বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহাবউদ্দীন খানের নাম মুক্তিযোদ্ধা গেজেটে নেই

নিউজ ডেস্ক: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এবং বাকশালের সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দীন আহমেদ’র বাল্যবন্ধু বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহাবউদ্দীন খানের নাম এখনও মুক্তিযোদ্ধা গেজেটে প্রকাশ করা হয়নি।

উল্লেখ্য যে, জনাব সাহাবউদ্দীন খান, বঙ্গবন্ধু ও মহিউদ্দীন আহমেদ একই সাথে ফুটবল খেলতেন, একই সাথে বড় হয়েছেন এবং একই সাথে জীবনের দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেছেন।

দক্ষিণ অঞ্চলে এই তিন জন ও মানিক মিয়া সাহেব খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলেন। জনাব খান ১৯৭১ সালে তৎকালীন ভান্ডারিয়া-কাঠালিয়ার মুক্তিযোদ্ধাদেরকে এবং হিন্দুদেরকে রক্ষার জন্য পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে হুমকি দিয়েছিল এবং কাঠালিয়া সদরে ব্যাপক মাত্রায় রাজাকার থাকা সত্তেও কোন হিন্দুকে হত্যা করতে পারেনি এবং তাদের কোন ঘরকে আগুন দিয়ে জালিয়ে দিতে পারেনি। জনাব সাহাব উদ্দীন খান নিজে গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছেন, মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করেছেন তার দুই ছেলেকে মুক্তিযুদ্ধে পাঠিয়ে ও নিজে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে থেকে বাংলাদেশ স্বাধীনে এক অবিস্মরনীয় ভূমিকা পালন করেছেন যা চিরকাল স্বর্নাক্ষরে লিপিবদ্ধ থাকবে। জনাব খানের দুই ছেলে নিয়মিত মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাচ্ছেন কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে আজও তার নাম মুক্তিযোদ্ধা গেজেটে স্থান পায়নি।

১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেই প্রথমেই তার সকল বন্ধুবান্ধবের খোঁজ খবর নিয়েছিলেন। কে কি অবস্থায় আছেন তা জানার জন্য এবং সকল বন্ধুদেরকে ডাকযোগে মানি ওর্ডার করে নগদ টাকা পাঠিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু তার বন্ধু সাহাব উদ্দীন খান’কে ১৯৭২ সালে ৬০,০০০/- (ষাট হাজার টাকা) পাঠিয়েছিলেন যা পরবর্তীতে জনাব খান উক্ত ৬০,০০০/- (ষাট হাজার টাকা) বাংলাদেশের উন্নয়নের কাজে ব্যবহারের জন্য বঙ্গবন্ধুকে উক্ত টাকা ফেরত প্রদান করেছিলেন যা আরেকটি দেশ প্রেমের অতুলনীয় নজির স্থাপন করেন কিন্তু কি কারণ কি জন্য সরকার এখনও বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহাব উদ্দীন খানের নাম মুক্তিযোদ্ধা গেজেটে লিপিবদ্ধ করেনি তা বোধগম্য নয়। জনাব সাহাব উদ্দীন খানের কনিষ্ঠ পুত্র সাবেক সিনিয়র এ্যাডভাইজার “দি ডেইলী বাংলাদেশ পোষ্ট” এর জুসফিকুর রহমান বলেন, মুক্তিযোদ্ধা গেজেটে আমার বাবার নাম এখনও লিপিবদ্ধ করেনি যা খুবই দুঃখজনক। 

আমার প্রত্যাশা অতি দ্রুত আমার বাবার নাম মুক্তিযোদ্ধা গেজেটে লিপিবদ্ধ হোক না হলে দেশ ও জাতি আমাদেরকে কখনই ক্ষমা করবে না।