বিশ্ব শিশু ক্যানসার দিবস

নিউজ ডেস্ক:  আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি, শনিবার বিশ্ব শিশু ক্যানসার দিবস। দেশে ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এরমধ্যে শিশু ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। দেশে বর্তমানে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ লাখ শিশু ক্যানসার রোগী রয়েছে। আর প্রতি বছর নতুন করে যোগ হচ্ছে ১৩ হাজার শিশু। এত শিশু আক্রান্ত হলেও তাদের জন্য দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা একেবারেই অপ্রতুল। বিশেষজ্ঞদের দাবি, বেশির ভাগ শিশুর ক্যানসার নিরাময়যোগ্য। শনাক্ত করা গেলে ও উন্নত চিকিৎসা পেলে ৭০ শতাংশ রোগী সেরে ওঠে। কিন্তু মাত্র ২৫ শতাংশ রোগী উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পান।

পাঁচ বছর বয়সী ওমর ফারুক নামে এক শিশুর ব্লাড ক্যানসার ধরা পড়ে দুই বছর আগে। কিন্তু অর্থাভাবে এই পরিবারটি সেভাবে তার চিকিৎসা করাতে পারছে না।

রেহানা আক্তারের দুই সন্তানের মধ্যে ওমর ফারুক দ্বিতীয়। বড় মেয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। ছোট সন্তানকে নিয়ে ঢাকা-ফেনী যাতায়াত করছেন তিনি।

গত বুধবার একটি টেস্ট রিপোর্টের ফলাফল পাওয়ার কথা ছিল, তাই আবার ছেলেকে নিয়ে ঢাকায় এসেছেন মা রেহানা আক্তার। আছেন বাংলামোটরে অবস্থিত শিশু ক্যানসার রোগীদের জন্য প্রতিষ্ঠিত আশিক (অ্যা সেন্টার ফর হেল্পলেস ইল চিলড্রেন ফাউন্ডেশন ফর চাইল্ডহুড ক্যানসার) ফাউন্ডেশনে ।সেখানে বসেই কথা হয় রেহানা আক্তারের সঙ্গে।

কীভাবে ক্যানসার ধরা পড়লো জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিন মাসের মতো জ্বর হতো কয়দিন বাদেই। জ্বর আসে আবার যায়।

রেহানা আক্তার বলেন, ঢাকায় এসে জিজ্ঞাস করলাম-স্যার আমার ছেলের কী অসুখ ধরা পড়েছে? চিকিৎসক বললেন, ওর (ফারুক) ব্লাড ক্যানসার। হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম, যদিও ট্রিটমেন্ট থাকে, কিন্তু সে ট্রিটমেন্ট করানোর সামর্থ্য নেই আমাদের। দুই বছরে প্রায় সাত থেকে আট লাখ টাকা চলে গেছে বলেও জানান রেহানা আক্তার।

সাত বছর তিন মাসের শেফা খাতুনের বাবা আব্দুল মোমেন। সিরাজগঞ্জে ছোট এক ফার্মেসি চালিয়ে সংসার চালান। প্রায় আট মাস ধরে শেফার চিকিৎসা চলছে বেসরকারি এক হাসপাতাল আর পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু অনকোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আমিরুল মোর্শেদ খসরু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘২০১৯ সালে এই হাসপাতালে মোট ৫৬৭ জন শিশু ক্যানসার রোগী ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে নতুনভাবে আক্রান্ত হয়েছে ১৬৮ জন, যা কিনা শতকরা ৩০ শতাংশ। মোট আক্রান্তদের মধ্যে ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছে ২৪০ জন শিশু, যা কিনা ৪২ শতাংশ। লিম্ফোমাতে আক্রান্ত হয়েছে ১১৩ জন, যা কিনা শতকরা ২০ শতাংশ। এছাড়া অন্যান্য ক্যানসারগুলো হচ্ছে- কিডনি, নিউরোব্লাসটোমা, জার্ম সেল টিউমার, মাসেল ক্যানসার এবং বোন ক্যানসার। এরমধ্যে লিম্ফোমা, কিডনি, ব্লাড এবং জার্ম সেল টিউমার- এ আক্রান্ত শিশুরাই বেশিরাভাগ সুস্থ হয়ে থাকে।’

জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের শিশু কনকোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মমতাজ বেগম বলেন, ‘শিশু ক্যানসার বিশেষজ্ঞের সংখ্যা আমাদের দেশে একেবারেই হাতে গোণা। যতটুকু চাহিদা রয়েছে তার চেয়ে দেশে অনেক কম চিকিৎসক আমাদের।’