ময়মনসিংহ মেডিক্যালে কার্ডিয়াক ক্যাথল্যাব উদ্বোধন হলেও ডাক্তারের অভাবে চালু হয়নি

মো. নজরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ :
বৃহত্তর ময়মনসিংহের দুইকোটি মানুষের প্রধান চিকিৎসালয় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (মমেকহা) প্রতিষ্ঠার ৫৭ বছর পর হৃদরোগ বিভাগে বহুল প্রত্যাশিত কার্ডিয়াক ক্যাথল্যাব উদ্বোধন হলেও সার্বক্ষণিক ইন্টারভেনশনাল কার্ডিয়াক সার্জনের অভাবে চিকিৎসাসেবা শুরু হয়নি। সার্বক্ষণিক একজন ইন্টারভেনশনারিস্ট ডাক্তার নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয়ে পত্র দিয়েছে । ইন্টারভেনশনারিস্ট না আসা পর্যন্ত রোগীর চিকিৎসা না দেয়ার কথা জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শনিবার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংএ ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ও উপ-পরিচালক ডাঃ লক্ষী নারায়ন মজুমদার এসব তথ্য জানান। তিনি আরো জানান, আমাদের কয়েকজন ডাক্তারকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ দেয়া দেয়া হয়েছে কিন্তু তা পর্যপ্ত নয়। ক্যাথল্যাব চালুর পর কোনো রোগীর সমস্যা হলে সার্বক্ষণিক ইন্টারভেনশনারিস্ট পোস্টিং না থাকলে প্রয়োজনীয় সেবা দেয়া কঠিন হবে। আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীকে কোনো ঝুঁকির মধ্যে রাখতে চাইনা। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও বাংলাদেশ সোসাইটি অব কার্ডিয়াক ইন্টারভেশন এর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডাঃ মীর জামাল উদ্দিন জানান, হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ময়মনসিংহের ক্যাথল্যাবকে ডাক্তারসহ প্রয়োজনীয় সব ধরণের সহযোগীতা প্রদান করবে। বাংলাদেশ সোসাইটি অব কার্ডিয়াক ইন্টারভেশন এর সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ একেএম ফজলুর রহমান বলেন একটিমাত্র ক্যাথল্যাব দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন রোগীর চিকিৎসা দেয়া সম্ভব নয়। একটি মেশিন নস্ট হয়ে গেলে আরেকটি ক্যাথল্যাব মেশিন দিয়ে সেবা দেয়া যাবে। তাই আরেকটি ক্যাথল্যাব মেশিনের খুবই প্রয়োজন।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারি শনিবার দুপুরে কোন অতিথি ছাড়াই হাসপাতালের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্যাথল্যাব উদ্বোধন করেন। মেডিক্যাল, ইন্টারভেনশন ও সার্জারি ধরনের সেবা মিলবে এই ক্যাথল্যাবে।

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাঃ এম এ বারীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ আবুল হোসেন চৌধুরী, কার্ডিয়াক সোসাইটির ট্রেজারার অধ্যাপক অমল কুমার চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ডাঃ কাজল কুমার কর্মকার, সাবেক অধ্যক্ষ ডাঃ মতিউর রহমান, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ চিত্ত রঞ্জন দেবনাথ ও উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ একেএম আবুল হোসেন, বিএমএ জেলার সভাপতি ডাঃ অধ্যাপক ডাঃ মতিউর রহমান ভূইয়া ও সাধারণ সম্পাদক ডাঃ এইচ এ গোলন্দাজ তারা, অধ্যাপক ডাঃ সাইফুল বারী, ময়মসসিংহ প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি এজেড এম ইমাম উদ্দিন মুক্তা, ময়নসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ডাঃ গোবিন্দ পাল প্রমূখ।

মমেকহা হৃদরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাঃ এম এ বারী জানান, কার্ডিয়াক ক্যাথল্যাব চালু হলে এনজিওগ্রাম পরীক্ষার পর রোগীদের নামমাত্র সরকারি ফি দিয়ে রিং পরানো, পেসমেকার স্থাপন, হার্টের ভাল্ব রি-পেয়ারিংসহ প্রয়োজনে বাইপাস সার্জারি করা যাবে। ক্যাথল্যাব চালু করতে ইতোমধ্যে ১০ বেডের একটি ওয়ার্ডসহ সকল আয়োজন রয়েছে।
বিএমএ, ময়মনসিংহ শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ মতিউর রহমান ভূইয়া জানান, মুজিববর্ষ উপলক্ষে ময়মনসিংহ বাসীর জন্য এটি হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার।

মমেকহা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাছির উদ্দিন আহমদ জানান, হাসপাতালে ওয়ানস্টপ সার্ভিস ও কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস সুবিধা চালুর পর ক্যাথল্যাব চিকিৎসাসেবার সুবিধা চালু ময়মনসিংহ বিভাগ ও এর আশপাশের রোগীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমিয়ে আনবে। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসা রোগীদের বিনামূল্যে শতভাগ ওষুধ সরবরাহসহ এসব সুবিধা সরকারের রোগীবান্ধব চরিত্রকে দৃশ্যমান করে তুলছে। এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সচিবসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নতুন হাসপাতাল ভবনের চতুর্থ তলার হৃদরোগ বিভাগে চালু হচ্ছে এই ক্যাথল্যাব। ইতোমধ্যে কার্ডিয়াক ক্যাথল্যাব স্থাপনসহ পাশে একটি ১০ বেডের পোস্ট ক্যাথল্যাব ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত নার্সদের জন্য রাখা হয়েছে আলাদা কর্নার। করোনারি কেয়ার ইউনিট-সিসিইউ এবং হৃদরোগ বিভাগের আলাদা ইউনিট ও ওয়ার্ডের পাশে একই ফ্লোরে বসানো হয়েছে এই ক্যাথল্যাব। দশটি বিছানার ক্যাথল্যাব ওয়ার্ডের প্রতিটি বিছানার পাশেই রয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মনিটরসহ এনজিওগ্রাম করার পর রোগীদের প্রয়োজনীয় সাপোর্টের চিকিৎসা সরঞ্জামাদি। হৃদরোগের সমস্যা নিয়ে রোগীদের ক্যাথল্যাবে এনজিওগ্রাম করার পর হার্টের ব্লক কিংবা ছিদ্র ধরা পড়লে প্রয়োজনে রিং পরানো, পেসমেকার স্থাপন কিংবা বাইপাস হার্ট সার্জারি পর্যন্ত করার সুবিধা রয়েছে হাসপাতালের এই ওয়ার্ডে।

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত এক হাজার শয্যার রেফারেল চরিত্রের ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগেই প্রতিদিন গড়ে ভর্তি থাকছে ৩ শতাধিক রোগী।