তালেবানের সঙ্গে শান্তি চুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পের

নিউজ ডেস্ক:   তালেবান ও আফগানিস্তান সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি করতে যাচ্ছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শুক্রবার তিনি এ ঘোষণা দেন বলে আরটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ঘোষণা অনুযায়ী শান্তি চুক্তি হলে প্রায় ২০ বছর পর আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের পথ তৈরি হতে পারে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, ইতোমধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও কাতারের রাজধানী দোহার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন, যেখানে তার উপস্থিতিতে এই শান্তি চুক্তি সই হবে। এ ছাড়া মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার কাবুলে আফগান সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে এ সংক্রান্ত ঘোষণা দেবেন।

সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির বিষয়টিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘আল কায়েদা, আইএসআইএস ও অন্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো, যারা আমাদের ক্ষতি করতে চায় তাদের থেকে মুক্ত নতুন এক আফগানিস্তানে টেকসই শান্তির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং ‘শান্তি ও নতুন ভবিষ্যতের জন্য এই সুযোগ লুফে নিতে’ আফগানিস্তানের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

দাপ্তরিক হিসাব অনুযায়ী, গত ১৯ বছরের বেশি সময়ে আফগানিস্তানে যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা সামরিক ও বেসামরিক সদস্য মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৬ হাজারেরও বেশি নাগরিক নিহত হয়েছে।

উড়োজাহাজ ছিনতাই করে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগণে হামলার জন্য ওসামা বিন লাদেন ও আল কায়েদাকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র। আর আফগান সরকারের বিরুদ্ধে তাদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তুলে ওই হামলার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে আফগানিস্তানে প্রথমবারের মতো সৈন্য পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র।

২০০১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে তালেবান পরাজিত হয় এবং আল কায়েদা আত্মগোপনে চলে যায়। এরপর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ আফগানিস্তানে তার লক্ষ্য পরিবর্তন করে ‘প্রতিশোধের’ বদলে ‘পুননির্মাণ’ করেন, যা দেশটিতে দীর্ঘ সময়ের জন্য মার্কিন বাহিনীর থাকার পথ তৈরি করে। ওসামা বিন লাদেন ২০১১ সালে পাকিস্তানে ধরা পড়েন এবং নিহত হন।