সংসদে ৮ হাজার ২৩৮ ঋণখেলাপির তালিকা

নিউজ ডেস্ক:   জাতীয় সংসদে ৮ হাজার ২৩৮ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৯৬ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরোর (সিআইবি) গত নভেম্বর ভিত্তিক তথ্যের আলোকে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ১০৭ পৃষ্ঠার এ তালিকার যারা শীর্ষে রয়েছেন তারা কয়েক বছরে ব্যাংক খাতের আলোচিত ঋণ কেলেঙ্কারির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

গত বছরের ২২ জুন শীর্ষ তিনশ’ খেলাপির নাম প্রকাশ করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েক দফায় জাতীয় সংসদে শীর্ষ খেলাপিদের তালিকা প্রকাশ করা হলেও কারও বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।

বুধবার একাদশ জাতীয় সংসদের ষষ্ঠ অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী ঋণখেলাপিদের এ তালিকা প্রকাশ করেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। সরকারদলীয় সদস্য আহসানুল হক টিটুর প্রশ্নের লিখিত জবাবে আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, বাংলাদেশে কার্যরত সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া সিআইবি ডাটাবেজ অনুযায়ী এসব কোম্পানির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৯৬ হাজার ৯৮৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী খেলাপির তালিকায় প্রথম দিকে রয়েছে– ভুয়া রপ্তানিসহ নানা উপায়ে জনতা ব্যাংক থেকে টাকা বের করে নেওয়ায় আলোচিত ক্রিসেন্ট গ্রুপ। ক্রিসেন্ট গ্রুপের ৫ প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ ৩ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা। এর মধ্যে রিমেক্স ফুটওয়্যারের ৯৭৬ কোটি, রূপালী কম্পোজিট লেদারের ৭৯৮ কোটি, ক্রিসেন্ট লেদারের ৭৭৬ কোটি, লেপকোর ৪৩৯ কোটি এবং ক্রিসেন্ট ট্যানারিজের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৬৩ কোটি টাকা। রপ্তানির আড়ালে অর্থ পাচারের ঘটনায় শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মামলায় ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ কাদের এখন জেলে।

তালিকায় নাম এসেছে জনতা ব্যাংকের আরেক খেলাপি এননটেক্স গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বড় ঋণ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত গ্রুপটির ২২টি প্রতিষ্ঠানের কাছে জনতা ব্যাংকের পাওনা ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। ইউনুস বাদল নামের এক অখ্যাত ব্যবসায়ী এ গ্রুপের মালিক। রাইজিং স্টিলের নাম রয়েছে শীর্ষ তালিকায়। ২০১৫ সালে ৫২২ কোটি টাকার পুনর্গঠন সুবিধা নেওয়া প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমজাদ হোসেন চৌধুরী ও চেয়ারম্যান জামিলা নাজলিন মাওলার বিরুদ্ধে দুদকে মামলা চলছে। সাউথইস্ট ব্যাংকের ১৪৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এ মামলা চলমান রয়েছে।

শীর্ষ খেলাপির তালিকায় নাম এসেছে মেসার্স ইলিয়াছ ব্রাদার্সের। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামসুল আলমকে গত নভেম্বর মাসে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তালিকায় নাম এসেছে চট্টগ্রামের এসএ গ্রুপের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার মো. শাহাবুদ্দিন আলম এক খাতের নামে ঋণ নিয়ে অন্য খাতে ব্যবহারসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংকের মামলায় ২০১৮ সালের অক্টোবরে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তালিকায় থাকা কোয়ান্টাম পাওয়ার সিস্টেমের মালিকানায় রয়েছে আসবাব প্রস্ততকারক প্রতিষ্ঠান অটবি। নাম এসেছে চ্যানেল নাইনের মালিক এনায়েতুর রহমান বাপ্পির বিলট্রেড ইঞ্জিয়ারিংয়ের।

জনতাসহ কয়েকটি ব্যাংক থেকে অর্থ নিয়ে দেশ ত্যাগ করা বিসমিল্লাহ গ্রুপের মালিকানাধীন তিন প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে তালিকায়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- আলফা কম্পোজিট টাওয়েলস, সাহারিশ কম্পোজিট নিট ও বিসমিল্লাহ টাওয়েলসের। নাম এসেছে সোনালী ব্যাংকের আলোচিত খেলাপি হলমার্ক গ্রুপের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। এছাড়া দেশের এক সময়কার সেরা তথ্যপ্রযুক্তি আমদানিকারক ও পরিবেশক প্রতিষ্ঠান কম্পিউটার সোর্স রয়েছে এ তালিকায়। কম্পিউটার সোর্সের এমডি আবু হানিফ মো. মাহফুজুল আরিফ দেশ থেকে অর্থ পাচার করে সিঙ্গাপুরে ইলেকট্রো সেবাল প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন বলে জানা গেছে।

আরও নাম এসেছে অ্যালোকোট লিমিটেড, বাংলাদেশ কমিউনিকেশনস লিমিটেড, বেল কনস্ট্রাকশন, এসডিএনবিএইচডি, ইব্রাহিম টেক্সটাইল মিলস, হলমার্ক গ্রুপের হলমার্ক ফ্যাশন, ফেয়ার ইয়ার্ন প্রসেসিং লি, ফেয়ার ট্রেড ফেব্রিক্স লি., বাংলাদেশ সুগার অ্যান্ড ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন, লিটুন ফেব্রিক্স, সুরুজ মিয়া জুট স্পিনিং মিলস, পদ্মা পলি কটন নিট ফেব্রিক্স, আয়মান টেক্সটাইল অ্যান্ড হোসিয়ারি, এস কে স্টিল, হেল্পলাইন রিসোর্সেস লি, নুরানী ডাইং অ্যান্ড সোয়েটার্স লি, ভার্গো মিডিয়া, আনোয়ারা মান্নান টেক্সটাইল মিলস, লাইট হাউস ইনফ্রাস্ট্রাকচার, সালে কার্পেট মিলস লি, ইউনাইটেড অ্যাপারেলস ইন্ডাস্ট্রিজ, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি, করোলা করপোরেশন বিডি, রহমান স্পিনিং মিলস, ইসলাম ট্রেডিং কনসোর্টিয়াম, ঢাকা ডাইং অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড। এসব কোম্পানিসহ ৮ হাজার ২৩৮টি কোম্পানি এই তালিকায় রয়েছে।