দেশ ইসলামিক রিপাবলিক, শেখ হাসিনা পিপলস রিপাবলিক করবেন

সুমন দত্ত: সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রেখে বাংলাদেশকে পিপলস রিপাবলিক বলা যায় না। এটি ইসলামিক রিপাবলিক। শেখ হাসিনা পিপলস রিপাবলিক করার চেষ্টা করছেন। রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সম্প্রীতি বাংলাদেশ আয়োজিত সম্প্রীতি, বঙ্গবন্ধু ও বাঙালী বিজয় শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন বিশিষ্ট কলামিস্ট ও একুশে ফেব্রুয়ারি গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরি। এদিন তার সঙ্গে উপস্থিতি ছিলেন সম্প্রীতি বাংলাদেশের সভাপতি পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়, সংগঠনের সদস্য সচিব ডা. মাহতাব আল মামুন (স্বপ্নিল), প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শফিকুর রহমান, সুপ্রিমকোর্টের আপীল বিভাগের সাবেক বিচারপতি সামসুদ্দিন চৌধুরি মানিক, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান প্রমুখ।

গাফফার চৌধুরি বলেন, দেশে আজ বিতর্কিত লোক আওয়ামী লীগে ঢুকে গেছে। রাজাকারের তালিকার আগে এসব লোকের তালিকা প্রয়োজন। আজ শেখ হাসিনার চারপাশে রাজাকার ও বিতর্কিত লোকজনের আনাগোনা। এদের নাম পরিচয় বললে আমার ঢাকা আসা বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি করতেন। এক সময় এদেশে হিন্দু মুসলমান আলাদা ভোট হতো। বঙ্গবন্ধু তার রাজনৈতিক গুরু হোসেন শহীদ সোরওয়ার্দীকে বললেন আপনি যদি হিন্দু-মুসলমান একত্রে ভোটের ব্যবস্থা না করেন তবে আপনার পার্টিতে আমরা নেই। শেখ হাসিনা রাজাকারদের ফাঁসিতে ঝুলিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু হলে পারতেন না। কারণ তিনি কোমল হৃদয়ের ছিলেন। তিনি মাফ করে দিতেন। খন্দকার মোস্তাকের অনেক ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তকে তিনি মাফ করে দিয়েছিলেন। তার পরিণাম তাকে ভোগ করতে হয়েছে। বর্তমান আওয়ামী লীগ কর্পোরেট কোম্পানি গুলোর স্বার্থ দেখে। গ্লোবাল পুঁজিবাদের খারাপ দিক গুলো বর্তমান শাসক দলের মধ্যে এসে গেছে। জুয়া, দুর্নীতি এসব তার লক্ষণ। আওয়ামী লীগের একমাত্র নেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি যদি সরে যান বা তাকে যদি সরিয়ে দেয়া হয় তবে আওয়ামী লীগ তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে যাবে। দেশে কামাল হোসেন ইউনাইটেড ফ্রন্ট করে গণতন্ত্র আনতে পারেননি। তিনি বিদেশে যাবার ভিসা নিয়ে থাকেন। যখন দেশে সংকট দেখা যায় তখন তাকে পাওয়া যায় না। আরেকজন আছে সেনা প্রিয় (দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য)। তিনিও সংকটের সময় থাকেন না। আমি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নাটক করতে চেয়েছিলাম। অনেকের সাহায্য চেয়েছিলাম। কেউ করেনি। পরে আসাদুজ্জামান নূরকে জানিয়েছিলাম। তিনিও আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তবে সাহায্য করেছেন পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়। একজন সংখ্যালঘু হিন্দু হয়েও বিএনপি আমলে তিনি সাহস করে তা করে দেখাতে পেরেছেন। পরে এই আসাদুজ্জামান নূর সংস্কৃতি মন্ত্রী হয়েছিলেন। বর্তমান বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম আছে। যা ইসলামিক রিপাবলিকের সংবিধানে থাকে। তাই এই সংবিধানকে পিপলস রিপাবলিক বলা যায় না। শেখ হাসিনা এই দেশকে পিপলস রিপাবলিক করার চেষ্টা করছেন। তারেক জিয়া সম্পর্কে বলেন, তিনি কত কোটি টাকার মালিক তা কেউ বলতে পারে না। বউ নিয়ে লন্ডনের হ্যারডসে মার্কেটিং করেন। সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। আমাকে দেখে খোঁড়াতে থাকে। এরা সেখানে বসে দেশের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করছে।

শফিকুর রহমান বলেন, শনিবার প্রেসক্লাবে এক আলবদরকে মুক্তিযুদ্ধের উত্তরীয় পরিয়ে দেয়া হচ্ছে। আমাদেরই কিছু লোক এ কাজ করছে। আমি এর প্রতিবাদকারী। তাদের দেয়া উত্তরীয় পরিনি। আজ প্রেসক্লাবে ৭১ নিহত সাংবাদিকদের তালিকা ও বঙ্গবন্ধু মূর্তি সবার সামনে নিয়ে আসি। এ দুটো জিনিস এমনভাবে ছিল য়া আগে কেউ দেখতে পারতো না। আমি এর স্থান পরিবর্তন করি।

সামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, কসাই কাদের মোল্লার সমর্থক তাকে শহীদ বলে। অথচ এই কাদের মোল্লার বিচারক ছিলাম আমি। কবি মেহেরুননেসাকে তিনি কত নৃশংসভাবে হত্যা করেছেন তার সাক্ষ্য দিয়েছেন আরেক কবি কাজী রোজি। এই কাদের মোল্লা বহু লোক হত্যা করেছেন। তাকে শহীদ যারা বলে তাদের বিচার করতে হবে।

ড.মুরাদ হাসান বলেন, যে কুলাঙ্গারের জন্মের ঠিক নাই, ৭১ এর হত্যাকারী, ধর্ষক নির্যাতনকারী। তার সম্পর্কে আমি কিছু বলতে চাই না। এদের কথা আমি মুখে আনতে চাই না। শুধু বলতে চাই যারা একে শহীদ বলেছে তাদের বিষয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় পদক্ষেপ নেবে।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম