ব্যাংকিং কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে: সিপিডি

নিউজ ডেস্ক:  দেশের ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠনে একটি কমিশন গঠনে সরকারের পক্ষ থেকে সম্মতি আসায় সাধুবাদ জানিয়েছে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটি মনে করে এটি সময়োচিত এবং অত্যন্ত বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত। সরকারকে কমিশন গঠন করে সেক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি একে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে।

শনিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত ব্যাংকিং কমিশন, সিপিডির প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। এ সময় সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান, গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম উপস্থিত ছিলেন।

ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ব্যাংকিং কমিশন গঠন বিষয়ে যে আলাপ আলোচনা হচ্ছে তার বিস্তারিত আমরা এখনো জানি না। গত আট বছর ধরে আমরা ব্যাংকিং কমিশন নিয়ে কথা বলে আসছি। কমিশনের কার্যপরিধি সুনির্দিষ্ট থাকতে হবে। ব্যাংকিং খাতের বিদ্যমান মূল সমস্যাগুলোর কারণ কি এবং সামনের দিনে চ্যালেঞ্জগুলো কি হতে পারে সেগুলো চিহ্নিত করতে হবে। ব্যাংকিং খাতের সমস্যার জন্য কারা এবং কোন কোন প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠী দায়ী তা চিহ্নিত করতে হবে। আগামী জুনে বাজেট আসছে। এরমধ্যেই কিছু অন্তবর্তীকালীন সুপারিশ থাকতে হবে যাতে বাজেটের পরপরই তা বাস্তবায়ন করা যায়।

তিনি বলেন, কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে। কমিশন যে সুপারিশ দেবে তার পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। কমিশন গঠনের সময়ই স্পষ্টভাবে দিক নির্দেশনা দিয়ে সুপারিশ বাস্তবায়নে একটি রোডম্যাপ দিতে হবে।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আমরা এখন অসহায় আতঙ্ক নিয়ে ভয়ংকর ভঙ্গুর পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে আছি। গুটিকয়েক ব্যক্তির হাতে পুরো ব্যাংকিং সেক্টর জিম্মি হয়ে পড়েছে। খেলাপি ঋণ অব্যাহতভাবে বাড়ছে। আর লুকিয়ে আছে মূলধন ঘাটতি, নিরাপত্তা সঞ্চিতির মতো আরও অনেক সূচক। এর ফলে মানুষের ব্যাংকে টাকা রাখার পরিমাণ কমে যাচ্ছে। সুদহার নিয়েও সমস্যা হচ্ছে। আর বাংলাদেশ ব্যাংক যে নীতিমালা দিচ্ছে, তার বরখেলাপ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বাংলাদেশ ব্যাংক স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না বলেই কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। ব্যাংকিং খাতের আস্থার সংকট এখন রাজনৈতিক সংকটে পরিণত হয়েছে।