অতিদরিদ্রদের চাল খোলা বাজারে বিক্রি

নিউজ ডেস্ক:   নড়াইলের কালিয়া উপজেলার মাউলী ইউনিয়নের অতিদরিদ্রদের মাঝে বিতরণের (ভিজিডি) ১২০ বস্তা চাল খোলা বাজারে বিক্রির জন্য মজুদের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার দুপুরে ইউনিয়নের মহাজন বাজারের একটি ধান ছাটাই মিলে খাদ্য অধিদপ্তরের নির্ধারিত বস্তায় এ চাল পাওয়া গেছে।

চালগুলো খাদ্য অধিদপ্তরের বস্তা উল্টিয়ে ৩০ কেজির স্থলে ২০ কেজি করে ঢুকিয়ে পুনরায় ১৮৬ বস্তা তৈরি করে রাখা হয়েছিলো। এই অবস্থায় স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে খবর দিলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

জানা গেছে, উপজেলার মাউলি ইউনিয়নের মহাজন গ্রামে অবস্থিত ওই মিল মালিকের নাম মামুন বিশ্বাস। তিনি মহাজন গ্রামের আলাউদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে। খাদ্য অধিদপ্তরের চাল খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে মিল মালিক মামুন বিশ্বাস বলেন, ‘চাল ব্যবসায়ী শংকর আমাকে ৩০কেজির বস্তার এই চালগুলো খুলে ২০ কেজি করে বস্তায় ঢুকিয়ে সেলাই করতে বলেছে। আমি টাকার বিনিময়ে লেবার দিয়ে তা করে দিচ্ছি। তিনিই আমাকে বস্তা উল্টিয়ে সেলাই করতে বলেছেন।’

অন্যদিকে নিজেকে চাল ব্যবসায়ী হিসেবে দাবি করে শংকর বলেন, ‘আমি খাদ্য অধিদপ্তরের চালের বস্তা লোক মারফত ক্রয় করেছি। আমার গোডাউনে থাকা কিছু পোকায় খাওয়া চাল পুনরায় রি-ফ্রেশ করে বস্তা ভর্তি করছি বিক্রির জন্য।’

এদিকে মাউলী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান কয়েকদিন আগে বড়দিয়া খাদ্যগুদাম থেকে ডিও মারফত এই চাল উত্তোলন করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ ব্যাপারে মাউলী ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যানকে মোবাইলে পাওয়া না গেলেও ইউপি সচীব মশিয়ার রহমান বলেন, ‘আমাদের পরিষদে ভিজিডি চাল রয়েছে। কিছু বিতরণ করা হয়েছে, বাকি কিছু চাল দু-একদিনের মধ্যেই বিতরণ করা হবে। যারা চাল পেয়েছে তারা হয়তো খোলা বাজারে বিক্রি করে দিতে পারে।’

এ বিষয়ে কালিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজমুল হুদা বলেন, ‘ঘটনা শুনে উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিলো। তিনি ওই চাল ছাটাই মিলে গিয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের বস্তায় রাখা চাল দেখেছেন। তিনি জানিয়েছেন বস্তায় রাখা চাল চিকন। যা সরকারি চাল নাও হতে পারে।’