শেখ হাসিনা জানে না ভারতের নাগরিকত্ব আইন কেন!

সুমন দত্ত: ভারতে নতুন নাগরিকত্ব আইন নিয়ে এবং নাগরিক পঞ্জি নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের গালফ নিউজে। সাক্ষাৎকারে নাগরিকত্ব আইন ছাড়াও অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন শেখ হাসিনা। তবে ভারতের সংবাদ মাধ্যমগুলো তার নাগরিকত্ব আইন নিয়ে করা মন্তব্যকেই কোট করে সংবাদ প্রচার করেছে।

শেখ হাসিনা বলেছেন নাগরিকত্ব আইন ও নাগরিক পঞ্জি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এটা তার ভালো একটি মন্তব্য বলে মনে করি। পরে তিনি আবার এই সম্পর্কে দুটি মন্তব্য করেন।তিনি বলেন, বিজেপি সরকারের নাগরিকত্ব আইন কেন দরকার পড়ল? তার প্রয়োজনীয়তা কি তা তিনি বুঝছেন না। তার এই কথার অর্থ দাড়ায় বিজেপি সরকার যে কারণে এই আইন তৈরি করেছে সেটা তার উপলব্ধির বাইরে।

বিজেপি সরকার পরিষ্কার করে বলেছে যেসব অমুসলিম প্রতিবেশী দেশগুলো নির্যাতিত তারা ভারতে আশ্রয় চাইলে তা পাবে। শেখ হাসিনা এসব জেনেও বলছেন তিনি তা বুঝছেন না। প্রয়োজনীয়তা কি? এসব প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন। গালফ নিউজের সাংবাদিক তাকে এ সংক্রান্ত আর কোনো প্রশ্ন করেনি।

সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করতে পারতো আইন কি কারণে করা হয়েছে তা তো আপনি জানেন। তারপরও কেন প্রশ্ন করছেন এসবের দরকার কেন? দরকার আছে দেখেই ভারত সরকার এই আইন করেছে। তা না হলে কেন তারা করল।

আসলে এই সাক্ষাৎকারটি ফরমায়েশি সাক্ষাৎকার ছিল কিনা এটাই এখন প্রশ্ন। সংবাদ জগতে এখন বহু ফরমায়েশি নিউজ হয়। হয়ত এই সাক্ষাৎকারটিও ছিল ফরমায়েশি কোনো সাক্ষাৎকার। যে কারণে যে মন্তব্যে হাজারো প্রশ্ন উঠে তা করলেন না প্রশ্ন কর্তা। বরং চালাকি করে তা এড়িয়ে যাওয়া হলো।

শেখহাসিনার কাছে মনে হতে পরে বাংলাদেশে অমুসলিম নির্যাতন হয় না। কেন ভারত অমুসলিম নির্যাতনের কথা বলে আইন তৈরি করল? আবার এটাও হতে পারে অমুসলিমরা তো ভারতে যায় না। যাওয়ার কোনো নজির নেই। তাহলে এই আইন কেন? আবার এটাও হতে পারে বাংলাদেশের হিন্দুরা তো সেই দেশে গিয়ে দিব্যি আছে। খায় দায় ঘুমায়। অনেকে দুই দেশের পাসপোর্ট নিয়ে এইপার ওইপার যাওয়া আসা করে। কি দরকার ছিল এই আইন করার?

শেখ হাসিনা গালফ নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে কি বলতে চেয়েছেন তার ব্যাখ্যা তিনিই দিতে পারেন। আপাতত তার দেয়া বক্তব্য প্রিয়া সাহার মতোই অস্পষ্ট। মাত্রা ছাড়া।

লেখক সাংবাদিক