চূড়ান্ত হিসাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮.১৫%

নিউজ ডেস্ক:   চূড়ান্ত হিসাবে গত অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধি সাময়িক হিসাবের চেয়ে বেশি হয়েছে।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) চূড়ান্ত হিসাবে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। সাময়িক হিসেবে যা ছিল ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ।

সাধারণত অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে আট থেকে নয় মাসের তথ্যের ভিত্তিতে জিডিপির সাময়িক হিসাব করা হয়। জুনে অর্থবছর শেষ হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে চূড়ান্ত হিসাব করা হয়। এটিই প্রকৃত হিসাব।

২০১৭-১৮ অর্থবছরেও সাময়িক হিসাবের চেয়ে চূড়ান্ত হিসাবে প্রবৃদ্ধি বেশি ছিল। ওই অর্থবছরে সাময়িক হিসাবে ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়। অর্থবছর শেষে চূড়ান্ত হিসাবে প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেকের সভায় মঙ্গলবার জিডিপির চূড়ান্ত হিসাব উপস্থাপন করা হয়। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী এবং একনেকের চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।

বৈঠকে জিডিপির পাশাপাশি গত অর্থবছরেরর মাথাপিছু আয়ের চূড়ান্ত হিসাবও উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, মাথাপিছু আয় এক হাজার ৯০৯ ডলার অপরিবর্তিত রয়েছে। এর আগের অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল এক হাজার ৭৫১ কোটি ডলার।

একনেকের বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ডলারের বিপরীতে টাকার মান কিছুটা দুর্বল হওয়ায় ডলারের হিসাবে মাথাপিছু আয়ে সাময়িক হিসাবের তুলনায় পরিবর্তন হয়নি। তবে টাকার অঙ্কে মাথাপিছু আয় বেড়েছে। টাকার অঙ্কে বাংলাদেশের মাথাপিছু গড় আয় বছরে এক লাখ ৬০ হাজার ৪৬০ টাকা।

বিনিয়োগ, রপ্তানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধীরগতির মধ্যে এত উচ্চহারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে যে অবস্থা তাতে ৮ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধির হিসাব ঠিক মিলানো যায় না। গত অর্থবছরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি, প্রবাসী আয়, ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ, খেলাপি ঋণ ও মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির যে তথ্য, তাতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৫ শতাংশের হিসাবটা মিলছে না।

সম্প্রতি বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডি দেশের প্রবৃদ্ধিকে ‘সুতা কাটা ঘুড়ি’র সঙ্গে তুলনা করেছে। এর কারণ ব্যাখ্যায় সংস্থার সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, কাটা সুতার সঙ্গে যেমন ঘুড়ির সম্পর্ক থাকে না, তেমনি অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থার সঙ্গে জিডিপি প্রবৃদ্ধির সম্পর্ক পাওয়া যায় না।

বিবিএসের চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী স্থির মূল্যে গত অর্থবছরে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ। সাময়িক হিসাবে যা ছিল ৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। শিল্প খাতে সাময়িক হিসাবের তুলনায় প্রবৃদ্ধি কম হয়েছে। চূড়ান্ত হিসাবে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৬৭ শতাংশ, যা সাময়িক হিসাবে ছিল ১৩ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। সেবা খাতে চূড়ান্ত হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ। সাময়িক হিসাবে ছিল ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ।