আগামীকাল রাওয়ায় শুরু হচ্ছে ডুপ্লিকেট বীজ চ্যাম্পিয়নশীপ-২০১৯

নিউজ ডেস্ক:  সারা দেশে ব্রীজ খেলা প্রসারের লক্ষ্যে আগামী ২৫শে ডিসেম্বর -২০১৯ থেকে ২৭শে ডিসেম্বর ২০১৯ই পর্যন্ত তিন দিন ব্যাপি রিটার্ড আর্ম ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন (রাওয়া) মহাখালীতে শুরু হচ্ছে মেজর জেনারেল কাজী গোলাপ দস্তগীর মেমোরিয়াল ডুপ্লিকেট বীজ চ্যাম্পিয়নশীপ-২০১৯। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টুর্নামেন্টের আহবায়ক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আজিজুল হক (অবঃ), বাংলাদেশ ব্রীজ ফেডারেশনের সেক্রেটারী জেনারেল এম এ কুদ্দুস, জনাব দস্তগীরের পুত্র কাজী রুম্মান দস্তগীর এবং রাওয়া ক্লাবের জিএম লেঃ কর্ণেল এ কে এম আনজামুল হক।

অনুষ্ঠানে ব্রীজ খেলা সম্পর্কে সূচনা বক্তব্যে আহবায়ক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আজিজ বলেন, ব্রীজ একধরনের সৃষ্টিশীল বুদ্ধিভিত্তিক খেলা যাকে মাইন্ড  গেইমস হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় এবং  ব্রীজ খেলার মাধ্যমে খেলোয়ারদের নিজেদের মধ্যে এসোসিয়েশন তৈরী হয়, একটি বুদ্ধিচর্চা হয়, ভালো পরিবেশে সময় কাটানা যায়। তাস ব্যবহার করে এ খেলা হলেও এটি দিয়ে জুয়া খেলা হয়না । 

তিনি আরো বলেন, মেজর জেনারেল সাহেব একজন ক্লীন ইমেজের মানুষ ছিলেন। খেলা শুধু তারাই খেলতে পারে যারা ভদ্র মানুষ এবং এই খেলাটি ভদ্র মানুষদের জন্য বাংলাদেশে খেলা সম্প্রসারণে তার ভূমিকা ছিল পাইওনিয়ার হিসেবে। তিনি এই খেলাটি খুবই পছন্দ করতেন। বুদ্ধিভিত্তিক চর্চাকে প্রাধান্য দিতেন। কিন্তু জেনারেল দস্তগীর বুদ্ধিভিত্তিক চর্চায় সময় ব্যয় করে সমাজের কল্যানের বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। 

জেনারেল আজিজ আরো বলেন, আজকের এই ব্রীজ খেলার উন্নয়নে জেনারেল দস্তগীরের ভূমিকা খুবই চোখে পড়ার মতো। তার স্মরণে আমরা এই টুর্নামেন্টের নাম দিয়েছি দস্তগীর মেমোরিয়াল ডুপ্লিকেট ব্রীজ চ্যাম্পিয়নশীপ-২০১৯।

বাংলাদেশ ব্রীজ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এম এ কুদ্দুস বলেন, ১০৩ টা দেশ বিশ্বকাপে ব্রীজ গেমস খেলে থাকে । বাংলাদেশ শুধুমাত্র ক্রিকেট এবং ব্রীজ খেলায় বিশ্বকাপ আসরে অংশগ্রহন করেছে । ব্রীজ খেলায় ২০১৭ এবং ২০১৯ সালে বিশ্বকাপ আসরে অংশগ্রহন করে । ক্রিকেট ও অন্যান্য খেলার মতো সরকারী ও ব্যক্তিগত অনুদান ও পৃষ্ঠপেষকতা পেলে ব্রীজ খেলার মতো বিশ্বকাপ জয় করা সম্ভব। আমেরিকা, ইউরোপ, চীন ও ভারত এই খেলা খুবই জনপ্রিয় ও আগ্রগামী। বাংলাদেশের ব্রীজটিম ইতিপূর্বে ভারত ও পাকিস্তানকে এশিয়া গেমসে হারিয়েছে।

বক্তারা বলেন, মেজর জেনারেল কাজী গোলাম দস্তগীর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সৃষ্টিশীল সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন। জেনারেল দস্তগীর ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত রাওয়ার চেয়ারম্যান ছিল এবং বাংলাদেশের এই খেলার প্রসারের জন্য আমৃত্যু চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। বর্তমানে তার সুযোগ্য সন্তান কাজী রুম্মান দস্তগীর তার পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে বাংলাদেশের ব্রীজ খেলাকে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

আগামী ২৫শে ডিসেম্বর সকাল ৯.৩০ ঘটিকায় রাওয়া পুরাতন ভবনের তিনতলায় ব্রীজ চ্যাম্পিয়নশীপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং ২৭শে ডিসেম্বর রাত ৮.০০ টায় পুরুস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ব্রীজ চ্যাম্পিয়নশীপ ২০১৯ সমাপ্ত হবে।

খেলার আয়োজকরা আরো জানান দেশের স্বনাম ধন্য ও নবাগত ব্রীজ খেলোয়াররা পেতে অংশগ্রহন করবে এবং তাদের থাকা, খাওয়া, যাওয়া-আসা, ভাড়া প্রদান করা হবে। এমনকি তাদের কোন এন্টি ফি প্রয়োজন হবেনা ।