করোনাভাইরাসে চীনে মৃতের সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়াল

নিউজ ডেস্ক:   মৃত্যুমিছিল থামছেই না। চীনে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৩৩ জনে। এ রোগে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে মারা গেছেন ১৪৩ জন, আক্রান্ত হয়েছেন আরও ২ হাজার ৬৪১ জন। এতে আক্রান্তের সংখ্যা ঠেকেছে ৬৬ হাজার ৪৯২ জনে। এ পরিস্থিতিতে চোখের সামনেই স্বজনের অসহায় মৃত্যু দেখতে হচ্ছে অনেককে।

শনিবার চীনের মধ্য প্রদেশ হুবেইয়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।

গত বছরের শেষ দিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনা ভাইরাস। যাতে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যু সংখ্যা।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, করোনাভাইরাসে দেশটির যে ফাঁকফোকর ও দুর্বলতা ধরা পড়েছে তা সারাতে হবে। এ রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে চীনের অর্থ মন্ত্রণালয় শুক্রবার ১ হাজার ১৫০ কোটি ডলার বরাদ্দ দিয়েছে।

কীভাবে এই ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করা হবে, কীভাবে চীনে মৃত্যুর মিছিল বন্ধ করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে এখনও দিশেহারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। চীনের স্বাস্থ্য দপ্তরও খেই হারিয়ে ফেলছে। সরকার উচ্চপদস্থ স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে। নতুন যারা এসেছেন, তারাও বিশেষ কিছু করে উঠতে পারছেন না। এখন পর্যন্ত ২৫টি দেশ থেকে সংক্রমণের খবর মিলেছে। অপেক্ষাকৃত গরিব দেশে এই ভাইরাস ছড়িয়ে গেলে আরও ভয়াবহ ঘটনা ঘটবে। শুক্রবার সেই আশঙ্কা আরও বেড়েছে। উত্তর কোরিয়ায় ক্রমশ এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীন যেভাবে এই ভাইরাসের মোকাবিলা করছে, উত্তর কোরিয়ার পক্ষে তা সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ায় এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে সব রকম সাহায্য করবে তারা। প্রয়োজনে প্রত্যাহার করা হবে একাধিক নিষেধাজ্ঞা।

ভিয়েতনামেও করোনা আতঙ্ক প্রবলভাবে ছড়িয়েছে। রাজধানী হ্যানয়ের উত্তরে একটি এলাকাকে গত ২০ দিন কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার মানুষ বসবাস করেন সেখানে। ভিয়েতনামের প্রশাসন জানিয়েছে, ওই অঞ্চলে করোনা ছড়ানোর আশঙ্কা আছে বলেই এলাকাটিকে আলাদা করে রাখা হয়েছে, যাতে ভাইরাসের সংক্রমণ না ঘটে। ফ্রান্স, জার্মানি, কানাডা, ফিনল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়াসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশ ফেব্রুয়ারিতে চীনে সব ধরনের বিমান চলাচল স্থগিত করেছে।

করোনাভাইরাসের কারণে চীনের প্রতিবেশী সিঙ্গাপুরে আর্থিক মন্দা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং। শুক্রবার তিনি জানান, ইতোমধ্যে দেশটির অর্থনীতিতে করোনাভাইরাসের প্রভাব সার্সকে ছাড়িয়ে গেছে। চীনের পর সিঙ্গাপুরেই সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্ত শনাক্ত করা হয়েছে।

এদিকে জাপানের ইয়োকোহামা বন্দরের কাছে পৃথক করে রাখা প্রমোদতরী ডায়মন্ড প্রিন্সেসের আরও ৪৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ২৯ জনই জাপানি নাগরিক। প্রমোদতরীটিসহ জাপানে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২৪৭-এ পৌঁছাল।

করোনভাইরাসের কারণে এশিয়া সফর বাতিল করার পরিকল্পনা করছে প্রমোদতরী শিল্প। এতে এ খাতের আয়ে প্রভাব পড়বে। অন্যদিকে সারাবিশ্বে বিমান পরিবহন ব্যবসায়ের আয় চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ৪০০-৫০০ কোটি ডলার কমে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা।