২০৩০ সালে যানজটের দৃশ্যপট বদলে যাবে: কাদের

নিউজ ডেস্ক:    ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) প্রকল্পের অধীনে মেট্রোরেলের ছয়টি লাইনের নির্মাণ কাজ শেষ হলে ২০৩০ সাল নাগাদ রাজধানীর যানজটের চিরচেনা দৃশ্যপট বদলে যাবে বলে আশা করছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ বুধবার দিয়াবাড়িতে এমআরটি-৬ লাইনের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ও রেল-ট্র্যাক বসানোর কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই আশার কথা শোনান।

নতুন বছরের প্রথম দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এমআরটি লাইন ১ ও এমআরটি লাইন ৫ এর ডিপিপি অনুমোদন হয়ে গেছে, ফলে কাজ শুরু করতে আর কোনো বাধা নেই। মেট্রোরেলের এই দুই লাইনের মধ্যে একটিতে ১৬ কিলোমিটার, অন্যটিতে সাড়ে ১৩ কিলোমিটার অংশ পাতাল রেল হবে।’

‘সব মিলিয়ে ২০৩০ সালে ছয়টি মেট্রোরেলের পৌনে ২০০ কিলোমিটারের সব কাজ যখন শেষ হবে, এর ফলে ঢাকায় যানজটমুক্ত অনিন্দ্য সুন্দর এক দৃশ্যপট আমরা দেখতে পাব। ঢাকা শহরে আজকের যান চলাচলের চিত্রই পাল্টে যাবে,’ বলে জানান সেতুমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা এমআরটির সবকটি লাইন যখন চালু হয়ে যাবে, যানজটের দৃশ্যপট বদলে যাবে।’

এমআরটি-৬ লাইনের বিদ্যুত সঞ্চালন লাইন ও রেল-ট্র্যাক বসানোর কাজের উদ্বোধন করে মন্ত্রী জানান, ‘আজকে আমি আনন্দের সঙ্গে বলছি, আমাদের এমআরটি লাইন ৬ মেট্রোরেল প্রকল্পের সাড়ে ৮ কিলোমিটার এখন দৃশ্যমান।’

২০১৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মেট্রোরেল প্রকল্পের মূল কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের কাজ শেষ করে মেট্রোরেল চলাচল শুরুর জন্য কয়েক দফা সময় নির্ধারণ করা হয়। এখন ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মেট্রোরেল চালু করা যাবে বলে আশা করছেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি ২০২১ সালে বিজয়ের মাসে ইনশাআল্লাহ এমআরটি লাইন ৬, তরুণ প্রজন্মের ড্রিম প্রজেক্ট, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রয়োরিটি প্রজেক্ট, মেগা প্রকল্প, ফার্স্ট ট্র্যাক প্রজেক্ট, মেট্রোরেলের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হবে, বিজয়ের মাসে উদ্বোধন হবে, এটাই আমাদের নববর্ষের প্রত্যাশা।’

সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সব মেগা প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়েই সম্পন্ন হবে। আগের চেয়ে বাস র্যাপিড ট্রানজিটের গতি বেড়েছে। কর্ণফুলী ট্যানেলের কাজ ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। পদ্মা সেতুর কাজ ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। সুতরাং, মেট্রোরেলও আমরা নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করতে পারব।’

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড দেশের প্রথম এই মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার এই মেট্রোরেল মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। ফলে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত সহজেই লোকজন যাতায়াত করতে পারবে।

এ সময় সেতু সচিব নজরুল ইসলাম, বিআরটিএ চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।