ময়মনসিংহে মেট্রোপলিটন পুলিশ ও রেললাইন স্থানান্তরের দাবীতে স্মারকলিপি

মো. নজরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ : ঐতিহ্যবাহী বৃহত্তর ময়মনসিংহের ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোণা এই ৪টি জেলার সমন্বয়ে ময়মনসিংহ বিভাগ প্রতিষ্ঠার ৪ বছর অতিক্রান্ত হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন চোখে পড়ছে না। ময়মনসিংহ মেট্রোপলিটন পুলিশ (এমএমপি ) প্রতিষ্ঠা, শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া রেললাইনটির জন্য শহরের যানজট বৃদ্ধি পেয়েছে। রেললাইনটি এখন ময়মনসিংহবাসীর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রেললাইনটি শহরের দক্ষিণে স্থানান্তরসহ ১৩দফা দাবী পূরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া জন্য দাবীতে ২৫ ফেব্রুয়ারি ময়মনিসংহ রেঞ্জ ডিআইজি ব্যারিস্ট্রার হারুন অর রশিদের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক আন্দোলন উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ।

ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক আন্দোলন উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান খান ও সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আমিন কালাম স্বাক্ষরিত স্বারকলিপিতে জানান, বিভাগ প্রতিষ্ঠার সাড়ে চার বছর অতিক্রান্ত হলেও এখন পর্যন্ত ময়মনসিংহ মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রতিষ্ঠা করা হয় নাই। বিশাল জনগোষ্ঠীর প্রত্যাশিত নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ট্রাফিক পরিচালনায় পুলিশের সদস্য সংখ্যাও পর্যাপ্ত নয়। জনগুরুত্বপূর্ণ ও আমাদের প্রত্যাশিত ময়মনসিংহ মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রতিষ্ঠার জন্য অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ ও প্রত্যাশিত নিরাপত্তা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার জন্য পুলিশের জনবল বৃদ্ধির অনুরোধ জানাচ্ছি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, জেলা কমিউসিস্ট পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট এমদাদুল হক মিল্লাত, কাজী রানা, জেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কাজী আজাদ জাহান শামীম, মিজানুর রহমান লিটন, সাংবাদিক প্রদীপ ভৌমিক, অ্যাডভোকেট চৌধুরী হোসনে আরা রানু, লে. কর্ণেল অধ্যক্ষ শাহাব উদ্দিন, শহিদুর রহমান শহীদ, অ্যাডভোকেট শিব্বির আহমেদ লিটন, শাহ সাইফুল আলম পান্নু, মাহবুব বিন সাইফ, অ্যাডভোকেট হাবিবুজ্জামান খ্র্রুম, আব্দুর রাজ্জাক, শংকর সাহা, খন্দকার শরীফ উদ্দিন, খন্দকার শেখ সুলতান আহমেদ, সাংবাদিক নজরুল ইসলাম, তুহিন তালুকদার, লাকী আক্তার লাকি, নাদিরা সুলাতানা হ্যাপী, ইলোরা পারভিন, জহুরা খাতুন, শারমিন সাথীমস নাছিমা খাতুন ও মহুয়া খাতুন প্রমূখ।

নুরুল আমিন কালাম জানান, ময়মনসিংহ শহর ময়মনসিংহ বিভাগের হেডকোয়ার্টার হওয়ায় ময়মনসিংহ শহরের গুরুত্ব বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। শিক্ষা ও সংস্কৃতিরএই নগরীর প্রধান সমস্যা তীব্র যানজট । এই শহরে যানজটের প্রধান কারণ শহরের বুক চিরে বয়ে গেে রেললাইন। এই রেললাইনে ২৬টি পয়েন্টে রেলক্রসিং রয়েছে। প্রতিদিন বেশ কয়েকটি ট্রেন চলাচল করে। রেলক্রসিং পয়েন্টের দু’পার্শ্বে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। আমরা মনে করি ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরের যানজট নিরসনে রেললাইনটি স্থানান্তর অতীব জরুরি। সুতিয়াখালী রেলস্টেশন হতে খাগডহর পর্যন্ত সহজেই রেললাইন স্থানান্তর করা যায়। ময়মনসিংহ শহরের কেন্দ্র হতে রেললাইন স্থানান্তরের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এর জন্য আপনি প্রয়োজনীয় উদ্দ্যোগ গ্রহণ করবেন আমরা আশা করি।
গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ফুটপাত অবৈধ দখলে আছে। এছাড়া রাস্তার দু’পার্শ্বে দোকানপাট বসার কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে তাই রাস্তা ও ফুটপাতে অবৈধ দোকানপাটের উচ্ছেদ চাই।

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনসহ সকল জেলা শহরের আভ্যন্তরীন সড়কসমূহ প্রশস্ত করে বিভাগীয় শহরের সাথে জেলা শহরের মহাসড়কসমূহ চার লেনে উন্নীত করতে হবে। বিভাগীয় শহরে জনবহুল গুরুত্বপূর্ন মোড়ে ফুটওভার ব্রীজ ও ফ্লাইওভার নির্মানের দাবী জানাচ্ছি। ময়মনসিংহ শহরে সিটি কর্পোরেশনের আওতায় সড়কের মোড় প্রশস্থসহ রোড ডিভাইডার উঁচু করতে হবে। ট্রাফিক মোড় ছাড়া রোড ডিভাইডারের মাঝে যে ছোট কাটা অংশ আছে যেখান দিয়ে যানবাহন মোড় নেয় সেই কাটা অংশ বন্ধ বা ডিভাইডার উঁচু করে দিতে হবে।
ময়মনসিংহ বিভাগে সমন্বিত ও সার্বিক উন্নয়নের জন্য আমরা ‘ময়মনসিংহ বিভাগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানাচ্ছি।

ময়মনসিংহ শহরের প্রাণ কেন্দ্রে রয়েছে (ষ্টেশন রোড-গাঙ্গিনাড়পার) একটি পতিতালয়। এই পতিতালয়ে কিশোরী অহরহ বিক্রি হয় এবং এদের উপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। পতিতালয়টি মাদকের এবং অবৈধ ব্যবসার ঘাটি ও অপরাধীদের বিরাট আখড়া। আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ শহরের কেন্দ্র স্থল থেকে পতিতালয়টি স্থানান্তরের জন্য প্রশাসনিক পর্যায়ে চেষ্ঠা করেও সফল হইনি। আমাদের পবিত্র সংবিধানে গণিকাবৃত্তিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আমরা আশা করব আপনি ময়মনসিংহ শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে পতিতালয়টি স্থানান্তর,অপসারন কিংবা বন্ধ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

আমরা লক্ষ্য করে আসছি যে ময়মনসিংহ শহরসহ সারা বিভাগে রেজিস্ট্রি/সাব রেজিস্ট্রি অফিস ও ভূমি অফিসসহ অন্যান্য অফিসে সীমাহীন দূর্নীতির কারণে জনসাধারণ প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। উল্লিখিত অফিসসমূহে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। সরকার নির্ধারিত খরচে কোন রেজিস্ট্রার অফিসে কোন দলিল রেজিস্ট্রি করা হয় না। নির্ধারিত খরচের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হয়। ভূমি অফিসে জমি খারিজ করতে জনগণ চরম ভোগান্তির শিকার হয়। ভূমি অফিসেও সরকার নির্ধারিত খরচে কোন নাম খারিজ করা যায় না। নাম খারিজ করতে হলে বহু গুন অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়। এহেন দুর্নীতি কার্যকলাপ রোধে আমরা আপনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

ময়মনসিংহ শহরটি বিখ্যাত ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত। নদের দুইতীর দখলের কারনে নদটি সংকুচিত হয়ে পরেছে এবং মৃতপ্রায়। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে সরকারের বদান্যতায় ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনে ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু নদের দুইপাড়ে অবৈধ স্থাপনা বা অবৈধ দখলদারীদের উচ্ছেদ কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়। অবৈধ্য দখলদার উচ্ছেদে আমরা আপনার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
খাদ্য, ফল, মাছ, মাংস ও তরিতরকারীতে ভেজাল, জনস্বাস্থ্যকে দুর্বিসহ করে তুলেছে। এ বিষয়ে আমরা আপনার পদক্ষেপ কামনা করছি।

ময়মনসিংহ শহরের বাসা-বাড়ী ও অলি-গলীতে চোর, ছিনতাইকারী, নেশাখোর ও ইভটিজারদের দৌরাত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। এদের উৎপাত কঠোরভাবে দমন ও টহল পুলিশের ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে।
সিএনজি, মাহিন্দ্র, অটো রিক্সা থেকে ব্রীজের মোড়সহ বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজী হচ্ছে, যা আইনের শাসনের পরিপন্থী।
শহরে ধারন ক্ষমতার অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রন আরোপ করতে হবে। ইহা ছাড়া লাইসেন্স ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে হবে। শহরে দিনের বেলায় বাহিরের ট্রাক, বালুর ট্রাক ও অন্যান্য ভারী যানবাহন প্রবেশ বন্ধ করতে হবে।
উল্লিখিত দাবী সমূহ বাস্তবায়নে আপনি কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানান নাগরিক নেতৃবৃন্দ।