চিকিৎসার জন্য লন্ডন পরে সৌদি আরব যেতে পারেন খালেদা জিয়া

নিউজ ডেস্ক:   জামিন পেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে লন্ডন পরে সৌদি আরব যেতে পারেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি নেতারা। তবে শর্তের বেড়াজালে আটকে আছে এই চেষ্টার অগ্রগতি। নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত বা জামিন দেওয়া হলেও তার আগে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক বক্তব্য, বিবৃতি না দেওয়া এবং এ ধরনের কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়ার নিশ্চয়তা চেয়ে মুচলেকাসহ আরও কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া হতে পারে। এ মুহূর্তে এসব শর্তের ব্যাপারে কিছুটা নমনীয় হলেও আদালতের মাধ্যমে জামিনের দিকেই জোর দিচ্ছেন বিএনপি নেতারা। যাতে করে রাজনৈতিকভাবে খালেদা জিয়া বড় ধরনরে ক্ষতিগ্রস্ত না হন। দলীয় ও খালেদা জিয়ার পরিবারের নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিএনপি নেতা ও আইনজীবীরা মনে করেন, সরকারের উচ্চপর্যায় চাইলে জামিনের বিরোধিতা না করে বা ‘সাজা স্থগিত’ করে খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যবস্থা করে দিতে পারে। রাজনীতিবিদদের ক্ষেত্রে এ ধরনের জামিনের ব্যাপারে অতীতে অসংখ্য নজির রয়েছে। সরকারের সবুজ সংকেত পেলেই আদালত ও প্রশাসন এ ব্যাপারে আইনি প্রক্রিয়া খুঁজে বের করতে পারবে। খালেদা জিয়া, তার পরিবার এবং বিএনপি নেতারা মনে করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার জামিন পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সরকার প্রভাব বিস্তার করে তাতে বাধা সৃষ্টি করছে।

এক অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে বিএনপি নিজেই দ্বিধান্বিত। একদিকে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে ফোন করে মুক্তি দেওয়ার অনুরোধও জানাচ্ছে। তারা আসলে কি চান, এখনও স্পষ্ট করতে পারেননি। এ সময় তিনি মন্তব্য করেন, কেবল প্যারোলে মুক্তির আবেদন করলেই সরকারের বিবেচনা করার সুযোগ থাকে। এছাড়া খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়ার এখতিয়ার সরকারের নেই।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হক সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আবেদনটি শুনানির জন্য উত্থাপন করা হতে পারে। এর আগে এই বেঞ্চ চ্যারিটেবল মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন থাকলেও কারামুক্তিতে বাধা মাত্র দুই মামলা। নানা আইনি জটিলতায় মুক্তি মিলছে না খালেদা জিয়ার। খালেদা জিয়ার কারা মুক্তিতে এখন অন্তত দুই মামলায় জামিন পেতে হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা খালেদা জিয়ার ১৭ বছর কারাদণ্ড হয়েছে। এ দুটি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে খালেদা জিয়াকে জামিন নিতে হবে।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে খালেদা জিয়াকে জামিন নিতে হবে। এ দুটি মামলায় জামিন পেলেই খালেদা জিয়া কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, অসুস্থতা ও বয়সের কারণে খালেদা জিয়ার কারাগার থেকে মুক্ত হওয়া প্রয়োজন। আইনি প্রক্রিয়ায় তার জামিনের সম্ভাবনা নেই। সবই সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।