বিদ্যুতের দাম কমানো সম্ভব, কমাতে হবে: জাতীয় কমিটি

নিউজ ডেস্ক:     বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করার দাবি জানিয়ে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি বলেছে, বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে কমানো সম্ভব। শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কমিটির পক্ষ থেকে এ কথা বলা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘আবার গতকাল ২৭ ফেব্রুয়ারি সরকারের নির্দেশে বিইআরসি গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দামবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। এটি গণশুনানিতে প্রদত্ত তথ্য, যুক্তি এবং প্রাপ্ত ফলাফলের পরিপন্থী। …সরকার তার মহাপরিকল্পনা (পিএসএমপি ২০১৬) অনুযায়ী দেশের গ্যাস অনুসন্ধান স্থগিত করে এলএনজি-কয়লা আমদানির পথ ধরেছে, দেশ বিনাশী ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে যাচ্ছে, ব্যয়বহুল কুইকরেন্টাল বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে। জাতীয় সক্ষমতা বিপর্যস্ত করে সরকার একদিকে সাগরের গ্যাস রপ্তানির বিধান রেখে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করছে, অন্যদিকে গ্যাস সঙ্কটের অজুহাতে সুন্দরবন বিনাশী প্রকল্প, ভয়ংকর ঝুঁকি ও বিপুল ঋণের রূপপুর প্রকল্পের উদ্যোগ নিচ্ছে।’

এতে বলা হয়, ‘তেল-গ্যাস খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি কমদামে পরিবেশসম্মতভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিকল্প মহাপরিকল্পনা উপস্থিত করা সত্ত্বেও তাতে কান না দিয়ে সরকার তার মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী বিদ্যুৎ খাতকে ক্রমাগত কিছু দেশি-বিদেশি গোষ্ঠীর ডাকাতি ব্যবসার খাতে পরিণত করছে। তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়েই বারবার বাড়ানো হচ্ছে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম।’

বাপেক্সকে বাদ দিয়ে দ্বিগুণ খরচে বিদেশি কোম্পানিকে কাজ দেওয়া হচ্ছে- এমন অভিযোগ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বাপেক্সকে বানানো হচ্ছে সাবকন্ট্রাক্টর। সর্বজনের অর্থের অপচয় করে নাটক করবার জন্য বানানো হয়েছে বিইআরসি। সেখানে গণশুনানিতে যুক্তি তথ্যে প্রমাণিত হয়েছে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো নয় বরং কমানো উচিৎ এবং তা সম্ভব। কিন্তু সরকারের আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া, দাম বাড়াতেই হবে! বারবার গ্যাস-বিদ্যুতের দামবৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য বোঝা হচ্ছে, সকল পর্যায়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়াচ্ছে। সর্বশেষ এই দামবৃদ্ধিতে সকল পর্যায়ে আরেক দফা উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, বাড়বে বাসাভাড়াসহ অন্য সব দ্রব্যসামগ্রীর দাম, বাড়বে শিল্পকৃষি পণ্যের দাম, কমবে দেশের অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতা ক্ষমতা।’

এতে আরও বলা হয়, ‘যদি আমরা দেখি দাম বাড়ানো হচ্ছে জনগণ ও অর্থনীতিকে বিপদগ্রস্ত করে কতিপয় গোষ্ঠীর পকেট ভরার জন্য, দীর্ঘমেয়াদে এই খাত আরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে, তাহলে গ্যাস বিদ্যুতের দামবৃদ্ধি কেন আমরা মানবো? এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেব না কেন? আর যেখানে সুলভ, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথ আছে সেখানে পরিবেশধ্বংসী, ঝুঁকিপূর্ণ, ব্যয়বহুল পথে দেশ কেন যাবে? আমরা তাই আবারও বিদ্যুতের দামবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল করে জাতীয় কমিটি প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাত বিন্যাসের দাবি জানাচ্ছি।’