আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে মেডিকেল টেকনোলজি শিক্ষা

সুমন দত্ত: আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে দেশের নার্সিং ও মেডিকেল টেকনোলজির শিক্ষা কার্যক্রম ও ভর্তি প্রক্রিয়া মাঝপথে বন্ধ হয়ে গেছে। অবিলম্বে এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানিয়েছে বামি (বোর্ড অ্যাফিলিয়েটেড সোসাইটি ফর মেডিকেল টেকনোলজি ইনস্টিটিউটস)। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সেমিনারে এ প্রসঙ্গে বামির বক্তাদের সঙ্গে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকি ও জাতীয় সংসদের সদস্য নওগাঁ-৬ থেকে নির্বাচিত ইসরাফিল আলম।

ইসরাফিল আলম বলেন, কিছু লোক আছে যারা সার্টিফিকেটধারী মূর্খ। এরা জানে না পার্লামেন্টে পাস হওয়া কোন আইন আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে বাতিল বা রদ করা যায় না। যদি সেটা করতে হয় তবে পার্লামেন্ট কে দিয়েই তার করতে হবে। সার্কুলার দিয়ে মেডিকেল টেকনোলজির শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করার যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তার তীব্র নিন্দা জানাই আমি। সংসদে আমি বিষয়টি পুনরায় তুলবো। আমি চেষ্টা করবো বিষয়টি এতদিন যেভাবে চলেছে তা যেন বজায় থাকে। তিনি আরো বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে গেলে মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত বাতিল হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর এতে কোনো দোষ নেই। তিনি সরল বিশ্বাসে এসব সিদ্ধান্তের অনুমোদন দিয়ে দিয়েছেন। তার সামনে শিক্ষিত আমলারা যায় আর স্বাক্ষর করে নিয়ে আসে। তিনি তাদের বিশ্বাস করেই এসব করেন।

আরেফিন সিদ্দিকি বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম যা বলেছেন তার সঙ্গে সহমত পোষণ করি। দেশে আজ মেডিকেলের জন্য বহু যন্ত্রপাতি বিদেশ থেকে আনা হয়েছে। সেগুলো ব্যবহার করার জন্য দক্ষ জনবল নেই। যন্ত্রপাতিগুলো নষ্ট হয়ে গেলে তা ঠিক করার জন্য দক্ষ কারিগর নেই। এই শূন্যতা পূরণ করছে মেডিকেল টেকনোলজির ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা। এদের রাস্তা বন্ধ করা মানে দেশের ক্ষতি করা।

বামির সভাপতি এম এন কিরণ বলেন, আমাদের পড়ানোর বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে যাওয়ার আইনগত কোনো ভিত্তি নাই। এতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পাস করা সনদের কোনো দাম থাকবে না। এতদিন কারিগরি শিক্ষাবোর্ড থেকে যে সনদ দেয়া হচ্ছিল তার গ্রহণযোগ্যতা দেশে ও বিদেশে ছিল। সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে এসব কিছু হারিয়ে যাবে। নার্সিং ও মেডিকেল টেকনোলজি শিক্ষা ৪০০ মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ানো হয়। আমাদের দাবি এসব প্রতিষ্ঠান কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে থেকেই পরিচালিত হউক। এতে ছাত্র শিক্ষক, কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক সব পক্ষের স্বার্থ সঠিকভাবে সংরক্ষিত থাকবে।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম