বাংলা ফন্ট উদ্বোধন করল জাতিসংঘ

নিউজ ডেস্ক:  একুশে ফেব্রুয়ারি মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ উন্নয়ন সংস্থার (ইউএনডিপি) পক্ষ থেকে একটি বাংলা ফন্ট উদ্বোধন করা হয়েছে। যা এখন ইউএনডিপির ওয়েবসাইট থেকে যে কেউ ডাউনলোড করতে পারবেন। এ ছাড়া বাংলা ভাষার প্রতি সম্মান জানিয়ে সংস্থাটি তাদের ২০১৯ সালের মানব উন্নয়ন প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপও বাংলায় প্রকাশ করেছে।

ঢাকার একটি হোটেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এই বাংলা ফন্ট উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে বাংলা ব্যবহারের প্রচেষ্টা সরকারের আছে। তবে অর্থের কারণে বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা করার প্রক্রিয়ায় দেরি হচ্ছে। কারণ এ কাজে বছরে প্রায় ৬০ কোটি ডলার লাগে।

জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষার বেশিরভাগই যারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জয়লাভ করেছিল তাদের- এমন মন্তব্য করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলা দাপ্তরিক ভাষা হলে চাকরি ও সম্মান বাড়বে। তবে যিনি ইন্টারপ্রেটার হবেন, তাকে সাতটি ভাষা শিখতে হবে। এগুলো নিয়ে কিছু সমস্যা আছে। এসব কারণেই প্রক্রিয়ায় দেরি হচ্ছে। কিন্তু এটা হবে না, এমন নয়। কারণ আমরা পৃথিবীতে ছয় নম্বর দেশ, যেখানে সবচেয়ে বেশি নিজের ভাষায় কথা বলা হয়।

অনুষ্ঠানে ইউএনডিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলা বর্ণমালার যুক্তাক্ষর ও মাত্রাসহ অন্যান্য বিষয়কে বিবেচনায় নিয়ে এই ফন্ট তৈরি করা হয়েছে। ইউএনডিপির ২০১৯ সালের মানব উন্নয়ন প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ বাংলায় রচনা করেছেন ড. সেলিম জাহান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিবেদন তৈরির প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকার পর সম্প্রতি অবসরে গেছেন।

প্রতিবেদন প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেন, ‘এই প্রতিবেদনে একটি তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য রয়েছে। তা হলো- নিম্ন আয়ের ঘরে একটি শিশু জন্মালে তার গড় আয়ু হবে ৫৯ বছর। আর উচ্চ আয়ের ঘরে জন্মালে ওই শিশুর গড় আয়ু দাঁড়াবে ৭৮ বছর। অর্থাৎ জন্ম থেকেই নিম্ন ও উচ্চ আয়ের মধ্যে বৈষম্য শুরু হয়।’তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হচ্ছে। ২০৩০ সাল পর্যন্ত আমাদের পাঁচ থেকে ১০ লাখ কোটি ডলার তহবিল প্রয়োজন হবে। এর একটি অংশ সরকার সরবরাহ করবে। বাকি অংশ বেসরকারি খাত ও উচ্চ আয়ের দেশ এবং উন্নয়ন সংস্থাগুলোর দেওয়ার কথা রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে ইউএনডিপির মতো সংস্থা বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

ড. সেলিম জাহান বলেন, ‘মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন প্রথম উদ্বোধন হয় ১৯৯০ সালে। এর পরের বছর এই প্রতিবেদন বাংলায় প্রকাশিত হয়, সেটিরও রচয়িতা ছিলাম আমি। বাংলাদেশের জন্য প্রতিবছর সারাবিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের নিজস্ব সম্পদ।’