টে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন জানালে একটি বেঞ্চ তাদের আট সপ্তাহের আগাম জামিন দেন। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ায় মঙ্গলবার পিরোজপুরের জেলা জজ আদালতে জামিনের আবেদন করেন। সেখানে প্রথম দফায় জামিন না পেলেও দ্বিতীয় দফা জামিন পান।