রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের জন্মদিন

নিউজ ডেস্ক:   তৃণমূল থেকে উঠে আসা জনমানুষের নেতা মো. আবদুল হামিদ দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র ব্যক্তি, যিনি টানা দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রপতির আসন অলংকৃত করেন। বুধবার (১ জানুয়ারি) তার ৭৭তম জন্মদিন। অর্ধশতকের অধিককাল ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা এ মানুষটি চরম দুর্দিনেও তার আদর্শ ও বিশ্বাস থেকে বিচ্যুত হননি। বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি ও জীবনদর্শনকে আত্মস্থ করে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। আপন যোগ্যতাবলে হয়ে উঠেছেন রাজনীতির এক জীবন্ত কিংবদন্তি। দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে ইতোমধ্যে তিনি সর্বমহলে জনপ্রিয়।

রাষ্ট্রপতির জন্মদিন উপলক্ষে বুধবার বঙ্গভবনসহ তার নির্বাচনী এলাকা এবং কিশোরগঞ্জ জেলা সদরে দলীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হবে। বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগেও নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, রাত ১২টা ১ মিনিটে বঙ্গভবনে বিশাল কেক কেটে রাষ্ট্রপতির জন্মদিন উদযাপন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে হাসপাতালের বিশাল ক্যাম্পাস আলোকসজ্জাসহ রংবেরংয়ের পতাকা দিয়ে সুসজ্জিত করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে রাষ্ট্রপতির জন্মদিনকে স্মরণীয় করতে ৭৭ পাউন্ডের বিশাল কেক কেটে শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। পরে রাষ্ট্রপতির জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে এক আলোচনা সভার মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটবে।

এ ছাড়া তার গ্রামের বাড়ি মিঠামইন উপজেলার কামালপুর গ্রামসহ হাওরের অন্যান্য উপজেলাতেও রাষ্ট্রপতির শুভানুধ্যায়ীরা নানা কর্মসূচি পালন করবে। কিশোরগঞ্জ শহরে রাষ্ট্রপতির আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মীরাও এ দিনকে ঘটা করে উদযাপনের জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করেন। ঈশা খাঁ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, কিশোরগঞ্জ ছড়াকার সংসদ, সমকাল সুহৃদ সমাবেশ ও বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির জন্মদিন উপলক্ষে অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়।

মো. আবদুল হামিদ ১৯৪৪ সালের ১ জানুয়ারি মিঠামইন উপজেলার কামালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা হাজি মো. তায়ের উদ্দিন, মা মোছা. তমিজা খাতুন।

ছোটবেলা থেকেই মো. আবদুল হামিদ সাধারণ মানুষের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতেন। মাধ্যমিক স্কুলে পড়ার সময় তিনি ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তার প্রিয় সংগঠন ছিল ছাত্রলীগ। ষাটের দশকে তৎকালীন কিশোরগঞ্জ মহকুমা শহরে ছাত্রলীগের হাল ধরেন আবদুল হামিদ। ‘৭০-এর নির্বাচনে সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী হিসেবে তিনি আওয়ামী লীগের এমএনএ নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধে একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে আবদুল হামিদের ভূমিকা ছিল সর্বজনস্বীকৃত।

কিশোরগঞ্জবাসী তাদের প্রিয় নেতাকে রাষ্ট্রপতির আসনে পেয়ে আনন্দিত ও গর্বিত। তার প্রিয় বন্ধু ও পেশাগত সহকর্মী অ্যাডভোকেট জামাল উদ্দিন খান বলেন, ‘হামিদের মতো সর্বজন গ্রহণযোগ্য ক্যারিশম্যাটিক রাজনীতিবিদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকলে রাষ্ট্র অনেক সংকট থেকে সহজে মুক্তি পেতে পারে।’ জন্মদিনে তিনি তার দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন কামনা করেন।

কিশোরগঞ্জের আলোচিত ছড়াকার, সাবেক ছাত্রনেতা ও মুক্তিযুদ্ধের গবেষক জাহাঙ্গীর আলম জাহান বলেন, তার মতো ঠান্ডা মাথার রাজনীতিক খুব বেশি পাওয়া যায় না।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন জানান, রাষ্ট্রপতির ৭৭তম জন্মদিনে বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সব পর্যায়ের কর্মচারীরা ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

মো. আবদুল হামিদ তার ৭৭তম জন্মদিনে জানান, মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি বলেই আজ আমি এই পর্যায়ে আসতে পেরেছি। জীবনের পড়ন্ত বেলায় সেইসব মানুষের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই। রাজনীতিবিদদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজনীতিতে সফল হতে হলে সততা, নিষ্ঠা ও নির্মোহ চিত্তে মানুষকে ভালোবাসার বিকল্প নেই। তিনি সবাইকে সেই পথ অনুসরণের আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি তার জন্মদিনে জেলাবাসীসহ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান।