গানে-কথায় মুক্তিযুদ্ধকে স্মরণ: সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন

নিউজ ডেস্ক:  মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে “গানে-কথায় মুক্তিযুদ্ধ” সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন ও আনন্দন আয়োজনে সাংস্কৃতিক জাগরণ এবং সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার আহবান ।

মাননীয় হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী জামাত-শিবিরসহ উগ্রবাদী রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। দেশে আইনের শাসন ও আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগে ক্রটি জনিত বিষয়ে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। স্বাধীনতার মূলচেতনা থেকে সরে আসলে জাতীয় আত্মহত্যার সামিল হবে। দেশে ইতোমধ্যে সামরিক শাসনের যাতাকলে পড়ে আমরা আমাদের মহান জাতীয় চেতনা

অসাম্প্রদায়িকতা সম্প্রীতি ও শোষন এবং বৈষম্য মূলক বাংলাদেশ গড়ার কাজ থেকে পিছিয়ে পড়েছি। একথা অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই সমাজের সর্বস্তরে রাজনীতির নামে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও মাফিয়াচক্র নিয়ামক শক্তিতে পরিণত হতে বসেছে। ধনী গরীবের আকাশ সম ব্যবধান দেশে সামাজিক সংকট ঘনীভত করছে। স্বাধীনতার অধশতাব্দির মুখো-মুখি দাঁড়িয়ে আমাদের এখন সর্বস্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠার কাজকে অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। তবেই ৩০ লক্ষ শহীদানের আত্মত্যাগ স্বার্থক হবে। আজ বেলা ৩টায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন ও আনন্দনের আয়োজনে ‘গানে কথায় মুক্তিযুদ্ধ’ শীর্ষক আলোচনা ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গানের অনুষ্ঠানে বক্তারা উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি জিয়াউদ্দিন তারেক আলীর সভাপত্বিতে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন- সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য পঙ্কজ ভট্টাচার্য, জয়ন্তী রায়, সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রর শব্দসৈনিক লায়লা হাসান,সম্পাদকমলীর সদস্য জহিরুল ইসলাম জহির, আনন্দনের পক্ষে একে আজাদ প্রমুখ। ঘোষণাপত্র পাঠ করেন- ড. সেলুবাসিত।

সভায় পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, গণতান্ত্রিক শক্তির দুর্বলতার কারনে জাতীয় রাজনীতিতে ধর্মান্ধ শক্তি মাথাচাড়া দিতে চায়। এরা সাম্প্রদায়িকতার বাতাবরনে আধা-পাকিস্তানের পথে দেশকে ঠেলে দিতে চায়। আমাদের ক্ষমতাসীনদের ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির শক্তি সমূহকে বুঝে নিতে হবে। ঘাতক পরাজিত শক্তিধর সাম্প্রদায়িকতাবাদীদের রুখতে হলে আন্তরিক ইচ্ছায় বৈষম্য ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অগ্রসর হতে হবে। মুক্তিযুুদ্ধের সঠিক ইতিহাস চর্চা ও লালন করতে হবে। কৃষক, শ্রমিক, নারী-শিশু, আদিবাসী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা বিধান করতে হবে।

স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক লায়লা হাসান বলেন, অর্থনীতির মাপকাঠিতে এগিয়ে যাওয়া মানেই গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রানয় এ কথা আমাদের মনে রাখতে হবে। আমাদের স্বাধীনতার মূল চেতনা সম্প্রীতি ও বৈষম্য মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠাকরা একই সাথে দুর্নীতি, স্বজন প্রীতি মুক্ত সমাজ গড়তে পারলেই আমরা স্বাধীনতার চেতনায় ফিরিয়ে আসতে সক্ষম হবে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান পরিবেশন করেনআনন্দনের শিল্পীবৃন্দ।

সমাবেশের ঘোষণায় বলা হয়, মাতৃভাষাকে রাষ্ট্র ভাষারূপে প্রতিষ্ঠা এবং সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের সংগ্রাম শুরু হয়েছিল ১৯৪৭-এ দেশভাগের পর থেকেই।মূলত সাংস্কৃতিক জাগরণ এবং সর্বোপরি বাঙালি সংস্কৃতির আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির উন্মেষ ও বিকাশ ঘটেছে। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামতথা মুক্তিযুদ্ধকালে রাজনীতি-সংস্কৃতি একই বৃন্তেছিল, ছিল বিজয়ের রণকৌশল এবং অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ নির্মাণের স্বপ্ন।

বাংঙালির মূলধারার অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি, সহনশীলতার সংস্কৃতি, বৈষ্যম্যের বিরুদ্ধে সাম্যের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার সাংস্কৃতিক সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। সেজন্য রাষ্ট্রীয় ভাবে যেমন কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে তেমনি সাংস্কৃতিক কর্মী এবং গণসংগঠন গুলোকে উদ্যোগী হতে হবে।

আমরা মনে করি-
১. বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক গণসংগঠনের উদ্যোগে সংস্কৃতি চর্চার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে;
২. জেলা উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি এবং শিশু একাডেমি গুলোকে কার্যকর কর্মসূচি এবং কর্মপরিকল্পনা ব্যাপক ভাবে প্রনয়ণ করতে হবো
৩. দেশের মূলধারার লোক সংস্কৃতি-ইতিহাস কেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক কর্মসূচি গ্রহক করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের ঐতিহ্য তুলে ধরতে হবে পরিশেষে, সত্যেন সেনের বাণী দিয়ে বলি,“মানুষের কাছে পেয়েছি যে বাণী তাই দিয়ে রচি গান, মানুষের লাগি ঢেলে দিয়ে যাব মানুষের পরান।”