ব্যতিক্রম আয়োজনে ‘একুশ’ উদযাপন বিজয় একাত্তর হল ছাত্র সংসদের!

ঢাবি প্রতিনিধি

‘কলাগাছ’ দিয়ে নির্মিত এই শহীদ মিনারের ছবিটি দেখে হয়তো অনেকেই নিজের সোনালী শৈশবে কাটানো অতীতের দিনগুলোতে ফিরে যাবে। যেখানে ছোটবেলায় খেলার সাথীদের নিয়ে ইট, কলাগাছ ইত্যাদি দিয়ে শহীদ মিনার বানাতো। শহীদ মিনার বানানোর জন্য অনেক দিন থেকেই প্রস্তুতি নিতো সবাই। একেক জনের উপর একেকটা দায়িত্ব থাকতো। একটা নির্দিষ্ট জায়গা পরিস্কার করার। তারপর ইট জোগাড় করা। কার কার বাগানে ফুল ফুটেছে সেটা দেখার জন্যও একজনকে দায়িত্ব দেয়া হতো। এর পরে খুব ভোরে ইট দিয়ে বানানো শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকতো।

এই যান্ত্রিক সভ্যতায় কর্মব্যস্ততার জীবনে হয়তো বাল্যকালের শহীদ মিনারের স্মৃতি মনে পরার কথা। কিন্তু হাত বাড়ালেই যেন সেখানে ফিরে যাওয়া যায় না। তবে, সেই সময়ে ফিরে যেতে না পারলেও সেই স্মৃতিকেই যেন জীবন্ত রূপ দিয়ে ব্যতিক্রমভাবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করেছে বিজয় একাত্তর হল ছাত্র সংসদ।

হল সংসদের উদ্যোগে হলের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীর রাতভর অক্লান্ত পরিশ্রম করে হল প্রাঙ্গনেই কলাগাছ দিয়ে নির্মান করেছে অস্থায়ী শহীদ মিনার। সকাল ৯ টায় বিজয় একাত্তর হল সংসদ এবং হল ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন নিবেদন করে।

শৈশবের স্মৃতিচারণ করে বিজয় একাত্তর হল সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) সজীবুর রহমান সজীব বলেন, খুব মনে পড়ে ছোট বেলায় খেলার সাথীরা সবাই মিলে যখন কলাগাছ,ফুল দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করে আমরা ফুল দিয়ে আমাদের ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতাম। আজকের এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আমরা কিছু সময়ের জন্য আবার ছোট বেলার হারানো সেই দিন গুলোতে ফিরে গিয়েছিলাম।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, যেহেতু আমাদের হলে কোন শহীদ মিনার নেই তাই আমরা হল সংসদের পক্ষ থেকে এই অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করেছি।এখানে হলের শিক্ষার্থী, কর্মচারী কর্মকর্তা সহ সকলেই ফুল দিয়ে আমাদের ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারবে।

শহীদ মিনার প্রসঙ্গে হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক(জি এস) নাজমুল হাসান নিশান বলেন, ভাষা শহীদরা আমাদের বাংলা ভাষাকে রক্ষা করতে তাদের যে আত্নত্যাগ করেছে তা পৃথিবীর বুকে এক অনন্য স্মরণীয় ইতিহাস। কিন্তু ভাষা আন্দোলনের এত বছর পরে দুঃখের সাথেই বলতে হয় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকগুলো হলে শহীদদের স্মরণের শহীদ মিনার নেই।বিজয় একাত্তর হল তার মধ্যে অন্যতম।

তিনি আরোও বলেন, হলের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে এই হলে ভাষা শহীদদের স্মরণের শহীদ মিনার থাকবে না, একুশে ফেব্রুয়ারিতে হল কোন শহীদদের স্মরণে স্তম্ভ থাকবে না এটা চিন্তা করাটা অবান্তর। এই বোধ হতেই আমরা আমাদের সাধ্যের মধ্যে সকলের শ্রদ্ধার ভাষা শহীদদের স্মরণের জন্য এই অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করেছি।

হল সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) আবু ইউনুস বলেন, বিজয় একাত্তর হল মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল বিজয়ের প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুরাগের স্মারক হলেও এই হলে কোন স্মৃতিস্তম্ভ বা মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়কে অবশ্যম্ভাবী করে তোলার দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় প্রাসঙ্গিক অধ্যায়সমূহের স্মরণে কোন স্থাপনা না থাকা দুঃখজনক। শিক্ষার্থীরা একটি বার্তা দিতে চেয়েছে, যা এই অসংগতি দূর করবে বলে বিশ্বাস করি।