মানুষ অন্ধ নন, তারা সবকিছু দেখছেন: ড. কামাল

নিউজ ডেস্ক:   জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার দেশের সমস্ত অর্জন ধ্বংস করেছে, সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে কিছু নেই, মানুষের কণ্ঠরোধ করে পরিস্থিতি এমন করা হয়েছে যে মানুষ খারাপটাকেও আর খারাপ বলতে ভয় পাচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলেই তার ওপর গুন্ডাবাহিনী লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। তারা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলকে ভয়ংকর অপশাসন উল্লেখ করে এ বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। নেতারা বলেছেন, ঐক্য হবে রাজপথে, টেবিলে নয়।

শনিবার ঐক্যফ্রন্টের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে তারা এ ঘোষণা দেন। জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রধান কাদের সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, বিকল্পধারা নেতা নুরুল আমীন বেপারী, জেএসডি নেতা তানিয়া রব এবং সিরাজ মিয়া।

ড. কামাল বলেন, বর্তমান দেশে যে শাসন ব্যবস্থা চলছে সেটা সংবিধানসম্মত নয়। কারণ ক্ষমতার মালিক জনগণ। কিন্তু জনগণের নির্বাচিত সরকার এখন ক্ষমতায় আছে কিনা, একাদশ নির্বাচন কীভাবে হয়েছে সেটা সবাই জানেন। তিনি বলেন, এই সরকার নির্বাচন নির্বাচন করে যেন মজা পেয়ে গেছে।। কিন্তু তাদের মনে রাখা উচিত মানুষ অন্ধ নন, তারা সবকিছু দেখছেন।

তিনি বলেন, অবৈধ নির্বাচন নিয়ে মিথ্যা প্রচার করে দুনিয়াতে কেউ পার পায়নি। এদেশেও যারা অবৈধ নির্বাচন দিয়ে নিজেদের সরকার ঘোষণা করেছে তারাও পার পাবেন না। কালো টাকা দিয়ে মাথা কিনে নিয়ে যারা অবৈধ ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার স্বপ্ন দেখছেন তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। তিনি আরও বলেন, সরকারকে বলব সোজা কথা- আপনারা নির্বাচন দেন। প্রথমে সৎ ও স্বচ্ছ নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা করুন, তারপর নির্বাচন দিন।

মির্জা ফখরুল বলেন, একটা পুতুল সরকার ক্রমেই দেশকে পরাধীন করার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্নভাবে আমাদের দেশকে, আমাদের দেশের মানুষকে পরাজিত করা হচ্ছে। এমনকি আওয়ামী লীগের যে লড়াই ছিল, গৌরবময় সংগ্রাম ছিল তাও ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। দেশের সমস্ত অর্জন ধ্বংস করে সব স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার করে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি ভারতের এনআরসির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, আজকে পাশের দেশে যাই কিছু ঘটুক না কেন সেগুলো তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। তা নিয়ে আমরা কথা বলতে চাই না। কিন্তু ওইখানে যদি এমন আইন পাস হয় যা আমাকে আক্রান্ত করে, সমস্যায় ফেলে দেয়, তাহলে তো তা নিয়ে কথা বলার অধিকার অবশ্যই আমাদের আছে।অলরেডি আসামে ১৯ লাখকে অবৈধ বলেছে, আজকে সেটা নিয়ে খোদ ভারতে বিদ্রোহ শুরু হয়েছে, বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বিক্ষুব্ধ জনতা বলছে, তারা এই ধরনের ভারত দেখতে চায় না, যেখানে ধর্মে ধর্মে বিভেদ সৃষ্টি হবে, সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি হবে। অথচ দুর্ভাগ্য হচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার এ বিষয়কে কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না। 

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট হয়নি। সাড়ে তিনশ’ সদস্যের এ সংসদ অবৈধ সংসদ। এতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৮ জনকেও নির্বাচিত দেখানো হয়েছে। তারা কিন্তু সংসদেও গেছেন। যদি সংসদ অবৈধ হয়, এই ৮ জনও অবৈধ।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দেশের ইতিহাসে ২৯ ডিসেম্বরের রাত একটি কালো রাত। ২০১৮ সালের এই রাতে বাংলাদেশের ১০ কোটি ভোটারের ভোট রাষ্ট্রীয় শক্তিকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ লুট করে নিয়ে গেছে। এর বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিবাদ, প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারার কারণে দেশে দুঃশাসন চেপে বসেছে। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন মানি না, মানব না।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, অনুমতি নিয়ে আন্দোলন হয় না। ইতিহাসে কখনই হয়নি। সত্যিকারের আন্দোলন গড়ে তুলতে হলে অনুমতির ওপর নির্ভরতা বাদ দিয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদে রাজপথে দাঁড়াতে হবে। সবাই একসঙ্গে মাঠে নামলে তার সামনে সরকার টিকতে পারবে না।

সভাপতির বক্তব্যে জেএসডি সভাপতি আসম আবদুর রব বলেন, সরকারের সংকীর্ণ দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং ধ্বংসাত্মক পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। ডাকসু ভিপি নুরের ওপর ছাত্রলীগকে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে তারা দেশে সব ধরনের প্রতিবাদী কণ্ঠ রোধ করতে চেয়েছে। ডাকসুকে নজিরবিহীনভাবে কলঙ্কিত করেছে ছাত্রলীগ।