সরকার ও দল পৃথক নেতা দিয়ে চালানোর পরিকল্পনা

নিউজ ডেস্ক:  আওয়ামী লীগের সম্মেলন মানেই নতুন চমক। আগামী ২০-২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনে নেতৃত্ব নির্বাচনেও চমক থাকছে। জানা গেছে, সরকার ও দলীয় কার্যক্রম পৃথক নেতা দিয়ে চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় নির্বাচনে বিশাল বিজয়কে সুসংহত, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা এবং সরকার ও দলের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে এ পরিকল্পনা করা হয়েছে। মন্ত্রিসভা ও দলের পদ, দুই জায়গাতেই আছেন এমন কাউকে কাউকে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা যে কোনো এক জায়গায় রাখার মনোভাব ইতিমধ্যে ব্যক্ত করেছেন।

এদিকে সম্মেলনে প্রাধান্য পাবে নারী নেতৃত্ব। ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্বের বিষয়ে আগ্রহ রয়েছে হাইকমান্ডের। এরই মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের অনেক নারী নেত্রীর মাঠে রাজনৈতিক অর্জন, নেতাকর্মীদের কাছে জনপ্রিয়তা, স্বচ্ছ

নিষ্ক্রিয়, বিতর্কিত নেতাদের বাদ দিয়ে তরুণ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতারা স্থান পাবেন নতুন কমিটিতে। আর জেলাপর্যায় থেকেও কাউকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান দেওয়া হতে পারে। অনেক দিন ধরে আলোচনায় নেই এবং দলের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে অতীতে বাদ পড়েছেন—এমন কেউ কেউ প্রেসিডিয়াম বা সম্পাদকমন্ডলীতে স্থান পেতে পারেন।

প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুসারে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিটি পর্যায়ে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব ২০২০ সালের মধ্যে নিশ্চিত করার কথা রয়েছে। আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটিতে ১৫ জন নারী নেত্রী রয়েছেন। দলের গঠনতন্ত্র অনুসারে ৮১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমান কমিটির সদস্যসংখ্যা ৭৭। এ হিসাবে বর্তমান কমিটিতে নারী নেতৃত্বের হার ১৯ শতাংশ। প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেমলন হয় ২০১৬ সালে ২২-২৩ অক্টোবর।

২১ ডিসেম্বর নতুন শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচন

সম্মেলনকে সামনে রেখে উত্সাহ-উদ্দীপনা বেড়েছে নেতাকর্মীদের মধ্যে। যদিও দলটির সিনিয়র নেতারা বলেছেন, ২০২০ সালকে মুজিববর্ষ হিসেবে পালন করা হবে। তাই এবারের জাতীয় সম্মেলন পালন করা হবে সাদামাটাভাবে। আগামী ২০ ডিসেম্বর সকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। ত্রিবার্ষিক এ সম্মেলনে সারা দেশ থেকে কাউন্সিলর, ডেলিগেটসহ প্রায় ৫০ হাজার নেতাকর্মী অংশ নিতে পারেন। ২১ ডিসেম্বর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে দলের কাউন্সিল অধিবেশন। এ অধিবেশনে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন হবে। দলের সভাপতি পদে গত ৩৮ বছরের মতো এবারও অপ্রতিদ্বন্দ্বী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। তাকে ছাড়া অন্য কাউকে সভাপতি মানবেন না বলেও ইতিমধ্যে দলের জাতীয় কমিটি ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি সদস্যরা জানিয়ে দিয়েছেন।